বাঘারপাড়ায় ইটভাটার আগুনে পুড়ে গেছে ২০০ বিঘা জমির আমন ধান

0

বাঘারপাড়া (যশোর) সংবাদদাতা॥ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা গ্রামে ইটভাটার আগুনে প্রায় ২শ বিঘা জমির আমন ধান পুড়ে গেছে। এ মাঠের বেশিরভাগ অংশের পোড়া ধান গাছে একেবারেই ফলন হবে না বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। সোমবার সকালে ক্ষুব্ধ কৃষকরা জড়ো হয়ে ইটভাটা ঘেরাও করেন। এ ছাড়াও ইটভাটা মালিকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে গতকাল সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দফতর ও কৃষি অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকার ১৫০ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দোহাকুলা গ্রামে মনপিরিত মাঠে ফসলী জমিতে কড়ইতলা গ্রামের শাহীন হোসেনের ‘ফাইভ স্টার ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটা আছে। ইট পোড়ানোর শেষ পর্যায়ে এসে দ্রুত ইটের পাজা ঠান্ডা করতে ভাটার মালিক রোববার রাতে চুলার মুখ খুলে দেন। এতে রাতে ভাটার আগুন ৩০ থেকে ৪০ হাত উপরে উঠে যায়। এ সময় ভাটার উত্তর ও উত্তরপশ্চিম পাশের কমপক্ষে ২শ বিঘা জমির আমন ধানের পাতাসহ গাছ পুড়ে যায়। এ মাঠে কৃষক আমিনুল ইসলামের ২ বিঘা, সোয়েলের ১ বিঘা, ইকবালের ৬ বিঘা, বাদশার ২ বিঘাসহ কমপক্ষে ১৫০ কৃষকের আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে। মাঠের বেশির ভাগ জমিতে গুটিস্বর্ণা ও হাবু ধানের চাষ করেছেন কৃষকরা।
দোহকুলা গ্রামের পূর্বপাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান,প্রতিদিনের মতো সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি মনপিরিত মাঠে ফসল দেখতে যাই। এ মাঠে আমার ২বিঘা জমি আছে। সেখানে কিছু অংশে হাবু ও কিছু অংশে গুটিস্বর্ণা চাষ করেছিলাম। এদিন সকালে এসে দেখি আমার সব ধান পুড়ে গেছে। ধার -দেনা করে এ দুই বিঘা জমিতে চাষ করেছিলাম। ফসলের শেষ সময়ে এসে শাহিনের ভাটার আগুনে আমার সব শেষ হয়ে গেলো। তিনি আরও জানান, দ্রুত ইট বিক্রি করতে ভাটার মালিক আগে আগেই ইটের পাজার মুখ খুলে দেন। খোলা মুখ দিয়ে দাউ দাউ করে আগুন বের হতে থাকে। এর তাপ যতদূর গেছে সবই পুড়ে গেছে। এ ভরা মৌসুমে এ ক্ষতি মেনে নেয়া যায়না। আমি এর ক্ষতিপূরণ চাই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সায়েদা নাসরিন জাহান অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, আমি সরেজমিনে পোড়া মাঠ পরিদর্শন করেছি। অনেক জমির আমন ধানের গোড়াও পুড়ে সিদ্ধ হয়ে গেছে। এগুলোতে আর ফলন পাওয়া যাবে না। হাবু ধানের যেগুলো শিষ পুড়ে গেছে সেগুলো আর রিকভার হবে না। অর্থাৎ ফলন একেবারেই হবে না। যে ধানে শীষ এখনো বের হয়নি যেসয় ধানগাছের গোড়ায় তাপ লাগেনি সেখানে কিছু ফলন পাওয়া যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে প্রণোদনার আওতায় আনা যায় কি-না তা ইউএনও মহোদয়ের সাথে আলোচনা করা হবে।
মেবাইল ফোন বন্ধ থাকায় ‘ফাইভ স্টার ব্রিকস’র মালিক শাহীন হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসনে আরা তান্নি জানান, পোড়ার খবর পাওয়া মাত্র মাঠ পরিদর্শন করেছি। আলোচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।