বিশ্বে করোনাকালেও বাড়ছে সামরিক-ব্যয়

জি. মুনীর
‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (এসআইপিআরআই) ২৭ এপ্রিল প্রকাশ করেছে এর ‘ট্রেন্ডস ইন ওয়ার্ল্ড মিলিটারি এক্সপেন্ডিচার, ২০২০’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়- বিশ্বজুড়ে ১৯৮৮ সাল থেকে সামরিক ব্যয় বেড়েই চলেছে। চলমান মহামারীকালেও বিশ্বের প্রায় সব দেশের আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি হলেও থামেনি সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানো প্রবণতা। ২০২০ সালেও দেখা গেছে বিশ্বে সামরিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে শীর্ষে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রত্যাশা ছিল বৈশ্বিক মহামারীতে বিশ্বনেতারা অন্তত কিছুটা হলেও মানবিক হবেন। মহামারী থেকে বিশ্ববাসীকে বাঁচাতে সম্মিলিত উদ্যোগে আগ্রহী হবেন। যুদ্ধবিগ্রহ থেকে মনোযোগ কিছুটা হলেও সরিয়ে আনবেন। বাস্তবে তা ঘটেনি। বরং বিশ্বসমাজ দেখল বিশ্বে মিলিটারিজমে বিশ্বাসী সরকারগুলো যুদ্ধোন্মাদনা মহামারীর সময়ে আরো জোরালো করে তুলেছে। বাড়িয়ে তুলেছে সামরিক ব্যয়। আলোচ্য প্রতিবেদন পাঠে যে কারো কাছে এমন ধারণাই জন্ম নিবে।
প্রতিবেনটিতে উল্লেখ করা হয়- ২০২০ সালে বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১৯৮১ বিলিয়ন ডলার। ১৯৮৮ সালের পরবর্তী সময়ে এটিই হচ্ছে বিশ্বে সর্বোচ্চ বার্ষিক সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ। এসআইপিআরআই ১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্বের সামরিক ব্যয়ের প্রবণতা ও ব্যয়ের পরিসংখ্যান প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করে আসছে। এতে উল্লেখ করা হয়- ২০২০ সালে প্রকৃত হিসাবে ২০১৯ সালের তুলনায় বিশ্বে সামরিক ব্যয় বেড়েছে ২.৬ শতাংশ, ২০১১ সালের তুলনায় ৯.৩ শতাংশ। গত এক দশকে বিশ্বে সামরিক ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছে এমন এক সময় যখন গোটা বিশ্বে করোনার বিরূপ প্রভাবে জিডিপির হার কমে গেছে ৪.৪ শতাংশ। বৈশ্বিক সামরিক বোঝা তথা গ্লোবাল মিলিটারি বার্ডেন জিডিপি বিবেচনায় ২০২০ সালে ০.২ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৪ শতাংশে। ২০০৯ সালের পর থেকে যে হারে প্রতি বছর এই গ্লোবাল মিলিটারি বার্ডেন বাড়ছে, এর মধ্যে ২০২০ সালের এই বার্ডেন বাড়ার হার সর্বোচ্চ। অবশ্য দক্ষিণ কোরিয়া ও চিলির মতো অনেক দেশ; ২০২০ সালের পূর্ব-পরিকল্পিত সামরিক ব্যয়ের তুলনায় ব্যয়ের মাত্রা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া ও ব্রাজিল ২০২০ সালের পূর্ব-পরিকল্পিত সামরিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনে। এসপিআইআরআই প্রতিবেদন উল্লেখ করেছে- যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক ব্যবধানে সামরিক ব্যয়ের দিক থেকে অন্যান্য দেশের তুলনায় এগিয়ে থেকে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। বিশ্বের মোট প্রতিরক্ষা-ব্যয়ের ৩৯ শতাংশই ব্যয় করে যুক্তরাষ্ট্র। শীর্ষ দশটি সামরিক ব্যয়ের দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় মাপের প্রবৃদ্ধির ধারক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অধিকতর ছোট আকারের বাজেট হলেও জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর হারের দিক থেকে ওয়াশিংটনের চেয়ে এগিয়ে।
সামরিক ব্যয়ের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। তবু আলোচ্য বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় চীনের তুলনায় তিন গুণ। বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের মাত্র ১৩ শতাংশ করে চীন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র করে ৩৯ শতাংশ। চীন এই সময় প্রতিরক্ষা খরচ বাড়িয়ে জাতীয় সামরিক বোঝা বাড়িয়ে তুলতে চায় না। কারণ, ২০২০ সালে এর অর্থনীতি ছিল শ্লথগতির। অন্যদিকে শীর্ষ পাঁচ সামরিক-ব্যয়ের দেশের তালিকায় রয়েছে ভারত, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্য। যদিও দেশ তিনটি প্রতিরক্ষা বাজেট চীনের তুলনায় অনেক ছোট, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় তো আরো কম। দশ সামরিক ব্যয়ের রাষ্ট্রের মধ্যে সৌদি আরব একমাত্র দেশ যেটি ২০২০ সালে এর প্রতিরক্ষা-ব্যয় কমিয়ে আনে। আলোচ্য প্রতিবেদন মতে, ২০২০ সেরা পনেরো সামরিক-ব্যয়ী দেশের মোট সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬০৩ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের ৮১ শতাংশ। ২০১৯-২০২০ সময়ে সেরা পনেরো দেশের সামরিক ব্যয়ের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। সবিশেষ উল্লেখযোগ্য, শীর্ষ পনেরো দেশের মধ্যে ইসরাইল এসেছে তুরস্কের স্থানে আর যুক্তরাজ্য চলে এসেছে সৌদি আরবের উপরের অবস্থানে। ২০২০ সালে সৌদি আরবের সামরিক ব্যয় কমেছে ১০ শতাংশ। যুক্তরাজ্য এখন এ ক্ষেত্রে সেরা পাঁচে।
