রয়ে গেছে কেমিক্যাল গোডাউন, থেমে গেছে অভিযান

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ পুরান ঢাকার চকবাজারে চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের ভবনে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি লাগা ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় এক বছর পেরিয়ে গেছে। ওইদিন রাত ৩টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ২০০ কর্মী। আগুনে ঘটনাস্থলেই ৬৭ জন নিহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও চারজন। ওই ঘটনার পর পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউনগুলো সরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেয়া হয়। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ঢাকঢোল পিটিয়ে কেমিক্যাল গোডাউন সরানোর অভিযান শুরু করে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি। গোডাউন উচ্ছেদ করতে টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান পরিচালনা করা হলেও ওই বছরের ১ এপ্রিল থেকে থেমে যায় অভিযান। সেই অভিযানে ১৭০টি গোডাউন সিলগালা করা হয়। কিন্তু এরপর আর অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় এলাকাবাসী বলছেন, এখানে এখনও কেমিক্যাল গোডাউন থাকায় আমরা খুবই ভয়ের মধ্যে থাকি। মনে হয় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এলাকাবাসীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এলাকা থেকে সব কেমিক্যাল গোডাউন সরিয়ে নেয়া উচিত।
চুড়িহাট্টায় আগুনের ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ভবন থেকে জব্দ করা হয় কেমিক্যাল, জরিমানা করা হয় অনেক ভবন মালিককে। তবে এখনও পুরান ঢাকার আরমানিটোলা, শাবিস্তান হল গলি, বংশাল, মাহুতটুলী, নাজিমউদ্দিন রোড, মিটফোর্ড ঘুরে অসংখ্য আবাসিক ভবনের নিচে কেমিক্যাল মজুত অবস্থায় দেখা গেছে। এমনকি চুড়িহাট্টায়ও দেখা যায় একই চিত্র। মাহুতটুলী এলাকার বাসিন্দা মকিদুর রহমান বলেন, সে সময় পাঁচটি টিমের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে অনেক কেমিক্যাল গোডাউন সিলগালা করে দেয়। এসব গোডাউনের বাড়ির বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। কিন্তু পরে এমন অভিযান আর পরিচালিত হয়নি। ফলে পুরান ঢাকার আরমানিটোলা, শাবিস্তান হল গলি, বংশাল, মাহুতটুলী, নাজিমউদ্দিন রোড, মিটফোর্ড এলাকার অনেক আবাসিক ভবনের নিচে কেমিক্যালের কারখানা রয়ে গেছে। ফলে এসব এলাকায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষ সবসময় আতঙ্কিত অবস্থায় থাকেন। এদিকে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে ডিএসসিসি। এসব পরিবারের কাউকে চাকরি, কাউকে দোকান বরাদ্দ, আবার কাউকে আর্থিক সহায়তা করেছে করপোরেশন। গত ২০ ফেব্রুয়ারি নগর ভবন থেকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত-নিহতদের স্বজনদের পুনর্বাসনকল্পে দোকান ও চাকরি এবং আর্থিক সহায়তা তুলে দেন ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। সহায়তার অংশ হিসেবে এসব পরিবারের মধ্য থেকে ২১ জনকে চাকরি, দুজনকে দোকান বরাদ্দ এবং চারজনকে দুই লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয় ডিএসসিসি। এছাড়া উচ্চশিক্ষিত আরও চারজনকে চাকরি দেয়ার ঘোষণা দেন মেয়র সাঈদ খোকন। কেমিক্যাল গোডাউনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সাঈদ খোকন বলেন, পুরান ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পণ্যের ব্যবসা চলে। তবে এগুলো বন্ধে বিভিন্ন সময় ডিএসসিসি পদক্ষেপ নিয়েছে। নিমতলীর অভিজ্ঞতা থেকে রুটিনওয়ার্ক হিসেবেই কাজ করতো ডিএসসিসি। তবে চাইলেই এসব দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া যায় না। তিনি বলেন, ঢাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ হয় এখান থেকে। এগুলো হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে তার নেতিবাচক প্রভাবও পড়বে। কিন্তু জীবনের আগে তো ব্যবসা নয়। জীবন আর জীবিকার সংগ্রামের সমন্বয় করতে আমরা চেষ্টা করছি। তবে এসব গোডাউন সরিয়ে নিতে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আশা করি, সবার চেষ্টায় আমরা নিরাপদ ঢাকা শহর গড়ে তুলব।