যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেক জালিয়াতি মামলার তদন্ত চলছেই !

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আলোচিত চেক জালিয়াতি মামলার তদন্ত কাজ শেষ হয়নি। ২০২১ সালের অক্টোবরে শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটি করেছিলো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত কাজ সম্পর্কে কোনোকিছু বলতে রাজী হননি দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আল আমিন।
২০২১ সালের অক্টোবরের প্রথম দিকে যশোর শিক্ষা বোর্ডে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অংকের টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি ধরা পড়ে। ওই সময় জানা যায়, ৯টি চেক জালিয়াতির মাধ্যমে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। দুদুকের অনুসন্ধানে এর সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় অক্টোবরের মাঝামাঝিতে যশোর শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে স্পেশাল জজ আদালতে মামলা করা হয়। দুদক সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহফুজ ইকবাল মামলাটি করেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন সচিব অধ্যাপক এ এম এইচ আলী আর রেজা, হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম, যশোরের রাজারহাটের ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শেখ শরিফুল ইসলাম বাবু ও শেখহাটি হাইকোর্ট মোড় এলাকার শাহীলাল স্টোরের মালিক আশরাফুল আলম।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছিলো, চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব হারুন অর রশিদকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধনী ও ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রস্তুত কমিটির সদস্য হিসেবে সম্মানী বাবদ ২৫ হাজার টাকার চেক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। সেই অনুযায়ী ২৫ হাজার টাকার বিপরীতে আড়াই হাজার টাকা আয়কর কর্তন করা হয়। এরপর ২০২০ সালের ৭ আগস্ট আড়াই হাজার টাকা আয়করের চেক বই প্রস্তুত করা হয়। শিক্ষা বোর্ডের হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম চেকের মুড়ি বইয়ে আড়াই হাজার টাকা লিখলেও প্রাপক হিসেবে ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের নাম লিখে ২৫ লাখ ৮০ হাজার ১০ টাকা ইস্যু করা হয়। ওই চেকে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান ও সচিব স্বাক্ষর করেন। সেই চেক আসামি শরিফুল ইসলাম বাবু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখায় তার নিজস্ব অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে টাকা ভাগাভাগি করে নেন। এভাবে শিক্ষা বোর্ডের আয়কর বাবদ ১০ হাজার ৩৬ টাকার বিপরীতে মোট ৯টি চেকের মাধ্যমে জালিয়াতি করে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা আত্মসাত করেন আসামিরা। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ওই ঘটনার কয়েকদিন পর আরো ২৯টি চেকের জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। মোট ৩৮টি চেক জালিয়াতির ঘটনায় ৭ কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেক জালিয়াতির ঘটনায় মামলা দায়েরের ১ বছর ২ মাস পার হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম আলোর মুখ দেখেনি। ইতোমধ্যে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে দুদক সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আল আমিন বলেন,‘তদন্ত কাজ চলছে’। অবশ্য এর বেশি আর কোনো কিছু বলতে রাজী হননি তিনি।