ইবিতে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতির ওপর হামলার অভিযোগ

0

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির সভাপতির ওপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেল তিনটার দিকে সংবাদিক সম্মেলন করেছেন কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এ টি এম এমদাদুল আলম।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের নিচে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়ের নেতৃত্বে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে। এছাড়াও আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। এমনকি আমাকে তুলে নেয়ায় জন্যে চেষ্টা করা হয়েছে। এসময় অন্যান্য কর্মকর্তারা বাধা দেন। এটা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগের কাজ হতে পারে না।
তিনি আরও জানান, ১৬ দফা দাবিতে আমরা কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। তবে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাজ আমরা চলমান রেখেছি। কর্মসূচির আওতায় দুপুরে আমি প্রশাসন ভবনের নিচে অর্থ ও হিসাব শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের কক্ষে যাই। সেখানে কর্মসূচির দেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তাকে জিজ্ঞেস করি। এ সময় তিনি আমাদের কর্মসূচির বাইরে গিয়ে প্রশাসনের নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছেন বিষয়টি জানতে পারি। ঠিক সেই সময়ে কর্মকর্তাদের আন্দোলনকে বিভক্তকারী কিছু কর্মকর্তা সেখানে আসেন। এ সময় কর্মকর্তা হান্নান, আলমগীর, জিল্লু, সেলিম, বাদল, মনিরুল ও আসাদসহ কয়েকজন কর্মকর্তাও আমার ওপর মারমুখী হয়েছেন।
এর কিছুক্ষণ পরেই ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে কয়েকজন আমার ওপর হামলা করেছে। জোরপূর্বক আমাকে কক্ষ থেকে বের করার চেষ্টা করে। কিন্তু সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য কর্মকর্তারা আমাকে রক্ষা করেছেন। অথচ সাধারণ সম্পাদকের পিতা আমার সহকর্মী। তিনি দাঁড়িয়ে থেকে তার সন্তানকে দিয়ে আমাকে হেনস্তা করিয়ে নিলেন। এসময় ছাত্রলীগ নেতা হোসাইন মজুমদার, কর্মী শাহিন আলম, বাঁধন, হাফিজসহ আরও বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
পরে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি উপস্থিত হয়ে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতিকে উদ্ধার করেন। এছাড়াও ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তবে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতির অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় বলেন, কর্মকর্তাদের চলমান আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসময় কিছু ছাত্র সমিতির সভাপতির কাছে জবাবদিহিতার জন্যে যায়। এবং এক ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তখন আমি তাদের বিরত রাখার জন্যে যাই।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আমি বিশৃঙ্খলা দেখেছি। পরে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধান করেছি।