যশোরে বিএনপি কার্যালয়সহ পুরো লালদিঘী পুলিশে অবরুদ্ধ, স্বাধীনতা ৫১ বছর পরও জনগণ সাংবিধানিক অধিকারের কথা বলতে পারে না : অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে গতকাল বিএনপির কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক তৎপর ছিল পুলিশ। দিনব্যাপী জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সাথে গোটা লালদিঘী এলাকা অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। এতে ব্যস্ত ওই সড়কে জনভোগান্তি ছিল চরমে। তবে পুলিশের অবরোধ উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে এবিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন দলের খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। অন্যদিকে এমন বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী শহরের বিক্ষোভ মিছিল করেন।

দলীয় কার্যালয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাংবাদিকদের বলেন, ১০ ডিসেম্বর দেশের জনগণ পাহাড় সমান বাধা-বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় কর্মসূচি সফল করেছে। সেই গণসমাবেশ থেকে বিএনপি জনগণের মুক্তির সনদ ১০ দফা ঘোষণা করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ছিল প্রথম কর্মসূচি। গেল ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ে পুলিশ যে নৈরাজ্য চালিয়েছিল, সেখানে আমাদের মকবুল হোসেন নামের এক সহকর্মীকে জীবন দিতে হয়েছে। আমাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাড.রুহুল কবির রিজভীসহ দলের সাড়ে চার শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। কেন্দ্র ঘোষিত দেশের সকল মহানগর এবং জেলা পর্যায়ে আজকের কর্মসূচি ছিল। কর্মসূচিতে নিয়ে আসা মাইক,চেয়ার পুলিশ নিয়ে গেছে। চেয়ার ও মাইক বহনকারী দুই ভ্যান চালকসহ একজন মহিলাদল নেত্রীসহ ৬জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিজয়ের মাসে মহান স্বাধীনতার ৫১ বছর পর জনগণ তার সাংবিধানিক অধিকারের বিষয় কথা বলতে পারে না। দাবি আদায়ের জন্য মাঠে নামতে পারে না। তাহলে কী কারণে ৫১ বছর পূর্বে আমাদের পূর্ব পুরুষেরা রক্ত দিয়েছিলেন?
তিনি এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। অবিলম্বে আটক নেতা কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিনিয়ত গ্রাম পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করে নিরীহ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সকল মৌলিক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য জনগণ সাথে নিয়ে আমরা লড়াই করছি। সে লড়াই করতে গিয়ে আমাদের অজ¯্র নেতা কর্মীকে জীবন দিতে হয়েছে। কিন্তু এভাবে বাধা দিয়ে জনগণের ন্যায় সঙ্গত দাবি আদায় থেকে বিচ্যুত করা যাবে না।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিজয়ের মাসে প্রশাসনের সদস্যদেরকে এই ধরণের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সাথে তাদেরকে কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ না হয়ে, কিংবা বিশেষ রাজনৈতিক দলের কর্মী কিংবা ক্যাডারের মত আচরণ না করে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনসহ জনগণের সাথে বন্ধু সুলভ আচরণ করার আহ্বান জানান।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, আমরা যশোরে শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সংস্কৃতি লালন করি। কিন্তু আজকে একটি বিচিত্র ঘটনা, বল প্রয়োগ করে পুলিশের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় স্বাভাবিক পরিবেশে রাজনীতি করার কোন সুযোগ নেই। ফ্যাসিস্ট সরকার জগদ্বল পাথরের মত চেপে বসে আছে। তারা বিভিন্ন অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে সেটি প্রতিরোধ করতে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চায় না বলে পুলিশি রাষ্ট্র কায়েম করা হয়েছে।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন। এদিকে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এমন পরিস্থিতির মধ্যেও কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আরএনরোড থেকে মনিহার এলাকা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিলি করেন।
অপরদিকে সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকে জেলা বিএনপি কার্যালয়সহ লাল দিঘীর চারপাশ পুলিশ অবরুদ্ধ করে রাখে। লাল দিঘীর প্রতিটি প্রবেশ পথে ছিল পুলিশের বাধা। ব্যস্ততম সড়কের দুই মুখ গাড়ি দিয়ে অবরোধ করে রাখে পুলিশ। জনসাধারণ ও গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হয়। জিম্মি হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। শহরের অন্যতম বাণিজ্যিক এ এলাকার ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হন। গোটা এলাকা অবরুদ্ধ করে রাখার কারণে তাদের সারাদিনের ব্যবসায়ীক কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
এবিষয়ে জানতে কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলামের কাছে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি।