বাঘারপাড়ায় ৬৫ শিক্ষার্থীর জন্যে তিন কোটি টাকার চারতলা ভবন

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি ভবন নির্মাণ নিয়ে বাঘারপাড়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ক্লাস রুমের অভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মান হচ্ছে না। অথচ যেখানে একশজন শিক্ষার্থীও নেই সেখানে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তেমনি এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম বোয়ালিয়া বাসুয়াড়ি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত দুই যুগেও শতকের অংকে আসেনি। প্রায় তিনকোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে চারতলা ভবন নির্মাণ হয়েছে।
বাঘারপাড়া উপজেলার পূবে দুইটি ছোট্ট গ্রাম বোয়ালিয়া ও বাসুয়াড়ি। গ্রাম দুইটি হলেও ভূমি অফিসের তথ্য অনুসারে গ্রাম দুইটি একই মৌজার অর্ন্তভুক্ত। আর এ মৌজার নাম হচ্ছে ব্রহ্মপুর। ১৯৯৬ সালে এ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় বোয়ালিয়া বাসুয়াড়ি নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এর মাত্র দেড় কিলোমিটার পাশেই রয়েছে পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী এনবিকে সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। যে কারণে বোয়ালিয়া বাসুয়াড়ি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীা সংখ্যা কোনদিনই ৫০ পার হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, নানা অনিয়ম ও মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকবছর আগে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ বিদ্যালয়ে ষান্মাসিক পরীক্ষা চলছে। নতুন ভবনে এখনও সরকারি চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ বরাদ্দ হয়নি। যে কারণে শিক্ষার্থীরা মেঝেতে বসেই পরীক্ষা দিচ্ছে। অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। অথচ খাতা কলমে এ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ জন। বিদ্যালয়ের তথ্য অনুসারে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯ হলেও পরীক্ষার হলে দেখা গেল মাত্র ১৩ জনকে। ষষ্ঠ শ্রেণিরও একই অবস্থা। হাজিরা খাতায় ২১ জনের নাম লিপিবদ্ধ হলেও পরীক্ষা দিচ্ছে মাত্র ১৪ জন। শিক্ষার্থীর এই করুণ সংখ্যা নিয়ে এক শিক্ষককে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, কেউ কেউ পরীক্ষা দিয়ে চলে গেছে। আবার কেউ কেউ পরীক্ষা দিচ্ছে না।
বোয়ালিয়া বাসুয়াড়ি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের তথ্য অনুসারে এ বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৫ জন। অথচ শিক্ষকের সংখ্যা ৭ জন। আছেন অফিস সহকারী ১ জন, নৈশ প্রহরী ১ জন, অফিস সহায়ক ১ জন, পরিচ্ছন্ন কর্মী ১ জন ও আয়া ১ জন। স্থানীয়দের অনেকের অভিযোগ মাত্র এই কয়জন শিক্ষার্থীর জন্যে এত শিক্ষক কর্মচারীর কাজটা কি?
সম্প্রতি এই বিদ্যালয়ের নতুন চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মিত এ ভবনের নির্মাণ ব্যয় প্রায় তিন কোটি টাকা। স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন আগামী একশ বছরেও এই ভবনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাক শিক্ষার্থী হবে না।
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী হাদিউজ্জামান খান জানিয়েছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণের তালিকা স্থানীয় সংসদ সদস্যরা মন্ত্রণালয়ে দিয়ে থাকেন। সেই অনুযায়ী প্রকল্প তৈরি হয়। এখানে আমাদের কোন কর্তৃত্ব নেই।
এ বিষয়ে বাঘারপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এমদাদ হোসেন জানিয়েছেন, যেখানে কথা বলার সুযোগ পাই সেখানেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে থাকি। কিন্তু তাতে কোন কাজ হচ্ছে না। যেখানে ভবন নির্মাণের প্রয়োজন আছে সেখানে হচ্ছে না। সরকারের কোন দোষ দেব না। উপজেলা পর্যায় থেকে মন্ত্রণালয়ে পরিকল্পিত ও সঠিক তথ্য না দিয়ে ভুলভাল তথ্য দেয়া হচ্ছে। এতেকরে সরকারের উন্নয়ন যেমন সুষম হচ্ছে না, তেমনি রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ সম্পদের অপচয় হচ্ছে।