খুলনায় স্কুলছাত্র শুভ হত্যায় আসামি সজলের স্বীকারোক্তি

0

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা॥ গত রোববার হত্যার শিকার শুভ‘র মূল খুনি সজল ব্যপারীকে আটক করেছে পুলিশ। সে আদালতে মঙ্গলবার শুভ হত্যায় নিজের দায় স্বীকার করেছে। এ সময় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে। তুচ্ছ ঘটনায় হত্যার শিকার হতে হয়েছে স্কুলছাত্র শুভ হাওলাদার। জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম। জবানবন্দি শেষে কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। ময়লাপোতা সে মুনসুর খাঁর বাড়ির ভাড়াটিয়া নুর মোহাম্মদের ছেলে । জবানবন্দিতে সজল জানায়, প্রায়ই শুভকে হিজড়া বলে ডাকতো সে। প্রতিবাদে শুভ তাকে গালিগালাজ করতো। ক্ষিপ্ত সজল দেখে নেয়ার হুমকি দেয় শুভকে। আর সুযোগ বুঝে ইট দিয়ে ক্রামাগত আঘাত করে থেঁতলে হত্যা করে শুভকে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার এসআই সুকান্ত দাস জানান, রোববার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সজল এলাকার একটি হোটেলে নাস্তা করে। পরে বালুর মাঠের দিকে খেলতে যায়। এসময় সজল ব্যাপারী ওই স্থানে হাজির হয়ে শুভকে হিজড়া বলে ডাকতে থাকে। শুভ ক্ষিপ্ত হয়ে সজলকে গালিগালাজ করে। ক্ষুব্ধ সজল কৌশলে শুভকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে প্রথমে লাথি মারে। এরপর ইট দিয়ে আঘাতের পর আঘাত করে হত্যা করে। শুভর মৃত্যুর পর সেখান থেকে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে পালিয়ে গোপালগঞ্জ গিয়ে আত্মগোপন করে। ঘটনার দিন বিকেলে সজলের ঘর থেকে রক্তমাখা প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করে পুলিশ। সজলের সন্ধ্যানে সোমবার রাতে গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীর তীরে মধুপুর গুচ্ছগ্রামে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সজল নদীতে ঝাঁপ দেয়। এ অবস্থায় পুলিশ তাকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ততা স্বীকার করে। পরে জবানবন্দি দিতে চাইলে তাকে সকালে আদালতে হাজির করা হয়। এ মামলায় সজলসহ আরও দু’জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের তিনজনকে আদালত কারাগারে প্রেরণ করেছে।