যশোর শিক্ষা বোর্ডের টাকা লোপাট মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির কাজ শুরু

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাড়ে ৭ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে লোপাটের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত টিম কাজ করতে শুরু করেছে। তবে এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেনি। এমনকি তদন্ত টিমের সাথে কথা বলার সুযোগও পাওয়া যায়নি। একাধিকবার শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি তদন্ত কমিটির নাম বা টিম প্রধানের নম্বর। এক প্রকার নীরবেই কাজ করছে ঢাকা থেকে আগত টিম। কঠোর গোপনীয়তায় কাজ করার কারণে বোর্ডের তেমন কেউ জানেন না কারা এসেছেন, কয়দিন থাকবেন কী কাজ করবেন। কেউ কেউ বলেছেন ‘সালামের বিষয়ে তদন্তে এসছেন’ কেউ বলেননি সাড়ে সাত কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা তদন্তে এসেছে টিম।
২০২১ সালে সেপ্টেম্বরে শিক্ষাবোর্ডে জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। ৩৬ টি চেকে জালিয়াতির মাধ্যমে জালিয়াত চক্র সাড়ে সাত কোটি টাকা লোপাট করে। সে সময় হই চই পড়া এ ঘটনায় শিক্ষাবোর্ড ৫সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করে। যদিও সে তদন্ত রিপোর্টের বিষয়ে আজ পর্যন্ত জানানো হয়নি কাউকে। শুরুতেই এ বিষয়ে তদকালীন বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর, সচিব এ এমএইচ আর রেজা, চাকরিচ্যুত হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম, মালামাল সরবরাহকারী ভেনাস প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক এবং মেসার্স শাহীলাল স্টোরের মালিক এই ৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। একই সময় এই দুর্নীতি নিয়ে দর্নীতি দমন কমিশন যশোর জেলা অফিস(দুদক)ও এই ৫ জনের নামে মামলা করে। দীর্ঘ দিন সকল প্রকার কার্যক্রমে স্থবিরতা থাকে। এক পর্যায়ে চলতি বছরের জুন মাসে অভিযুক্ত হিসাব সহকারী আব্দুস সালামকে বিভাগীয় মামলায় চাকরিচ্যুত করা হয়। তবে দীর্ঘ দিন দুদকের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না।
এদিকে বোর্ডের একাধিক সূত্র জানায়, একপ্রকার হঠাৎই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দুই সদস্যের একটি টিম তদন্তে এসেছে। ্তারা হিসাব বিভাগ, অডিট বিভাগে কাজ করছে। তবে বিস্তারিত কেউ কিছু জানাতে না পারায় বোর্ডের সচিব প্রফেসর আব্দুল খালেক সরকারকে ফোন দিলে তিনি জানান, মন্ত্রণালয় থেকে তদন্তে এসেছেন। তবে বিস্তারিত তিনি কিছু জানেন না, তাকে জানানোও হয়নি বা চিঠিও তিনি পাননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আহসান হাবীব স্বীকার করেন ২ জনের একটি টিম এসছে তবে তিনি কারো নাম বা পরিচয় জানাননি। তিনি জানিয়েছিলেন মন্ত্রণালয়ের চিঠির বিষয়টি অবহিত করবেন, এরপর একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এর মধ্যে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, মন্ত্রণালয় কোনো তদন্ত টিম পাঠালো বা এর আগে তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে কোনো কিছু জানেন কিনা। তিনি জানেিয়ছেন এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এ সময় দৈনিক লোকসমাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষা বোর্ড তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল তাই মন্ত্রণালয় কোনো তদন্ত টিম তখন গঠন করেনি। এখন কোন ভিত্তিতে এই তদন্ত? তিনি জানালেন, ‘সালামের বিষয়ে’। এর বেশি বিস্তারিত তিনি জানাতে পারেন নি।
অবশ্য শিক্ষাবোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষা অধিদফতরের ডিআইএ পরিচালক ওলিউল্লাহ মোহাম্মদ আজমতগীর মন্ত্রণালয়ের আদেশের প্রেক্ষিতে দুই সদস্যের টিম নিয়ে সাড়ে সাত কোটি টাকা লোপাটের বিষয়ে বিভিন্ন জনকে প্রশ্ন করেছেন এবং বিভিন্ন কাগজপত্র নিয়েছেন।