কিডনি ব্যবসা বাংলাদেশেও

0

কিডনি প্রতিস্থাপনে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিদ্যমান আইন অমান্য করেই চলছে কিডনি বেচাকেনার ব্যবসা। একটি চক্র মোটা অংকের টাকার লোভ দেখিয়ে কিডনি কেনাবেচা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাুেদশ ও পাশের দেশে। বাংলাদেশে এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, লিভারসহ মানবদেহের অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ নিয়েও ব্যবসা করে আসছে। গত সপ্তাহে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এমনই এক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবৈধভাবে কিডনি কেনাবেচার এক সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে জড়িত। ফেসবুকে চটকদার বিজ্ঞাপন ও মানবিক আবেদন জানিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কিডনি ডোনারদের ঢাকায় নিয়ে আসত তারা। পরে ডোনারদের কিছু টাকা দিত। কিডনি রোগীর আত্মীয় সাজিয়ে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের পাঠাত ভারতে। সেখানে কিডনি প্রতিস্থাপন শেষে দেশে ফিরে বাকি টাকা চাইলেই ডোনারদের দিত হুমকি। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর সঙ্গে চুক্তির এফিডেভিট কপি, ভুক্তভোগীদের পাসপোর্টসহ মোট ১৪টি পাসপোর্ট, কিডনি ক্রস ম্যাচিংয়ের বিভিন্ন দলিল, দেশি ও বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ও ফটোকপি, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই ও এটিএম কার্ড, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের জাল সিলমোহর, খালি স্ট্যাম্প, সিপিইউ, মোবাইল ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়।
গত বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিডনি কেনাবেচার এই চক্রের সদস্যসংখ্যা ১৫ থেকে ২০। তারা মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে কিডনি ক্রয়-বিক্রয়ের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এই চক্রের সদস্যরা পাশের দেশে অবস্থানরত কিডনি কেনাবেচা চক্রের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শতাধিক মানুষকে পাশের দেশে পাঠিয়েছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞান ক্রমেই এগোচ্ছে। সারা দুনিয়ায়ই এখন কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। কিন্তু তা করা হয় সুনির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালার ভিত্তিতে। বাংলাদেশেও ১৯৮৮ সাল থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কেনাবেচা বা বল প্রয়োগের আশঙ্কা থাকায় ১৯৯৯ সালেই কিডনি প্রতিস্থাপন আইন করা হয়। কিন্তু সেই আইন মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ আছে। ১৯৯৯ সালের কিডনি প্রতিস্থাপন আইন অনুযায়ী কেবল নিকটাত্মীয়রাই কিডনি দান করতে পারেন। কেনাবেচার প্রশ্নই নেই। এর পরও এই ব্যবসা কিভাবে চলছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। কিন্তু কিডনি ব্যবসার নামে যেভাবে র কিডনি নেওয়া হচ্ছে, তা এক ধরনের হত্যারই শামিল। আমরা এদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাই। একই সাথে আইন প্রয়োগকারী সকল সংস্থার বিশেষ নজরদারির দাবি রাখি।