কলারোয়ায় ভিজিডি ও ভিজিএফের চাল পাচারের সময় আটক

0

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ভিজিডি ও ভিজিএফের ১৫ বস্তা চাল চুরি করে বিক্রি করার জন্যে পাচারকালে আটক করেছেন স্থানীয় জনতা। মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের গাজনা গ্রামের বাহালুল মজনুর ধান-চালের চাতালের সামনে সরসকাটি-কলারোয়া সড়কে আটকের এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই চাল বহনকারী ইজিবাইকসহ চাল জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় রাখে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যান বিশাখা সাহা ও গ্রাম পুলিশের দফাদার আলাউদ্দীনের যোগসাজশে এসব চাল চুরি করে বিক্রি করা হচ্ছিল।
স্থানীয় বজলু, আসাদ, আব্দুর রহমান, মনি, রফিক,আনারুলসহ কয়েকজন জানান, গত ২৫ জুন থেকে ঈদ উপলক্ষে গরিব অসহায়দের মাঝে ভিজিডি ও ভিজিএফের চাল বিতরণ চলছিল। মঙ্গলবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গ্রাম পুলিশের দফাদার আলাউদ্দীন পরিষদের অন্যান্য ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশকে গোপন করে প্রথমে ৫ বস্তা চাল পরিষদ থেকে চুরি করে বের করে ইজিবাইকে নিয়ে একই এলাকার ওফাপুর মোড়ে বাবুর দোকানে বিক্রি করেন। পরে আবারও ১০ বস্তা চাল একইভাবে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা ওই স্থান থেকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চাল জব্দ করে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ বিক্রি হওয়া ওই ৫ বস্তা চাল বাবুর দোকান থেকে উদ্ধার করে।
ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম জানান, আমাদের ইউনিয়নে ভিজিএফের কার্ড হয়েছে ৫২৫টি। এর মধ্যে চেয়ারম্যান সাহেব প্রত্যেক ইউপি সদস্যকে ১৮টি করে মোট ২১৬টি কার্ড দিয়েছেন। অবশিষ্ট ৩০৯টি কার্ড চেয়ারম্যান নিজেই রেখে দিয়েছেন। এছাড়া ভিজিডি’র কার্ড হয়েছে ১৫৬টি। এরমধ্যে তাদের প্রত্যেক ইউপি সদস্যকে দিয়েছেন ৬টি করে মোট ৭২টি। বাকি ৫৩টি চেয়ারম্যান নিজেই রেখে দিয়েছেন। সম্ভবত তার রেখে দেয়া কার্ডের মধ্যে থেকে ৬৮০ কেজি বা ১৫ বস্তা চাল বিতরণ না করে চুরি করে বিক্রি করার জন্যে নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে স্থানীয় জনতা আটক করেন।
গ্রাম পুলিশ ভক্ত বলেন, সকালে দফাদার আলাউদ্দীন প্রথমে ৫ বস্তা চাল একটা ইজিবাইকে পাঠিয়ে দেন। তখন আমি আরেকজন গ্রাম পুলিশ জিয়াউরকে বিষয়টি জানাই। জিয়াউর তাৎক্ষণিক চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানালে, চেয়ারম্যান তাকে বলেন, ২০টি কার্ডের চাল নাকি দফাদার কিনেছেন। সম্ভবত ওই চাল নিয়ে গেছে।
গ্রাম পুলিশের দফাদার আলাউদ্দীন বলেন, আমি ২০টি কার্ডের ৪ বস্তা চাল কার্ডধারীদের নিকট থেকে কিনেছি। সেই চাল এবং আমারসহ ৬ জন গ্রাম পুলিশের নামে ভিজিডি কার্ডের ৩০ কেজি বস্তার ৬ বস্তাসহ মোট ১০ বস্তা চাল ইজিবাইকে করে বাড়িতে পাঠাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে স্থানীয় জনতা ওই চাল আটক করে পুলিশে দেয়। তবে বাকি ৫ বস্তা বাবুর দোকানে বিক্রি হওয়া উদ্ধাকৃত চালের বিষয় জানতে চাইলে কোন জবাব দেননি তিনি।
ইউপি চেয়ারম্যান বিশাখা সাহা বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা। একটা সালিশে থাকার কারণে পরিষদে আসতে একটু দেরি হয়েছে। এসেই শুনলাম বিষয়টি।
স্থানীয় সরসকাটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবু বকর সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি গাজনা মাঠের মধ্যে রাস্তার ওপর ভিজিডি ও ভিজিএফ-র চোরাই ১৫ বস্তা চাল আটক করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক চাল জব্দ করে ইউএনও স্যারের পরামর্শে ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় রাখায় হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলি বিশ্বাস জানান, বিষয়টি শুনেই চালগুলো জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।