আমেরিকা সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়- শীর্ষ সাময়িক ব্যয়ের দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের সামরিক বাজেটের আয়তন ছিল ৭৭৮ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের ৩৯ শতাংশ। শীর্ষ বারোটি দেশের সম্মিলিত সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ আর যুক্তরাষ্ট্রের এ খাতের ব্যয়ের পরিমাণ সমান। ২০২০ সালে দেশটির মিলিটারি বার্ডেনের পরিমাণ ছিল দেশটির জিডিপির ৩.৭ শতাংশের সমান, যা পার্সেন্টেজ পয়েন্টে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ০.৩ শতাংশ বেশি। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ২০১৯ সালের তুলনায় ছিল ৪.৪ শতাংশ বেশি। ২০২০ সালটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় ধারাবাহিক বছর, যেখানে দেশটির সামরিক ব্যয় বাড়ানো অব্যাহত ছিল। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক ব্যয়ের দেশ চীন সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়- দেশটি সামরিক খাতে বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের ১৩ শতাংশের সমান ব্যয় করে। চীন ২০২০ সালে সামরিক খাতে ব্যয় করে ২৫২ বিলিয়ন ডলার, যা দেশটির ১.৭ শতাংশ জিডিপির সমান। এই পরিমাণ ২০১৯ সালের তুলনায় ১.৯ শতাংশ বেশি। চীনের সামরিক ব্যয় একাধারে ২৬ বছর ধরে বেড়েই চলেছে। পেছনে কাজ করেছে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যমতে, ক্ষমতার রাজনীতি-সংশ্লিষ্ট জাতীয় নিরাপত্তার সম্ভাব্য হুমকির কথা ভেবেই চীনের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়- ২০২০ সালে ভারতের সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৭২.৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২.১ শতাংশ বেশি। ২০১১ সালের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। এর পেছনে কাশ্মির নিয়ে পাকিস্তানের সাথে মতদ্বৈধতা ও চীনের সাথে চলমান সীমান্ত উত্তেজনা ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য। তবে চীন নিয়ে ভারতের নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কাই দিল্লির সামরিক বাজেটকে বেশি স্ফীত করেছে। প্রতিবেদন মতে, ২০২০ সালে রাশিয়ার সামরিক ব্যয় ছিল ৬১.৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৯-এর তুলনায় ২.৫০ শতাংশ বেশি। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে দেশটির সামরিক বাজেট কমার পর ২০১৯ ও ২০২০ সালে ফের বেড়েছে। ২০১৭ সালের আগে রাশিয়ার সামরিক বাজেট পরপর ১৮ বছর বাড়ানোর প্রবণতা বিদ্যমান ছিল। ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর ২০২০ সালের সম্মিলিত সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ ১১০৩ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বের শীর্ষ পনেরো সামরিক ব্যয়ের দেশের মধ্যে ৬টি দেশ ন্যাটোভুক্ত: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও কানাডা। এই ৬টি দেশের সামরিক ব্যয় ৯৯৫ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের অর্ধেকের সমান। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শীর্ষ পনেরো সামরিক ব্যয়ের দেশের মধ্যে প্রায় সব দেশই ২০১৯ ও ২০২০ সালের মধ্যে মিলিটারি বার্ডেন বাড়িয়েছে। অথচ করোনায় এ সময়ে প্রায় সব দেশের জিডিপির হার কমেছে। ২০২০ সালের শীর্ষ পনেরো সামরিক ব্যয়ের দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মিলিটারি বার্ডেন বেড়েছে সৌদি আরব (+০.৬ পার্সেন্টেজ পয়েন্টে), (রাশিয়া +০.৫ পার্সেন্টেজ পয়েন্ট), ইসরাইল (-০.৪ পার্সেন্টেজ পয়েন্ট) এবং যুক্তরাষ্ট্র (+০.৩ পার্সেন্টেজ পয়েন্ট)।
