রাজগঞ্জ-পুলেরহাট সড়কের পিচ খোয়া উঠে গর্তের সৃষ্টি : প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, দ্রুত সংস্কার দাবি

0

ওসমান গণি. রাজগঞ্জ (যশোর) ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ হতে যশোর সদরের পুলেরহাট বাজার পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়ক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের পিচ, খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিয়তই এই সড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা। চলাচলের অনুপযোগী জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ-পুলেরহাট সড়ক দিয়ে পার্শ্ববর্তী ৬ উপজেলার মানুষ চলচল করে। সম্প্রতি ঝাঁপা ইউনিয়নের হানুয়ার বটতলা থেকে পুলেরহাট বাজার পর্যন্ত এ সড়কের পিচ, খোয়া উঠে অসংখ্য বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রীবাহী বাসসহ নানা যানবাহন ও মানুষ চলাচলের মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে এ সড়ক।
যশোর শহরের সাথে পার্শ্ববর্তী কেশবপুর, ঝিকরগাছা, চৌগাছা, কলারোয়া, তালা, শার্শা ও মনিরামপুর উপজেলার মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে রাজগঞ্জ-পুলেরহাট সড়ক।
ভুক্তভোগী উপজেলার রাজগঞ্জবাসী দৈনিক লোকসমাজকে জানান, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এ সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় ব্যবসা ও সার্বিক উন্নয়নের দিক থেকে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে। উপজেলার একমাত্র বাণিজ্যিক শহর রাজগঞ্জ বাজারসহ হরিহরনগর, চালুয়াহাটি, মশ্মিমনগর, খেদাপাড়া, রোহিতা, কাশিমনগর ও ঝাঁপা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম এবং অসংখ্য হাট-বাজার। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি জীবনমানের উন্নতির জন্য বৃহত্তর এ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। তাদের দাবি, এখন চলছে বর্ষা মৌসুম। এ মৌসুম শেষেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী এ সড় সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
ঝাঁপা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রসুল চন্টা জানান, সড়কটির পিচ, খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। সম্প্রতি মাছের খাবার বোঝাই একটি যানবাহন উল্টে সড়কের পাশে পুকুরে পড়ে যায়। এ ঘটনায় গোবিন্দ নামের এক কৃষক ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং চালক মারাত্মক আহত হন।
ঝাঁপা ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল হক মন্টু জানান, মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজার হতে পুলেরহাট পর্যন্ত প্রধান এ সড়কটির বর্তমান যে অবস্থা তাতে যাত্রীবাহী বাসসহ সাধারণ যানবাহন ও মানুষের চলাফেরা করা বড়ই কঠিন হয়ে পড়েছে। যশোর শহরের সাথে সম্পৃক্ত প্রায় ২২ কিলোমিটারের প্রধান এ সড়কটি সম্প্রতি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপয়োগী হয়ে পড়েছে। খুব দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এ জনপ্রতিনিধি।
এ ব্যাপারে মনিরামপুর উপজেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার জানান, যেহেতু এটা অনেক বড় একটা প্রকল্প। তাই কাজ শুরু হতে করতে একটু দেরি হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সড়কের কাজ শুরু করা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।