ঝরে গেল একটি বছর

0

কোভিড-১৯ মহামারী বিশ্বের প্রায় সব দেশের জাতীয় অর্থনীতিরসমূহ তি করলেও সম্ভবত সর্বাধিক তিগ্রস্ত হয়েছে শিাব্যবস্থা। সত্যি বলতে কি, জাতীয় অর্থনীতির য়তি দু’দিন আগে-পরে হলেও কমবেশি পুষিয়ে নেয়া যায়। হয়তবা কিছুটা ত্যাগ স্বীকার করে মানিয়ে নেয়াও সম্ভব। কিন্তু শিার েেত্র এমনটি বলা চলে না। করোনাক্রান্ত বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বিশেষ করে সব শ্রেণীর শিার্থীর জীবন থেকে ঝরে গেল একটি বছর। করোনা সংক্রমণের কারণে বাংলাদেশে গত ১৭ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে ছুটি বাড়ানো হয়েছে প্রায় সব শিা প্রতিষ্ঠানের। সর্বশেষ এই ছুটি বর্ধিত করা হয়েছে ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। দীর্ঘদিন থেকে শিা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় প্রায় চার কোটি শিার্থীর নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে। উচ্চশিার েেত্রও তাই। ফলে, স্বভাবতই দারুণ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় পার করতে হচ্ছে অভিভাবকদেরও। কেননা, কবে নাগাদ স্কুল খুলবে, পাঠদান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সর্বোপরি পরীা গ্রহণসহ নতুন কাসে ওঠা সম্ভব হবে- সে সবই হয়ে পড়েছে একেবারে অনিশ্চিত। শিামন্ত্রক চাইছে, শিক ও শিার্থীদের নিরাপদ রাখতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে। প্রশ্ন হলো, এভাবে আর কতদিন? করোনার টিকার প্রথম ডোজ জানুয়ারি নাগাদ দেশে আসবে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে প্রথম ধাপের টিকা দেয়া হবে প্রথম সারির করোনাযোদ্ধা স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তার-নার্স-সাংবাদিক-ভিআইপি শ্রেণীর কর্মকর্তাদের। দেশের সব শিক ও শিার্থীকে করোনার টিকার আওতায় আনতে অনেক সময় লাগবে। ততদিন পর্যন্ত শিার কি হবে- একেবারে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিা পর্যন্ত? রেডিও-টেলিভিশন, ইন্টারনেটসহ ডিজিটাল মাধ্যমে সীমিত পরিসরে শিাদানের কিছু চেষ্টা এবং পরীা গ্রহণ সম্ভব হলেও এর সুবিধা সর্বত্র সম্প্রসারিত করা যায়নি সঙ্গত কারণেই। অটোপ্রমোশন কিংবা অতীতের ফলের ভিত্তিতে রেজাল্ট দেয়া আসলে কোনো সমাধান নয়, নয় লটারীতে ভর্তিও। উন্নত বিশ্ব এেেত্র কিছু সফল হলেও সর্বাংশে হয়নি। সুতরাং স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং ইউনিসেফের গাইড লাইন অনুযায়ী আগামীতে শিা প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে খুলে দেয়া যায়, সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এখন থেকেই। সবচেয়ে বড় কথা, শিা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবার জাতীয় পর্যায়ের বহু প্রতীতি পাঠ্যপুস্তক উৎসব অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে; যা কোটি কোটি শিার্থীর জন্য নিদারুণ হতাশার সৃষ্টি করতে পারে। এ থেকে পরিত্রাণের কথাও ভাবতে হবে।
এমনিতেই প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিার্থী ঝরে পড়ে। দেশে করোনার কারণে এবার তা আরও বাড়বে। তারা কোথায় যাবে বা কি করবে, জীবন-জীবিকাইবা নির্বাহ করবে কিভাবে? তা নিয়ে রাষ্ট্র তথা শিা মন্ত্রণালয়ের ভাববার অবকাশ আছে বৈকি। এই সমস্যার সমাধানে দেশে বিভিন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিার সম্প্রসারণ অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের কথাও শোনা যাচ্ছে এখন। সেেেত্র নিয়মিত শিাদান আরও ব্যাহত হবে একথা মাথায় রেখে সংশ্লিষ্টদের বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হবে অবশ্যই। আমরা মনে করি, সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা সচল করতে বিকল্প পথ অবশ্যই আবিস্কার করবে। এক্ষেত্রে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষ বৃদ্ধি করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবাস বৃদ্ধির পাশাপাশি দিবা ও নৈশ কোর্স চালু করতে পারে। আমরা আশা করবো, সরকার বিষয়টি ভেবে দেখবে ?