বন্ধ হয়ে যেতে পারে দোকান আশংকায় বাজারে নারীর আধিক্য, সাথে শিশু!

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দণি-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় ফের লকডাউন ঘোষণার পর যশোরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে দোকান এমন ধারনায় বাজারে নারীর আধিক্য পরিলতি হয় গতকাল শুক্রবার। তাদের সাথে ছিল শিশু সন্তানেরা। যা রীতিমতো ঝুকিপূর্ণ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন সচেতন ব্যক্তিরা। অপরদিকে বাজারে আসা নারীরা বলেছেন, এমন ভিড় হবে ভাবিনি। গত ১০ মে থেকে সরকারি নির্দেশনায় ঈদ উপলক্ষে সারাদেশে সীমিত পরিসরে বাজার খুলে দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যশোরের বাজারগুলো সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া প্রথম দিনেই মানুষ সব বাঁধা উপেক্ষা করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়াই যশোরের বাজারে দলবেঁধে নেমে আসে। এতে সামাজিক দূরত্ব বা নিরাপত্তা একেবারেই ভেঙে পড়ে। শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। এরই মধ্যে শুক্রবার থেকে খুলনা, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ায় ব্যাপক জনসমাগম এড়াতে ফের লকডাউন ঘোষণা করেছে সেখানকার প্রশাসন।
গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই যশোর বাজার ও বিপনিবিতানগুলোতে ছিল ভিড়। শহরের বড়বাজারে দুপুরের মধ্যে জনস্রোতের সৃষ্টি হয়। যা দেখে দোকান মালিক ও কর্মচারীরাই আতঙ্কিত বোধ করেন। বাজারের ছিট কাপড়, তৈরি পোশাক, প্রসাধন ও জুতোর দোকানগুলোতে ঠাসাঠাসি ভিড় চোখে পড়ে। ভিড় ছিল ফুটপাতের দোকানগুলোতেও। সকলের ব্যস্ততা কত দ্রুত ঈদের বাজার শেষ করা যায়। কারো আচরণেই মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে কোন সতর্কতা পরিলতি হয়নি। দোকানগুলোর সামনে তাদের একজন করে কর্মী হ্যান্ডস্যানিটাইজারের ¯েপ্র বোতল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও সেদিকে নজর ছিল না অধিকাংশের। পরষ্পরের দূরত্ব বজায় রাখার কোন ইচ্ছাই দেখা যায়নি। আবার নারীদের সাথে থাকা শিশুদের সিংহভাগের মুখেই ছিল না মাস্ক। সব মিলিয়ে করোনাভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাবের বিপজ্জনক সময়ে ভীতিকর এক অবস্থা দেখা যায় যশোরের বাজারে।
এসব মানুষের অধিকাংশই ছিলো নারী ও শিশু। জুমার নামাজের পর যশোর এইচএমএম রোডস্থ কাপুড়িয়া পট্টি ও কালেক্টরেট মার্কেটে গিয়ে দেখা হাজার হাজার নারী ও শিশুর উপস্থিতিতে সেখানে পা ফেলা যাচ্ছিল না। এসব নারীরা কেউ কাপড়ের দোকানে, কেউ শাড়ি বা থ্রিপিসের দোকানে আবার কেউ জুতা ও কসমেটিকসের দোকানে ভিড় জমিয়েছেন। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এদের অধিকাংশের মুখেই নেই মাস্ক, নেই হাতে গ্লাভস। প্রত্যেক মহিলার সাথে এক থেকে দুই জন করে শিশু সন্তান রয়েছে। এইচএমএম রোডের স¤্রাট সুতে জুতা ও স্যান্ডেল কিনেছেন নাদিরা সুলতানা নামে এক গৃহিনী। দুই শিশু কন্যাকে নিয়ে তিনি এসেছেন বসুন্দিয়া থেকে। তার মুখে মাস্ক থাকলেও তার দুই শিশুর মুখে কোনো কিছুই ছিলো না। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এভাবে বাচ্চাদের নিয়ে বাজারে আসলেন কেনো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুনেছি কাল থেকে মার্কেট বন্ধ তাই চলে আসলাম। কিন্তু এমন ভিড় হবে তা জানতাম না।
একই কথা বলেন আলেয়া বেগম নামে আরেক মহিলা। তিনি এসেছেন যশোরের মনিরামপুরের বেগারীতলা থেকে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ ঘরে আটকে ছিলাম। ঈদের বাজারে আসবো আসবো বলে সময় হয় না। কিন্তু হঠাৎ শুনলাম বাজার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই ছেলের দুই মেয়েকে নিয়ে কিছু কেনাকাটা করতে আসলাম। এদিকে বাজারে নারীদের এ অস্বাভাবিক উপস্থিতিতে বিক্রেতারাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। ব্যবসায়ীরা বলেন, ক্রেতারা দোকানে আসলে ভালো লাগে। কিন্তু এভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়াই মানুষ বাজারে আসাতে আমরা চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। বাজারে অবস্থানরত ফোড়ের সত্ত্বাধিকারী ও চারুপীঠ যশোরের সাধারণ সম্পাদক কাজী মামুনুর রশীদ এ অবস্থায় বলেন, এতো ভয়াবহ অবস্থা। মহামারী বলে একটা কিছুর প্রাদুর্ভাব চলছে বাজারের ভীড় দেখে তা মনেই হচ্ছে না। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি দেয়া উচিৎ বলে মনে করেন। এ বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শফিউল আরিফ বলেন, সীমিত পরিসরে বাজার খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা। এছাড়া বাজারে কোনো শিশু ও বয়স্কদের না আনা। কিন্তু এসব অনেকেই মানছেন না। এটি খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমাদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা ছাড়াও ভ্রাম্যমান আদালত দিয়ে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এরপরও যদি আইন অমান্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।