২০২০ সালে সামরিক ব্যয় কেন্দ্রীভূত ছিল বিশ্বের পাঁচটি অঞ্চলের দুটিতে : আমেরিকা (৪৩ শতাংশ) ও ( এশিয়া ও ওশেনিয়া (২৭ শতাংশ)। এই দুই অঞ্চলের সামরিক ব্যয় বিশ্বের মোট ব্যয়ের দুই-তৃতীয়াংশের সমান। ২০২০ সালে ইউরোপের সামরিক ব্যয় ছিল মোট বিশ্বব্যয়ের ১৯ শতাংশ। ফলে এটি পরিণত হয়েছে তৃতীয় বৃহত্তম সামরিক ব্যয়ের অঞ্চলে। আফ্রিকায় সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ সবচেয়ে কম; এ অঞ্চলের মোট সামরিক ব্যয় বিশ্ব সামরিক ব্যয়ের ২.২ শতাংশ। সীমিত তথ্য-উপাত্ত সূত্রে পাওয়া পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়- মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের মোট সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ বিশ্বব্যয়ের ৯ শতাংশের সমান। মিলিটারি বার্ডেনের দিক থেকে শীর্ষে থাকা বিশ্বের দশটি দেশের মধ্যে ৫টিই মধ্যপ্রাচ্যের। ওমানের ২০২০ সালের সামরিক ব্যয় জিডিপির ১১ শতাংশ। সৌদি আরবের জিডিপির ৮.৪ শতাংশ, কুয়েতের জিডিপির ৬.৫ শতাংশ, ইসরাইলের জিডিপির ৫.৬ শতাংশ এবং জর্দানের জিডিপির ৫.০ শতাংশ। আলজেরিয়ার সামরিক ব্যয় জিডিপির ৬.৭ শতাংশ, আজারবাইজানের জিডিপির ৫.৪ শতাংশ, আর্মেনিয়ার জিডিপির ৫.৯ শতাংশ, মরক্কোর জিডিপির ৪.৩ শতাংশ ও রাশিয়ার ৪.৩ শতাংশ। প্রতিবেদনটির তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে স্পষ্টতই বুঝা যায়, করোনাকালেও বিশ্বজুড়ে সামরিকায়নের তথা সামরিক ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারিনি। বরং এ সময়ে সামরিকায়নের প্রক্রিয়া ও প্রবণতাকে আরো জোরদার করা হয়েছে। কারণ, বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের নেতারা তাদের মাথা থেকে মিলিটারিজমের ভূত তাড়াতে পারেননি। বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় অব্যাহত বাড়ানোর মুখ্য কারণ এই মিলিটারিজমের প্রতি বিশ্বনেতাদের স্থিতিশীল আনুগত্য। এ থেকে বেরিয়ে আসা ছাড়া যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়বেই। এর প্রভাবে দেশে দেশে বাড়বে অস্ত্র উদ্ভাবন-উৎপাদন ও কেনাবেচার মরণ খেলা। মানুষ মুখোমুখি হবে দুঃসহ দুর্ভোগ, নির্যাতন-নিপীড়ন নির্বিচার হত্যার শিকার ইতিহাস চিহ্নিত হবে নতুন জাতি-নিধন আর গণহত্যা নামের কালো অধ্যায়ের।
মিলিটারিজম হচ্ছে একটি দেশের সরকারের বা জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস বা প্রত্যাশার নাম। এতে বিশ্বাসীরা মনে করে- একটি রাষ্ট্রকে শক্তিধর সামরিক সক্ষমতা ধারণ করতে হবে। সামরিক শক্তি আগ্রাসীভাবে ব্যবহার করতে হবে জাতীয় স্বার্থ, ভাবমর্যাদা ও শৌর্যবীর্য সম্প্রসারের কাজে। আরো মনে করা হয়, একটি দেশের প্রশাসনে সেনাবাহিনীর প্রাধান্য থাকা উচিত। ইতিহাসজুড়ে মিলিটারিজম একটি উল্লেখযোগ্য উপাদান ছিল সাম্রাজ্যবাদী, সম্প্রসারণবাদী দেশগুলোর নীতি-আদর্শে। উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে আসিরীয় সাম্রাজ্য, গ্রিক নগররাষ্ট্র স্পার্টা, প্রুশিয়া কিংডম, বিভিন্ন রাজতন্ত্র, ওসমানীয় ও জাপান সাম্রাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, মুসোলিনির শাসনামলের ইতালি, জার্মান ও নেপোলিয়ানের শাসনাধীন প্রথম ফরাসি সাম্রাজ্যে। এর মধ্যে বহু সাম্রাজ্যের অবসান ঘটেছে। তবে এখনো পৃথিবী সেই মিলিটারিজমের বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। বিশ্বের অনেক দেশ এখনো সেই অতীতের মিলিটারিজমকে আঁকড়ে ধরে আছে। যুক্তরাষ্ট্র এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্রসহ এর মিত্ররা সন্ত্রাস দমনের নামে মিলিটারিজমের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে চলেছে। এ সম্প্রসারণের ব্যাপকতা আঁচ করা যায়, স্মিথসোনিয়ান’ ম্যাগাজিনের ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন পাঠে। ওই প্রতিবেদনে একটি ইনফোগ্রাপ মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। এতে দেখানো হয়, ইউএস আর্মি বিশ্বের কোন কোন দেশে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে নানা কিসিমের যুদ্ধ জারি রেখেছে। স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিনের মানচিত্র অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনী এখন বিশ্বের ৪০ শতাংশ দেশে সামরিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
ভাগ