যশোরে মোটরসাইকেল যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে ২ লাখ টাকা ও মোটরসাইকেল যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী ইভা রহমানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সাদিক সরদার (২৪) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সাদিক সরদারের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। ইভা রহমানের পিতা দাউদ শিকদার মামলাটি করেছেন। তিনি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বৌদ্ধবাটি গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত সাদিক সরদার নড়াইলের কালিয়ার সুলশুর এলাকার রশিদ সরদারের ছেলে। বর্তমানে তিনি যশোর শহরের নীলগঞ্জ সাহাপাড়ার জনৈক রহমত আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া।
দাউদ শিকদারের অভিযোগ, ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর তার মেয়ে ইভা রহমানের সাথে আসামি সাদিক সরদারের বিয়ে হয়। প্রায় ৯ মাস আগে তার মেয়েকে নিয়ে যশোর শহরের নীলগঞ্জ সাহাপাড়ার ভাড়াবাড়িতে ওঠেন। সেখানে ৩ লাখ টাকা এবং একটি মোটরসাইকেল যৌতুকের দাবিতে প্রায় তার মেয়েকে মারধর করতে সাদিক সরদার। বিষয়টি জানতে পেরে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তিনি পর্যায়ক্রমে ২ লাখ টাকার সাংসারিক মালামাল ও সোনার অলঙ্কার যৌতুক হিসেবে দেন। তারপরও আসামি সাদিক সরদার যৌতুকের দাবিতে তার মেয়ে অমানুষিক নির্যাতন করতে থাকেন। গত ৩০ অক্টোবর রাত নয়টার দিকে সাদিক সরদার ২ লাখ টাকা এবং মোটরসাইকেল যৌতুক হিসেবে তার মেয়ের কাছে দাবি করেন। অপরাগতা প্রকাশ করলে সাদিক সরদার তার মেয়েকে লাঠি ও জুতা দিয়ে মারধর করেন। এমনকী তাকে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে রক্ষা করেন। বাড়িওয়ার কাছ থেকে মোবাইল ফোনে এ খবর পেয়ে দাউদ শিকদার যশোরে ছুটে আসেন। পরে মেয়েকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।
মারপিটের ঘটনায় যশোর কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর রাতে যশোর শহরের নীলগঞ্জ সাহাপাড়ায় এই ঘটনার পর ৪ নভেম্বর স্বামী সাদিক সরদারের বিরুদ্ধে মামলাটি করে ইভা রহমানের পিতা দাউদ শিকদার। আসামি সাদিক সরদার নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কুলশুর গ্রামের রশিদ সরদারের ছেলে। বর্তমানে সাদিক সরদার যশোর শহরের নীলগঞ্জ সাহাপাড়ার রহমত আলীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন।
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বৈদ্ধহাটি গ্রামের দাউদ সিকদার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর তার মেয়ে ইভা রহমানকে সাদিক সরদারের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। ৮/৯ মাস আগে জামাই সাদিক সরদার তার মেয়েকে নিয়ে যশোর শহরের নীলগঞ্জ সাহাপাড়ার রহমত আলীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। কিন্তু ভাড়া বাসায় সংসার করাকালে সাদিক সরদার তিন লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল যৌতুকের জন্য ইভা রহমানকে শারীরিক ও মানষিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। ফলে বাধ্য হয়ে এবং মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বর্ণালংকার ও সাংসারিক মালামালসহ দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল যৌতুক হিসেবে জামাই সাদিক সরদারকে দেয়া হয়। এরপরেও সন্তুষ্ট না হয়ে গত ৩০ অক্টোবর রাত নয়টার দিকে স্ত্রী ইভাকে মারপিট ও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে তার স্বামী সাদিক সরদার। এসময় ইভার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে ইভাকে রক্ষা করেন। এবং বাড়ি মালিক রহমত আলীর স্ত্রী মিনা বেগম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইভার পিতাকে জানান। এরপর তারা এসে ইভাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করান। এই ঘটনায় মামলা হলেও আসামি ইভার স্বামী সাদিক সরদারকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।