যশোরে জসিম হত্যার অন্যতম অভিযুক্ত ইব্রাহিম আটক

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের বকচরের জসিম উদ্দিন হত্যার সাথে জড়িত অভিযোগে ইব্রাহিম খলিল (৩০) নামে এক সন্ত্রাসীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে যশোর টাউন হল মাঠ থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, জসিম উদ্দিন হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ইব্রাহিম খলিল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই শরীফ আলমামুন জানান, আটক ইব্রাহিম খলিল শহরের পূর্ব বারান্দী মোল্লাপাড়ার রফিকুল ইসলাম ওরফে মিঠু সরদারের ছেলে। গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর টাউন হল মাঠে অভিযান চালিয়ে ইব্রাহিম খলিলকে তিনি আটক করেন। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইব্রাহিম খলিল পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে, পূর্ব বারান্দী মোল্লাপাড়ার হাবিবুর রহমানের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন সম্পর্কে তার খালা। মণিরামপুর উপজেলার হাকোবা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে জসিম উদ্দিনের সাথে তার খালার পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো। খালার একটি মেয়ে রয়েছে। মেয়েটি বড় হয়েছে। এই কারণ ছাড়াও স্বামীর সংসার নির্বিঘেœ করার জন্য জসিম উদ্দিনের সাথে আর সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছিলেন না আনোয়ারা খাতুন। কিন্তু সম্পর্ক ছিন্ন করতে রাজী ছিলেন না জসিম উদ্দিন। এ কারণে জসিম উদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আনোয়ারা খাতুন। এ জন্য হত্যাকা-ের ৪/৫ দিন আগে ইব্রাহিম খলিলকে নিজ বাড়িতে ডেকে আনেন তিনি। এবং হত্যার পরিকল্পনা করেন। ইব্রাহিম খলিলকে তার বন্ধু নাসিরকে দিয়ে কাজটি করতে বলেন তিনি। এরপর হত্যার দুই দিন আগে নাসিরকে নিয়ে খালার বাড়িতে যান ইব্রাহিম খলিল। এ সময় জসিম উদ্দিনকে শায়েস্তা করার জন্য নাসিরকে ৪০ হাজার টাকা দেন আনোয়ারা খাতুন। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী আনোয়ারা খাতুন ঘটনার দিন মোবাইল ফোন করে যশোরে নিজ বাড়িতে ডেকে আনেন জসিম উদ্দিনকে। ইব্রাহিম খলিল আগে থেকেই চিনতেন জসিম উদ্দিনকে। পরে আনোয়ারা খাতুনের বাড়ি থেকে বের হয়ে সঙ্গীসহ মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন জসিম উদ্দিন। পথে মণিহার এলাকার ফলপট্টিতে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ইব্রাহিম খলিল নাসিরকে চিনিয়ে দেন। নাসির মোটরসাইকেলে করে জসিম উদ্দিনের পিছু নেন। বকচরে পৌঁছালে দ্রুত সামনে এগিয়ে জসিম উদ্দিনের মোটরসাইকেলের ব্যারিকেড দেয় নাসির ও তার সহযোগীরা। এ সময় কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই জসিম উদ্দিনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে তারা।
এসআই শরীফ আলমামুন জানান, আটক ইব্রাহিম খলিলকে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার দালাল তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন শহরের বকচরে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে খুন হন জসিম উদ্দিন। এ ঘটনায় তার পিতা আব্দুল কুদ্দুস অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনা ইব্রামিহ খলিল ছাড়াও হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া আরও ৩ সন্ত্রাসী নাসির, পোখরাজ ওরফে রাহাত এবং জাহিদ ওরফে ডুবারকে আটক করেছে। তবে আনোয়ারা খাতুনকে পুলিশ আটক করতে পারেনি।