লভ্যাংশ দেয়নি ৩৭ কোম্পানি, ব্যাখ্যা চাইবে বিএসইসি

নুরুজ্জামান তানিম॥ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৭টি কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করেনি। কোম্পানিগুলোর এমন সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিঘ্নিত হয়েছে বলে মনে করে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তাই যেসব কোম্পানি লভ্যাংশ প্রদান করেনি, তাদের কাছে এর কারণ ব্যাখা চাইবে কমিশন। শিগগিরই কোম্পানিগুলোকে চিঠি দেওয়া হবে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে। যেসব কোম্পানি লভ্যাংশ প্রদান করেনি সেগুলো হলো- দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ, আরএন স্পিনিং মিলস, সাভার রিফেক্টরিজ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি, মুন্নু ফেব্রিক্স, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, জাহিন স্পিনিং, স্টাইলক্রাফট, এটলাস বাংলাদেশ, ইস্টার্ন ক্যাবলস, রেইনইউক যজ্ঞেশ্বর, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, আজিজ পাইপস, রতনপুর স্টিল রি রোলিং মিলস, ইয়াকিন পলিমার, আরামিট সিমেন্ট, ফাইন ফুডস, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, শ্যামপুর সুগার মিলস, জিলবাংলা সুগার, ফু ওয়াং ফুড, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, জুট স্পিনার্স, ইনফরমেশন সার্ভিসেস, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, এমবি ফার্মা, প্রাইম ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফার্স্ট ফাইন্যান্স ও রিজেন্ট টেক্সটাইল।
সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়িক মুনাফায় থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি বেশ কিছু কোম্পানি সর্বশেষ হিসাব বছরের (২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর এবং ২০২১ সালের ৩০ জুন) নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ প্রদান করছে না। ফলে বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ পরিপন্থি বলে মনে করে কমিশন। তাই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিঘ্নিত না হওয়ার লক্ষ্যে লভ্যাংশ প্রদান না করা কোম্পানিগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এছাড়া, যেসব কোম্পানি লভ্যাংশ প্রদান করছে না, সেসব কোম্পানির বিরুদ্ধে বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার চিন্তা-ভাবনা করছে বিএসইসি। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের অভিমত, যেসব কোম্পানি মুনাফা করেও শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করেনি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। একইসঙ্গে যেসব কোম্পানি লোকসানের কারণে লভ্যাংশ প্রদান করেনি, তাদেরকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। কেন লভ্যাংশ প্রদান করা হয়নি, সেই বিষয়ে যদি সন্তোষজনক ব্যাখা না পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশের মৌসুম চলছে। তবে বেশ কিছু কোম্পানি লভ্যাংশ না দিয়ে বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। এতে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের এক ধরনের অনাস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। যা বাজারের সাধারন গতি নষ্ট করে। লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানিগুলোর বিষয়ে খতিয়ে দেখা বিএসইসির একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বিএসইসি’র কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সর্বশেষ হিসাব বছরে যেসব কোম্পানি লভ্যাংশ প্রদান করছে না, সেসব কোম্পানি বিএসইসির নজরদারিতে রয়েছে। লভ্যাংশ না দেওয়ার কি কারণ, সেই বিষয়ে কোম্পানিগুলোর কাছে ব্যাখা চাওয়া হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যাতে লভ্যাংশ পেতে পারে সেজন্য কমিশন খুবই আন্তরিক। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে কমিশন করণীয় সবকিছুই করবে।’ বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘যেসব কোম্পানি মুনাফা করেও শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করেনি এবং যেসব কোম্পানি লোকসানের কারণে লভ্যাংশ দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে লভ্যাংশ প্রদান না করার কারণ দর্শানোসহ আর্থিক প্রতিবেদন তদন্ত করে দেখার দাবি জানাই। আর লভ্যাংশ না দেওয়ার বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখা না পেলে, কোম্পানিগুলোকে লভ্যাংশ প্রদানে বাধ্য করতে হবে।’ উল্লেখ্য, আগেও গত বছর লভ্যাংশ না দেওয়ায় একাধিক কোম্পানিকে তলব করেছিলো বিএসইসি।

ভাগ