চারটি ছাড়া দাম কমেছে সব পণ্যের

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ পবিত্র রোজার মাসের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। এ সপ্তাহে চারটি ছাড়া বাকি সব পণ্যের দাম কমেছে। তবে রোজার আগেই বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে এখনও অস্বস্তি রয়েছে। বাজারগুলোর তথ্য বলছে, ব্রয়লার মুরগি, জিরা, শুকনো মরিচ ও ডালের (মোটা দানা) দাম বাড়লেও সবজি, আদা, চিনি, ছোলাসহ বাকি সব পণ্যের দাম কমেছে। শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজের দাম কমে প্রতি কেজি ৩৫ টাকায় নেমেছে। গত সপ্তাহে পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা করে কেজি বিক্রি হয়েছে।
রোজার ইফতারির জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য খেজুরের দাম কমেছে কেজিতে ৫০ টাকার মতো। গত সপ্তাহে যে খেজুর ২৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে, এখন সেই খেজুর ২২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর যে খেজুর ৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে, এখন তা ৩০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছোলার দাম কমেছে কেজিতে ৫ টাকার মতো। গত সপ্তাহে ৯৩ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ছোলা আজ বিক্রি হয়েছে ৮৮ টাকা কেজি।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে দাম কমার তালিকায় রয়েছে রসুন, পেঁয়াজ, খেজুর, ছোলা, সয়াবিন, পাম তেল, চাল ও আদা। করোনার প্রকোপের মধ্যে আদার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। এরপর আদার পাইকারি বাজারে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করায় এখন দাম কমে এসেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে আদার দাম অর্ধেকের নিচে নেমেছে। আর পাইকাররা চিনির দামও কমিয়েছেন। এ কারণে খুচরা বাজারেও চিনির দাম কমেছে। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আদার দাম এখন কমে ১৪০-১৬০ টাকা হয়েছে। ৭০-৭৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া চিনির দাম কমে ৬২-৬৫ টাকা হয়েছে।
এদিকে দেশি মুরগি, গরু, খাসির মাংস ও ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি। ডিমের ডজন আগের মতোই ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা করে। আর খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০- ৯০০ টাকায়। মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬৫ টাকা কেজি, মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫২ টাকা, গরিবের মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪৫ টাকা। বাজারে লুজ সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ৯০-৯৫ টাকা, ভালো মানের পাম অয়েল ৭৫-৮০ টাকা। বড় দানার মসুর ডাল ৯০-১০০ টাকা, ছোট দানার মসুরের ডাল প্রতিকেজি ১৩০-১৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সবজির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করছে। গত সপ্তাহের মতোই প্রতি হালি লেবু বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। প্রতিকেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়। প্রতিকেজি শসা ৩০ থেকে ৪৮ টাকা, বেগুনের কেজি গত সপ্তাহের মতো ৪০-৫০ টাকা। পাকা টমেটো বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা, করলার কেজি ৩০-৪০ টাকা। বরবটি ৪০-৫০ টাকা কেজি। পেঁপে ৩০-৪০ টাকা কেজি। পটল ৪০-৫০ টাকা, ঝিঙা ৪০-৫০ টাকা এবং চিচিংগা ২০-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ পর রাজধানীর গোপীবাগ রেলগেট বাজারে এসেছিলেন মানিক নগর এলাকার বাসিন্দা আলম কিরণ। তিনি বলেন, ‘রোজা শুরুর আগের দিন বাজারে যে উত্তাপ ছিল, এখন সে উত্তাপ নেই। গত সপ্তাহের তুলনায় ছোলা আর খেজুরের দাম কমেছে। তবে রোজার আগে বেড়ে যাওয়া অধিকাংশ পণ্যের দাম এখনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি।’