তিস্তা নিয়ে আলোচনা নয়, সমাধানই কাম্য

0

একদা প্রমত্তা ও খরস্রোতা তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বাংলাদেশ অংশে কমছে দিন দিন। নদীর উজানে পানির প্রবাহ কমতে থাকায় এবং ভাটি এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ধু ধু বালুচর পড়ায় বর্তমানে একটি সরু নালার আকার ধারণ করেছে কল্লোলিনী তিস্তা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের খবর অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বাংলাদেশের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ থাকে মাত্র ৪ হাজার কিউসেক। জানুয়ারিতে সেটি এসে দাঁড়ায় মাত্র ১২শ’ কিউসেকে। নিকট অতীতের গড় প্রবাহের তুলনায় তা নেমে এসেছে সাত শতাংশে। ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গ সরকার তিস্তার উজানে গজলডোবা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে পানির প্রবাহ অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার ফলেই একদার প্রমত্তা নদীটির এহেন করুণ দশা। বর্তমানে বাংলাদেশ অংশে তিস্তার অবস্থা মৃতপ্রায় এক নদী। এ থেকে তিস্তা নদী রার ল্েয এবং সেচ প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে ভারতকে ন্যায়সঙ্গত পরিমাণ পানি ছাড়তে দিল্লীকে দীর্ঘদিন থেকে অনুরোধ জানিয়ে আসছে ঢাকা। সত্যি বলতে কী, তিস্তা চুক্তি এখন বাংলাদেশের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি দিল্লীতে বাংলাদেশ-ভারতের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ আবারও বহু প্রতীতি তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ভারতকে। একই সঙ্গে সীমান্ত হত্যা নামিয়ে আনতে বলেছে শূন্যের কোঠায়। এর পাশাপাশি মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টিতে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে ভারতকে। এদিকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বেসরকারি সংস্থা এ্যাকশন-এইড আয়োজিত তিন দিনের এক আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলনে ভারতের কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক-গবেষক বলেছেন, তিস্তা নদীর উজানে বড় বাঁধ নির্মাণের ফলে তিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি এও বলেন, আন্তঃদেশীয় পানি ব্যবস্থাপনা দণি এশিয়ায় একটি উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে তিস্তার পানিপ্রবাহ নেমে গেছে প্রায় শূন্যের কোঠায়। এর সমাধানে বর্ষা মৌসুমে পানি সংরণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে হবে। এই প্রোপট ও বাস্তব অবস্থার নিরিখে জরুরি ভিত্তিতে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির জন্য বাংলাদেশের বিশেষ অনুরোধ ভারত আমলে নেবে বলেই প্রত্যাশা।
ইতোপূর্বে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার বাংলাদেশ সফরেও উঠে আসে বিষয়টি। দীর্ঘদিন পর শুক্রবার বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদ্বয়ের যৌথ পরামর্শক কমিটি (জেসিসি) বৈঠকটি করান ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হলেও সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে দীর্ঘদিন থেকে অমীমাংসিত তিস্তাসহ পানি বণ্টন সমস্যা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, প্রতিরা নিরাপত্তা, কানেক্টিভিটি, জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, অর্থচুক্তির অর্থ ছাড়, ব্যবসা বাণিজ্যসহ আন্তঃবাণিজ্য বৃদ্ধি এমনকি পেঁয়াজ-ইলিশ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারত বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ দিয়েছে। ঢাকায় এসেই তিনি দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে বিরাজমান সমস্যাসমূহের দ্রুত আন্তরিক সমাধানে উদ্যোগী হয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগামী বছরের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তখন তিস্তাসহ দু’দেশের মধ্যে বিরাজমান অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।