পিপিই ও প্রণোদনা ছাড়াই নীরবে কাজ করছেন রেলওয়ের কর্মচারীরা

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ সারাদেশে যখন লকডাউন পরিস্থিতিতে তখন বাংলাদেশ রেলওয়ের মালবাহী ট্রেনগুলো চলাচল করছে। এসব ট্রেনে জ্বালানি তেল, খাদ্যশস্য, বিভিন্ন কন্টেইনার, গার্মেন্টস পণ্য ইত্যাদি পরিবহন করা হচ্ছে। এই রেল চলাচল সচল রাখতে অনেক রেলকর্মীকে করোনা পরিস্থিতিতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, কর্মরত রেলওয়ে কর্মীদের জন্য কোনও ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) নেই, নেই কোনও প্রণোদনার প্রতিশ্রুতি। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন তারা। সচল রেখেছেন বাংলাদেশ রেলওয়েকে। বিভিন্ন পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। করোনা মোকাবিলার যুদ্ধে শামিল হওয়া ডাক্তার, নার্সদের জন্য ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা বা আর্থিক সুবিধা ঘোষণা করলেও এখন পর্যন্ত রেলওয়ের এসব কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য কোনও সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের চারটি ডিভিশনাল, দুইটি জোনাল এবং রেলভবনস্থ সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। সেখান থেকে রেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন স্টেশন মাস্টার, পোর্টার, পয়েন্টসম্যানরা। এছাড়াও একটি ট্রেন চলাচলের জন্য প্রস্তুত করতে টিএক্সআর-এর কর্মীবাহিনীও কাজ করে। মালামাল পরিবহনের জন্যে ওয়াগন ফিট দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। রেল চালানোর জন্যে এলএম, এএলএম এবং ট্রেন পরিচালনার জন্যে গার্ডরা নিয়োজিত আছেন, তারাও কাজ করে যাচ্ছেন। রেলওয়ে বিভাগের সংকেত বিভাগের কর্মীরা সিগনাল যেনও বিকল না হয় সেজন্যে মাঠ পর্যায়ে দিনরাত কাজ করছেন। সচেষ্ট আছেন রেলপথ ও সেতু রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মীরাও। বৈদ্যুতিক বিভাগও তাদের টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। রেলওয়ে বিভাগের হিসাব বিভাগ বেতন, পেনশনসহ জরুরি বিষয়াদি সম্পাদনে নিয়মিতভাবে কাজ করছে। তাদেরকে সহযোগিতা করছে বাণিজ্যিক বিভাগ। একইসঙ্গে মালগাড়ি পরিবহন যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, মাল উত্তোলন এবং খালাস যেন নিয়মমাফিক হয় সেই দিকটা বাণিজ্যিক বিভাগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এদের সঙ্গে যৌথভাবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে রেলওয়ে পুলিশ বিভাগ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। বসে নেই বাংলাদেশ রেলওয়ের হাসপাতালগুলোতে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান, গেটকিপার, ওয়েম্যান, কি-ম্যান, খালাসিরাও। তারাও কাজ করে যাচ্ছেন। সঙ্গে রয়েছেন গাড়ি চালকরাও। কাজ করে যাচ্ছেন রেলের পরিচ্ছন্ন কর্মীরাও। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কমলাপুর রেলস্টেশনের একজন গার্ড নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত, এ সময়ে কাজ করতে হবে। তাই কাজ করছি। কী হবে তা ভেবে মন খারাপ করতে চাই না। হায়াত-মউত তো আল্লাহর হাতে—এটা মনে করেই কাজ করছি। তিনি বলেন, কোনও প্রকার পিপিই ছাড়াই তো এতোদিন কাজ করলাম। এছাড়া কোনও বাড়তি সুযোগের কথাও তো কেউ বলেনি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের এই ক্রান্তিকালে টিমওয়ার্ক এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিবারের সবাই জাতিকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। রেলের অনেক কর্মী নীরবে, নিভৃতে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন যেটা হয়তো অনেকেই জানেও না। একটি রেলগাড়ি চালানোর জন্য যে মেকানিজম প্রয়োজন হয়, ১০টি রেলগাড়ি চালানোর জন্য সেই একই মেকানিজমের প্রয়োজন হয়। রেলবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন। এক প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সচিব বলেন, করোনা ঝুঁকি মোকাবিলায় এসব কর্মকর্তা কর্মচারীদের মেডিক্যাল পিপিই নয়, সামান্য কিছু সাধারণ মানের পিপিই দেওয়া হয়েছে। তবে তা মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীরা পেয়েছেন কিনা জানি না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, করোনা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা চিকিৎসক, নার্স ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য বিভিন্ন প্রকার আর্থিক সুযোগ সুবিধা দিলেও এখনও পর্যন্ত রেল বিভাগের কর্মচারীদের জন্য কোনও আর্থিক সুবিধা বা প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে না। তবে বিষয়টি নিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব।