রিজভী ও ইশরাকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি ভাংচুরের মামলায় ও নাশকতার মামলায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেনের জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
গতকাল সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন তোফাজ্জল হোসেন রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের পেশকার আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ভাঙচুর মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমীরসহ তিনজন আজকে ( সোমবার) হাজিরা দিলেও রিজাভীসহ তিনজন আদালতে হাজির হননি। এজন্য বিচারক তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আগামী ২৯ মার্চ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর প্রতিদিনের কাজের অংশ হিসেবে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি মিন্টু রোডের ইস্কাটন হয়ে মাতুয়াইলের দিকে যাচ্ছিল। পথে কাকরাইলের বিজয়নগরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে ২০০-২৫০ জন লাঠি-সোটা নিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় গাড়ির চালক আয়নাল বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালে ফখরুলসহ নয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুহুল কবির রিজভী, জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও শফিকুল বারী বাবু।
অপরদিকে নাশকতার মামলায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেনের জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
গতকাল সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
২০২০ সালের ১২ নভেম্বর ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনের রাস্তায় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ, গাড়ি ভাঙচুর এবং গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন, এমন অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দন্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করে মতিঝিল থানার পুলিশ।
এ মামলায় গত ৬ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকা থেকে ইশরাক হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই দিন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে শ্রমিক দলের লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
গ্রেফতারের পরই তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন ইশরাকের আইনজীবী জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এ মামলায় জামিনে ছিলেন ইশরাক। গতকাল এ মামলায় ধার্য তারিখ ছিল। তিনি আদালতে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।