মৃত্যুও হতে পারতো এরিকসেনের, দাবি চিকিৎসকের

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ই (হৃদরোগে আক্রান্ত) হয়েছিল ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের। এমনকি যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে তিনি মৃত্যুও বরণ করতে পারতেন। এমনটাই দাবি করছেন ডেনমার্ক ফুটবল দলের চিকিৎসক মোর্টেন বোয়েসেন। তার মতে, এরিকসেন যেন পুনরুজ্জীবন পেয়েছেন। ২৯ বছর বয়সী এরিকসেনের অবস্থা এখনও অপরিবর্তিত। গতকাল (শনিবার) কোপেনহেগেনে ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৪৩ মিনিটের সময় একটি থ্রু ইন বল ধরতে গিয়েই মাঠে লুটিয়ে পড়েন ডেনিস মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকরা নেমে আসেন মাঠে। সবাই চেষ্টা করেন, তাকে সুস্থ করে তোলার। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেই নিতে হয়। বোয়েসেন বলেন, ‘সে তো প্রায় মারাই যাচ্ছিল। তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। দ্রুত চেষ্টার ফলে তাকে বাঁচিয়ে তোলার সম্ভব হয়েছে।’
ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের সাবেক ক্লাবের ডাক্তার তার অসুস্থতার ঘটনায় কিছুটা অবাকই হয়েছেন। টটেনহ্যামে থাকার সময়ে নাকি তিনি পুরো সুস্থই ছিলেন। এমনটাই দাবি করেছেন, ভারতীয় ডাক্তার সঞ্জয় শর্মা। তবে শনিবার মাঠে যে রকম পরিস্থিতি হয়েছিল এরিকসেনের, এরপরে তার বেঁচে যাওয়াটাই বড় বিস্ময় বলে মনে করছেন সঞ্জয়। তিনি বলেছেন, ‘তাকে সিপিআর দেওয়া হয়েছিল। সেটা দেখার পরেই মনে হয়েছিল, তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে বলটার দিকে দৌড়ানোর সময়েই কিন্তু মনে হল, টাল খেয়েছিল। পা আর চলছিলই না। এর পরেই সে পড়ে যায়। কিছুক্ষণের জন্য ছটফটও করে।’ সে সময় গোটা বিশ্বের মতো কেঁপে উঠেছিলেন ডাক্তার সঞ্জয়ও। তিনি বলেন, ‘একেবারে ঠিক সময়ে সিপিআর দেওয়া হয়েছে, তা না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। এ ক্ষেত্রে বাঁচার সম্ভবনা থাকে মাত্র ৭ শতাংশ।’ তবে সবার প্রার্থনায় এখন স্থিতিশীল রয়েছেন এরিকসেন। ২০২০ সালে টটেনহ্যাম ছেড়ে ইন্টার মিলানে চলে যান এরিকসেন। টটেনহ্যামের হয়ে ২২৬টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। গোল করেছেন ৫১টি। ২০১২ সালের এফএ কাপে ম্যাচ চলার সময়ে আচমকাই হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে মাঠেই লুটিয়ে পড়েছিলেন ফাব্রিস মুয়াম্বা। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই ফুটবল ছাড়তে হয়েছিল তাকে। ২৯ বছরের এরিকসেন যাতে আবার সুস্থ হয়ে ফুটবল মাঠে ফিরতে পারেন, তার জন্য প্রার্থনা করছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।

ভাগ