কাউন্সিলর মিলনের বিরুদ্ধে সাবেক কাউন্সিলর মুস্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জাহিদ হোসেন মিলনের বিরুদ্ধে একই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান মুস্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার রাতে শহরের পুরাতন কসবা চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি রাতেই চাউর হয়ে যাওয়ার পর এ নিয়ে সর্বত্র ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। তবে জাহিদ হোসেন মিলন ও মোস্তাফিজুর রহমান মুস্তা দুই জনই ঘটনাটি অস্বীকার করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি তারা জানেন না। কেউ অভিযোগও করেননি।
প্রত্যক্ষদর্শী একটি সূত্র জানায়, গত রবিবার (১৪ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাবেক পৌর কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান মুস্তা চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে একটি হোটেলে খাবার কিনতে গিয়েছিলেন। এ সময় একটি ছোট মাইক্রোবাসে করে বর্তমান কাউন্সিলর জাহিদ হোসেন মিলন কয়েকজন সহযোগীসহ সেখানে যান। তার সাথে ছিলেন পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার যুবলীগ কর্মী শরিফুল ইসলাম সোহাগ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন মোহাম্মদ কাজল, আমিরুল ইসলাম, আকাশ, আল আমিন, টিপু, ডাবলু ও ডোবার। মাইক্রোবাস থেকে সকলে নামার পর তারা চারপাশ থেকে সাবেক পৌর কাউন্সিলর মুস্তাকে ঘিরে ধরেন। এরই মধ্যে জাহিদ হোসেন মিলন কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই সাবেক পৌর কাউন্সিলর মুস্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তখন সাবেক পৌর কাউন্সিলর মুস্তা তাকে বলেন,‘কাজল জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তোর তো সাহস বেড়ে গেছে’ ইত্যাদি। এ সময় ঘটনাটি দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে যায়। এরপর জাহিদ হোসেন মিলন সহযোগীদের নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
সূত্র আরও জানায়, জাহিদ হোসেন মিলনের সহযোগী ইয়াসিন মোহাম্মদ কাজল পুরাতন কসবা গোলামপট্টির আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগ কর্মী শরিফুল ইসলাম সোহাগ হত্যা মামলায় কারাগারে আটক ছিলেন। গত রবিবার তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান।
যোগাযোগ করা হলে সাবেক পৌর কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান মুস্তা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের কথা অস্বীকার করেন।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর জাহিদ হোসেন মিলন সাংবাদিকদের জানান, মুস্তা তার বড়ভাই। নির্বাচনে মুস্তা হেরেছেন, তিনি জিতেছেন। এই নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়েছে। তবে তিনি সাবেক পৌর কাউন্সিলর মুস্তাকে লাঞ্ছিতের কথা অস্বীকার করেছেন।
কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি জানেন না। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগও করেননি। থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরীও একই কথা বলেছেন।