শত কোটির টাকার প্রকল্পের ফল নেই যশোরে, বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সড়কে ও বাড়িতে

0

আকরামুজ্জামান ॥ শত কোটি টাকার ড্রেনেজ নির্মাণ প্রকল্পের ৮০ কোটি টাকা ইতোমধ্যে খরচ হয়ে গেলেও যশোর পৌর এলাকার নাগরিকরা জলাবদ্ধতার হাত থেকে রেহাই পাননি। ভারী বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে হচ্ছে যশোরবাসীকে। অবশ্য পৌর কর্তৃপক্ষ পানি নিষ্কাশনে ত্রুটি থাকায় আগের মেয়রের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন।
বুধবার মাত্র আধা বেলার বৃষ্টিতেই অচল হয়ে পড়ে গোটা শহরের জনজীবন। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় শহরের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। বন্ধ হয়ে যায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচলও। শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বাড়ি ঘরেও ঢুকে পড়ে পানি। নাগরিকদের অভিযোগ অপরিকল্পিতভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজের কারণেই এই করুণ অবস্থায় পড়তে হয়েছে তাদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিআরডিপি.ইউজি-আইআইপি-৩ এর আওতায় বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে যশোর পৌরসভায় ২০০৯ সাল থেকে প্রায় শত কোটি টাকার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। চলমান এ প্রকল্পে ইতোমধ্যে ৮০ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। কিন্তু পৌরবাসীর দুর্ভোগ শেষ হয়নি। সামান্য থেকে একটু ভারী বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
যশোর বিমান বাহিনী নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল বুধবার সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যশোরে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তবে এদিন ভোর রাতে কী পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে শুধুমাত্র তাদের এলাকায়। তবে শহর ও আশপাশের এলাকায় এর চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের ভারী বৃষ্টিতে শহরের অধিকাংশ সড়কে পানি জমে যায়। পৌরসভার নির্মিত ড্রেনের পানি নিষ্কাষিত না হয়ে তা রাস্তার ওপর চলে আসে। রাস্তার পাশের অধিকাংশ ড্রেন দিয়ে পানি না নামায় ময়লা পানিতে সড়ক সয়লাব হয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটু পানি জমে রিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বুধবার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শহরের খড়কি, পিটিআই, নাজির শংকরপুর, খড়কি রূপকথা মোড় থেকে রেললাইন, বেজপাড়া চিরুনিকল, মিশনপাড়া, আরবপুর ক্যান্টনমেন্ট, বিমানবন্দর রোড, ষষ্ঠীতলাপাড়ার বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে মানুষের চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়। দুর্ভোগে পড়ে পথচারী ও এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন পৌর কর্তৃপক্ষের ওপর।
স্থানীয়রা বলছেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। এতে জনদুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে বেহাল দশা।
শহরের এমএম কলেজ পাড়ার সাইদুর রহমান বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই এমএম কলেজের দক্ষিণ গেট সংলগ্ন শাহ আব্দুল করিম সড়ক হাঁটু পানিতে ডুবে যায়। বছরের পর বছর এ অবস্থা চললেও পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।
একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শহরের খড়কি বামনপাড়ার বাসিন্দা আলিমুজ্জামান। তিনি বলেন, আমাদের এলাকা শহর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই এলাকায় আসার জন্য যে কয়টি সড়ক রয়েছে তা সবই পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, অন্য এলাকার পানি খুব দ্রুত সরে গেলেও আমাদের এলাকার সড়কের ওপর পানি সরতে সময় লাগে। বুধবারের বৃষ্টির পর পরিস্থিতি খুবই খারাপ বলে তিনি জানান।
একই অবস্থা শহরের ওয়াপদা সড়ক, সার্কিট হাউস পাড়া সড়ক, টিবি ক্লিনিক এলাকাসহ অন্যান্য অঞ্চল। এসব সড়কে বিটুমিন উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানিতে একাকার হয়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। রিকশাও চলতে পারেনি বৃষ্টির পর। অপরিকল্পিত ড্রেন এ অবস্থার জন্য দায়ী বলে জানান ভুক্তভোগীরা। ড্রেন ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি হয়ে আছে, পানিও সরছে না।
আর এর চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা শহরের নিমাঞ্চল শংকরপুর এলাকায়। ওই সব এলাকার অধিকাংশ সড়কের পাশাপাশি বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার প্যানেল মেয়র শেখ মোকছিমুল বারী অপু বলেন, পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের জন্য যে ড্রেনেজ নির্মাণ করা হয়েছে তা আগের মেয়রের আমলে। সে সময়ে ড্রেন নির্মাণের সময় যে বাঁধ দেওয়া ছিলো সেগুলো না সরিয়ে ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেওয়া হয়েছে। এ কারণে এখন ড্রেন দিয়ে পানি সরছে না। তিনি বলেন, ড্রেন নির্মাণের সময় কোথায় কোথায় বাঁধ দেওয়া রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে তা অপসারণ করা হবে।
তাছাড়া আগে পৌরসভার পানি হরিণার বিলে গিয়ে পড়লেও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ হওয়ার কারণে এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। এসব কারণে জলাবদ্ধতা বাড়ছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে খুব দ্রুত সময়ে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।