গাবুরার মানুষ আর সুন্দরবনে থাকতে চায় না

0

শেখ আব্দুল হাকিম, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)॥ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরে সুন্দরবনের গা ঘেঁষা একটি দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা। ইউনিয়নটির চার পাশ নদী বেষ্টিত। ২৫ মে ২০০৯ আইলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে দুটি বছর পানির নিচে থাকে গাবুরা ইউনিয়ন। এখানের মানুষেরা অধিকাংশই অসহায় ও হতদরিদ্র। জীবন-জীবিকার তাগিতে সকাল বেলায় ডিঙ্গি নিয়ে ছুটতে হয় সুন্দবনের নদ-নদীতে। ইউনিয়নের শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বন্যপ্রাণীর হামলার শিকার হয়ে মৃত্যু জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালীর সংখ্যা অন্যান্য ইউনিয়ন থেকে অনেক গুণ বেশি ।
স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেকের ঠাঁই হয়নি শ্বশুর বাড়িতে। সন্তান প্রতিপালন,অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের সমস্যা নিয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে এসব ভাগ্যাহত নারীরা। তাদের ছেলে মেয়েদের পড়ালেখা শেখানোর কোন সুযোগ নেই। তাদের সন্তানরা মায়ের সাথে নদ-নদীতে যায় মাছ ধরতে। সাম্প্রতি তারা জীবন জীবিকার তাগিতে খোলপেটুয়া নদীতে রেনু ধরতে গেলে বুড়িগোয়ালীনী নৌ-পুলিশ ও কোস্ট র্গাডের সদস্যরা খোলপেটুয়া নদীতে হানা দিয়ে তাদের জালগুলো নদী থেকে তুলে নিয়ে যায়। তাদের আকুতি আর আহাজারি দেখে অনেকে। জালগুলো ছেড়ে দিতে অনেকেই দাবি জানালে কে শোনে কার কথা? তাই সমাজে বেঁচে থাকতে তারা বিকল্প কর্মসংস্থার ব্যবস্থা চায়। বাপ- দাদাদের পেশা ছেড়ে অনেকেই দেশের অন্যত্র কাজের সন্ধানে চলে যাচ্ছে বলে ভুক্তভোগিরা জানান।সুন্দরবনের উপর চাপ কমাতে এতদাঞ্চলের বন নির্ভরশীল ব্যক্তিদের বিকল্প কর্মসংস্থানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এনজিওরা। এসব বাঘ বিধবা নারীদের বিধবা ভাতা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান,এনজিও, সমাজসেবা কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সমন্বয়ে কাজ করছে বলে জানা যায়। তবে এসব বাঘ বিধবা নারীদের অভিযোগ তাদের সহযোগিতায় কেউ এগিয়ে আসেনা। এমনকি ফেয়ারপ্রাইজ র্কাড, টিসিবি’র র্কাডও তাদের দেয়া হয়নি বলে জানান।