টাকা গ্রহণ না করেও কৃষি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের নোটিস পেলেন কৃষক!

0

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ ॥ ঝিনাইদহে কৃষক শফিকুল ঋণ গ্রহণ না করেও কৃষি ব্যাংক হলিধানী শাখায় ঋনগ্রস্তের তালিকায় তিনি অন্তর্ভুক্ত। প্রতি মাসে ব্যাংক কর্মকর্তারা তার বাড়িতে যাচ্ছেন আদায় নোটিশ নিয়ে। সর্বশেষ তাকে লাল নোটিশ দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। দ্রুত ৯৫ হাজার ৭শ টাকা পরিশোধ না করলে আদালতে মামলা করা হবে। ব্যাংকের লাল নোটিস পেয়ে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন। কৃষক শফিকুল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে কৃষক শফিকুলের নামে ঝিনাইদহের হলিধানী কৃষি ব্যাংক শাখা থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ ইস্যু হয়। যার ফলিও নং ৪৫৮ (১৬৫)। ঋণ গ্রহণের ৭ বছর পর ২০২২ সালের ১ মার্চ ঋণ পরিশোধের নোটিস পান। নোটিসে উল্লেখ করা হয় নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করা হলে, বড় ডিজিটাল ব্যানারে আপনার নাম, ঠিকানা ও ছবি ছাপিয়ে আপনার এলাকার হাট-বাজার,স্কুল-কলেজসহ জনসমাগম হয় এমন স্থানে টানিয়ে রাখা হবে। আপনার সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ব্যাংকের টাকা আদায়ের জন্য বহুল প্রচারিত পত্রিকায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হবে। নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রচারের জন্য আপনার এলাকায় মাইকিং করা হবে। এই প্রচারের খরচ বাবদ ৩০ তেকে ৪০ হাজার টাকা আপনাকেই বহন করতে হবে। যা নিলামের মাধ্যমে আপনার জমি বিক্রয় করে আদায় করা হবে। এছাড়া কোর্টে মামলা দায়েরের জন্য ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকাও এই ঋণ গ্রহীতাকেই বহন করতে হবে। এই মামলায় কারাগারে গেলে জেল খানার খরচও ঋণ গ্রহীতাকে বহন করতে হবে। সর্বশেষ জমির মালিকানা স্বত্ব ব্যাংকের নামে রেকর্ড করা হবে।
এদিকে ২০১৫ সালের ৫০ হাজার টাকার ঋণ সুদে আসলে ৯৫ হাজার ৭শ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এলাকার একটি দালাল চক্র তৎকালীন ব্যাংক ম্যানেজার প্রণব রঞ্জন বিশ্বাস ও আইও শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশ করে কৃষক শফিকুলের জাতীয় পরিচয় পত্র ও ছবি জাল করে এই ঋণ তুলে আত্মসাৎ করেছে। বাস্তবে শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষর করতে পারলেও ব্যাংকের ফাইলে স্বাক্ষরের জায়গায় টিপ সই দেওয়া রয়েছে। ম্যানেজার প্রণব রঞ্জন বিশ্বাস এখন অবসরে রয়েছেন। আর আইও শহিদুল ইসলাম বর্তমানে শৈলকুপার ভাটই বাজার কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। শফিকুল ইসালামের বিনা অনুমতিতে তার সকল কাগজপত্র দিয়ে এই ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঋণ ফাইলে যার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে তার নাম মওলা। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ভুলটিয়া গ্রামে। হলিধানী কৃষি ব্যাংকের একাধিক কর্মচারী অভিযোগ করেন, সাবেক আইও শহিদুল ইসলাম শ শ ব্যাক্তির নামে ভুয়া ঋণ তুলে নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। অথচ এখন সার্টিফিকেট মামলার জালে আটকে যাচ্ছেন গ্রামের অতি সাধরণ কৃষক। এ বিষয়ে সাবেক ম্যানেজার প্রণব রঞ্জন বিশ্বাস কথা বলতে রাজি হননি। তবে তৎকালীন আইও ও বর্তমান শৈলকুপার ভাটই বাজার কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম জানান, অনেক দিন আগের কথা। আমি কাগজপত্র না দেখে কিছুই বলতে পারবো না। হলিধানী কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হাসমত আলী জানান, কৃষক শফিকুলকে সহায়তার জন্য বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অহেতুক কোনো কৃষক যাতে হয়রানি না হয় সে বিষয়ে আমরা নজর দিচ্ছি।