ফের শুরু হল প্রতিদিনের ক্লাস

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রায় দুই বছর পর যশোরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সশরীরে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান চলবে বলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন। করোনা ভাইরাসের বিস্তারের ফলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হলেও কয়েকদিন পরেই পুনরায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কোভিড বিস্তারের কারণে এই বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
ইতিমধ্যে দেশের আমদানি-রপ্তানি থেকে শুরু করে বিনোদন কেন্দ্র পর্যন্ত সব কিছুরই পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলেও বাকি ছিল শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়া। এনিয়ে ক্ষোভও ছিলো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। অবশেষে মঙ্গলবার থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রথম দিনেই যশোরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও ছিল চোখে পড়ার মত। অনেক দিন পর পুরোদমে ক্লাস শুরু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শহরের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ড স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) কল্যাণ সরকার বলেন, দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীদের এক সাথে ক্লাসে খুব ভালো লাগছে। এই দিনের জন্য গত দুই বছর ধরে অপেক্ষায় ছিলাম। অন্যান্যদের দিনের মতই আমাদের স্কুলে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়। ঝুঁকি এড়াতে শিক্ষার্থীদের জন্যে গেটের সামনে হাত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি বলেন, স্কুলে ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ ও বের করার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
যশোর জেলায় ১২৮৯ প্রাইমারি ও ৩৩৭ টি কিন্ডার গার্ডেন রয়েছে। সকাল নয়টা থেকে প্রতিটি স্কুলে ৪ টি বিষয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলে। দীর্ঘ দিন পর স্কুল খোলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা খুশি ছিলেন। সকালে যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে (মমিন গার্লস স্কুল) গিয়ে দেখা শিক্ষার্থীরা গেট দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ভেতরে প্রবেশ করছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে শরীরের তাপমাত্রা মেপে নেয়া হচ্ছে। হাতে স্প্রে করা করা হচ্ছে জীবানুনাশক ওষুধ। বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান কেয়া বলেন, সবাইকে এক সাথে স্কুলে পেয়ে খুব আনন্দ লাগছে তার। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন আব্দুর রশিদ নামে একজন অভিভাবক। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরে আসায় তারা অনেক খুশি। তিনি বলেন, করোনায় দেশের সব কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমরা অনেকটা অস্বস্তিতে ছিলাম। এসময়ে শিক্ষার্থীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এই ক্ষতি পূরণে বিদ্যালয়ের চলমান কার্যক্রমের গতি আরও বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার একেএম গোলাম আজম বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর স্বাভাবিক ছন্দে আবার শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষাঙ্গনে ফিরেছে। এতে শিক্ষার্থীরা যতটা খুশি ততটা আমরাও খুশি। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, ১২ বছরের ঊর্ধ্বে যেসকল শিক্ষার্থী রয়েছে তাদেরকে করোনা টিকা দেয়া হয়েছে। এখন সরকার এর নিচে যাদের বয়স তাদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে ভাবছে। খুব দ্রুত সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে বলে তিনি আশা করেন।