যশোরে যুবককে অগ্রণী ব্যাংকের ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রতারণার মাধ্যমে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে অগ্রণী ব্যাংকের ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদানের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত বুধবার যশোরের আদালতে মামলাও হয়েছে। ৫ জনকে আসামি করে মামলাটি করেছেন আব্দুল কুদ্দুস নামে এক ব্যক্তি। তিনি সদর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের আজিজুল দফাদারের ছেলে। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডি পুলিশকে আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন, নড়াইল সদর উপজেলার মীর্জাপুর গ্রামের মৃত দোলন কাজী ওরফে কাজী নজরুল ইসলামের ছেলে রওনক কাজী ওরফে কাজী রওনাকুল ইসলাম, রফি কাজীর ছেলে রাসেল, কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওবায়দুর শেখ (রওনক কাজীর জামাই), টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার চকভরুয়া গ্রামের মৃত শাহাজান আলীর ছেলে শাহিন আলম ওরফে রাশেদ।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, সদর উপজেলার নুরপুর গ্রামের মৃত নাজিম বিশ্বাসের ছেলে পূর্ব পরিচিত আসাদুলের মাধ্যমে আসামি রওনক কাজী রাসেলের সাথে কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুসের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে আসামিদ্বয়ের সাথে আব্দুল কুদ্দুসের সখ্য গড়ে ওঠে। এ সময় আব্দুল কুদ্দুসকে রওনক কাজী ও রাসেল জানান, তারা বাংলাদেশ সচিবলায়ের একজন সচিবের মাধ্যমে তার ছেলে আবিদ হাসানকে যশোরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে নিয়োগ পাইয়ে দিতে পারবেন। তবে আপাতত তারা অস্থায়ী ভিত্তিতে ঢাকায় অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ৮ হাজার ২৫০ টাকা বেতনে আবিদ হাসানের চাকরির ব্যবস্থা করে দিবেন। রওনক কাজী ও রাসেলের কথায় বিশ্বাস করে আব্দুল কুদ্দুস তাদেরকে ৭ লাখ টাকা দিলে তারা তার ছেলে আবিদ হাসানের নামে অগ্রণী ব্যাংকের একটি নিয়োগপত্র দেন। শর্ত থাকে যে, আসামি রওনক কাজী ও রাসেল অপর আসামিদের সহায়তায় আবিদ হাসানকে ২০২১ সালের ১২ থেকে ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যাংকে যোগদান করিয়ে দেবেন। এরপর আবিদ হাসানকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আসামি রওনক কাজী ও রাসেল মূল নিয়োগপত্রটি নিয়ে আবিদ হাসানকে ফটোকপি প্রদান করেন। পরে আবিদ হাসানকে ঢাকা থেকে যশোরে নিয়ে আসেন সকল আসামি। এ সময় বলা হয়, আবিদ হাসানকে স্থায়ীভাবে যশোরের ঝুমঝুমপুরস্থ অগ্রণী ব্যাংক আঞ্চলিক কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাইয়ে দেয়া হবে। কিন্তু ১ মাস অতিক্রান্ত হলেও নিয়োগ পাইয়ে না দেওয়ায় আব্দুল কুদ্দুসের সন্দেহ হয়। পরে তিনি ঝুমঝুমপুরস্থ অগ্রণী ব্যাংক আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, তার ছেলেকে দেয়া নিয়োগপত্রটি ভুয়া।