যশোরে তামান্না লিমিটেডের ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা বিনিয়োগকারীদের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিনিয়োগকারীদের লগ্নিকৃত ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তামান্না লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা পরিচালনাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে রোববার যশোরে মামলা হয়েছে। তাব্বাসছুম কবির নামে একজন বিনিয়োগকারী এই মামলাটি করেছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আদেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী তাব্বাসছুম কবির যশোরের সিভিল ্এভিয়েশন বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার এম এম আবুল বাসারের মেয়ে। অপরদিকে আসামিরা হলেন, ঢাকার পুরাতন পল্টনস্থ তামান্না লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ইকবাল, পাবনার বেড়া উপজেলার হাতুরিয়া গ্রামের মৃত আক্কাস আলীর ছেলে এম শাহাজাহান আলী, মানিকগঞ্জ সদরের কমলাপুর গ্রামের হোসেন উদ্দীন মুন্সির ছেলে সাইদুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের দুর্গাপুর গ্রামের এম তমিজ উদ্দীনের ছেলে এম আতাউর রহমান, জামালপুরে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তারাতিয়া বাজার এলাকার হযরত আলী মন্ডলের ছেলে এম হারুন অর রশিদ ও চট্টগ্রামের নাসিরাবাদের দক্ষিণ খলসী এলাকার মাওলানা আব্দুস সুবানের ছেলে এম নুরুল্যা বেলাল।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, মামলার বাদী তাব্বাসছুম কবির বিমান বাহিনীতে চাকরি করতেন। অবসর গ্রহণ করার পর তিনি যশোরের সিভিল অ্যাভিয়েশন বিমানবন্দর আবাসিক এলাকায় বসবাস করছেন। অপরদিকে আসামি এম ইকবাল, সাইদুর রহমান, আতাউর রহমান, এম হারুন অর রশিদ ও এম শাহাজাহান আলীও এক সময় বিমান বাহিনীতে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে অধিকাংশ আসামি তাব্বাসছুম কবিরের পূর্ব পরিচিত। তামান্না লিমিটেডে টাকা লগ্নি করলে তারা আকর্ষণীয় লভ্যাংশ প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে তাব্বাসছুম কবির ২০১১ সালের বিভিন্ন সময় কয়েকদফায় ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা লগ্নি করেন ওই প্রতিষ্ঠানে। একইভাবে আরো অনেকে লাভের আশায় সেখানে টাকা লগ্নি করেন। তাব্বাসছুম কবিরসহ বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর লগ্নিকৃত মোট টাকার পরিমাণ ১ কোটি ১৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা। কিন্তু আসামিরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ প্রদান করেন নি। এমনকি আসল টাকাও তাদের ফেরত দেয়া হয়নি। টাকা পরিশোধ না করে আসামিরা বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিন ধরে ঘুরিয়ে আসছেন। তামান্না লিমিটেডে মূলত চায়না থেকে আমদানি করা ফ্রিজ, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করা হতো। যশোরেও তাদের শাখা ছিলো। ব্যবসা মন্দা, করোনা ইত্যাদির কথা বলে আসামিরা তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। মামলায় আরও বলা হয়, গত ৫ জুন বেলা ১১টার দিকে যশোরের আরবপুর শাখায় এসে উল্লিখিত আসামিরা বিনিয়োগকারীদের লগ্নিকৃত টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। এ কারণে বাদী তাব্বাসছুম কবির আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।