স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭টি নথি গায়েব

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি নথি গায়েব বা হারিয়ে গেছে। এ নিয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে মন্ত্রণালয়। শনিবার শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। শাহবাগ থানার ওসি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব বা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব নাদিরা হায়দার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নং ২০/১৭। শনিবার সচিবালয় বন্ধ থাকায় আজ থেকে তদন্ত শুরু হবে। কে বা কারা নথি গায়েব করেছেন সেটা খতিয়ে দেখা হবে। থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিডিতে ১৭টি নথির নম্বর ও বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে- শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজসহ অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজের কেনাকাটা সংক্রান্ত একাধিক নথি, ইলেকট্রনিক ডেটা ট্র্যাকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ু মুখ ও স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং কর্মসূচি, রিপোর্ট অধিদফতরের কেনাকাটা, ট্রেনিং স্কুলের যানবাহন বরাদ্দ ও ক্রয় সংক্রান্ত নথি। মন্ত্রণালয় যে জিডি করেছে, তাতে বলা হয়েছে, ২৭ অক্টোবর অফিস করে নথিগুলো ফাইল কেবিনেটে রাখা হয়। পরদিন দুপুর ১২টায় কাজ করতে গিয়ে দেখা যায় ফাইলগুলো কেবিনেটের মধ্যে নেই। এদিকে ফাইল হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবারই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আন-অফিশিয়ালি কাজ শুরু করেছে বলে সিআইডির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন:
এদিকে ফাইল গায়েবের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. শাহাদাৎ হোসাইন। তিনি জানান, ফাইল গায়েবের ঘটনায় শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) রাতে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. শাহ্ আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. আহসান কবীর এবং উপসচিব আবদুল কাদের। এ কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মো. শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, ফাইল গায়েব হওয়ার ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়ায় গেলাম, শাহবাগ থানায় জিডি করা হলো। আগামীকাল থেকে এর হদিস বের করার চেষ্টা করা হবে। রবিবার সব স্টাফরা অফিসে আসার পর পুলিশসহ সবাই তদন্ত করবে। ‘এটা অনেক ভয়াবহ একটা ব্যাপার, কারণ নথি তো একটা ডকুমেন্ট’ উলে¬খ করে তিনি বলেন, এবং সরকারি ডকুমেন্ট। এই সরকারি ডকুমেন্ট নাই এটা-তো বারবার ঘটতে পারে, এজন্য এ ধরণের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় এবং এর একটা ‘সলিউশন’ যেন হয় আমরা চেষ্টা করছি।