ধর্ষণের বিরুদ্ধে সরকারকেই কঠোর হতে হবে

0

প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললে যে খবরটি সবচেয়ে বেশি মন খারাপ করে দেয়, সেটি হলো ধর্ষণ। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ধর্ষণ বা গণধর্ষণ অথবা ধর্ষণের পর হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। এই দুষ্কর্ম আমাদের সমাজের কুৎসিত কিছু মানুষ ঘটিয়েই চলেছে। প্রতিদিন একই চিত্র। তাদের কিছু কিছু আইনের আওতায় আসছে, বিচার হচ্ছে কিন্তু ধর্ষণের ঘটনা কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। কোনো বয়সী নারীই আজ নিরাপদ নয়। কোথাও এবং কারও কাছেই নয়। মোট কথা দেশব্যাপী নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনকহারে বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, সকল জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে ২০১৯ সালে মোট ৪ হাজার ৬২২ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৩৭০ জন। গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ২৩৭ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭৭ জনকে এবং ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছে ১৯ জন। ২০১৮ সালে মোট নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয় ৩ হাজার ৯১৮ জন। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ৯৪২টি। গণধর্ষণের শিকার হয় ১৮২ জন। এক বছরেই ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। কোনোভাবেই যখন ধর্ষণ রোধ করা যাচ্ছে না তখন দাবি উঠছে এর শাস্তি আরও দ্রুত এবং কঠোর করার। প্রশ্ন হলো, কেবল আইনের কঠোরতা কি ধর্ষণ রোধ করতে পারবে? সমাজের যে নৈতিক অধঃগতি তা রোধ করারও প্রয়োজন রয়েছে।
নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর তালিকাও ক্রমেই বাড়ছে। থামছে তো না উপরন্তু প্রতিটি ঘটনাই বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সবাই যখন উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত ঠিক সেই সময়েও কেউ না কেউ ধর্ষিত হচ্ছে। কে যে ধর্ষক আর কে যে মানুষ তা নির্ধারণ করা আজ আর সম্ভব নয়। নতুন বছরের কয়েকদিন পেরোতেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। বিকৃত মানসিকতার মানুষেরা তাদের বিকৃত লালসা চরিতার্থ করতে শুরু করেছে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। পত্রিকার পাতায় সে খবর আমরা পাই। এরই মধ্যে কোনো কোনো ঘটনায় দেশের শুভ চেতনার মানুষ রাস্তায় নামে। প্রতিবাদ জানায়। তারপর আবার ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এই চলছে গত একযুগ ধরেই। অদৃশ্য দানব চেপে বসছে আমাদের বুকে। ঘরে, রাস্তায়, দোকানে, চাকরিতে, স্কুল-কলেজে কোথাও তারা নিরাপদ নয়। এখন প্রশ্ন হলো, তাহলে কি ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার মতো অপরাধ সমাজ থেকে কমিয়ে আনা যায় না ? আমরা মনে করি, এটা বন্ধ করা না গেলেও সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব। এর জন্য প্রথম প্রয়োজন সরকারের নিরপেক্ষ অবস্থান। এরপর আইনের শাসন এবং আইন প্রয়োগে ফাঁক-ফোঁকড় বন্ধ করা। কঠিন শাস্তি দ্রুত কার্যকর করা একই সাথে সামাজিক অবস্থানের ইতিবাচক পরিবর্তন করা। একটি সুস্থ সমাজ গঠনের আন্দোলন প্রয়োজন। ধর্ষণসহ সবরকম নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে একাট্টা হওয়া প্রয়োজন। নারীর পূর্ণ শক্তি কাজে লাগাতে হলে এই পথই নিতে হবে। নারী-পুরুষ দ্বৈত শক্তিই পারে সমাজের কুলষ দূর করে সমাজকে শুদ্ধ করতে। যে সমাজ হবে সবার জন্য নিরাপদ। যে সমাজে কোনো শিশুকে পাশবিকতার শিকার হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে না।