মনের মতো দিন পার করল বাংলাদেশ
স্পোর্টস ডেস্ক॥ এর চেয়ে সুন্দর আর কী হতে পারত! জিম্বাবুয়ের বিপে মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনটা ঠিক মনের মতো করেই কাটাল বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি এল। অধিনায়ক মুমিনুল হক পেলেন সেঞ্চুরি। টেস্টে দেশের মাটিতে বাংলাদেশ দলীয় সবচেয়ে বড় স্কোরের কীর্তি গড়ল। শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়ের জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে তুলির শেষ আঁচড় দিল বোলাররা। তাতে তৃতীয় দিন শেষেই ইনিংস ব্যবধানে জয়ের স্বপ্নও উঁকি দিতে শুরু করেছে টাইগার শিবিরে। আগের দিনের ৩ উইকেটে ২৪০ রান নিয়ে সোমবার নতুন দিন শুরু করে বাংলাদেশ। ৬ উইকেটে ৫৬০ রান তুলে শেষ বিকেলে ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকেরা। টেস্টে বাংলাদেশের এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। দেশের মাটিতে অবশ্য সর্বোচ্চ। প্রথম ইনিংসে ২৬৫ রান করা জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৯ রান তুললেই হারিয়ে ফেলেছে ২ উইকেট। তৃতীয় দিন শেষে এখনো ২৮৬ রানে পিছিয়ে জিম্বাবুয়ে। মুমিনুল ৭৯ ও মুশফিক ৩২ রান নিয়ে নতুন দিন শুরু করেছিলেন। লাঞ্চের আগেই মুমিনুল হক সেঞ্চুরি পূরণ করেন। আর সেঞ্চুরির জন্য এক রানের অপো নিয়ে লাঞ্চে যান মুশফিক। লাঞ্চ থেকে ফিরেই টেস্ট ক্যারিয়ারে সপ্তম সেঞ্চুরি তুলে নেন। পরে যেটিকে রূপ দেন ডাবল সেঞ্চুরিতে। টেস্ট ক্যারিয়ারে নবম সেঞ্চুরির দেখা যাওয়া মুমিনুল ১৩২ রানে ফিরলে মুশফিকের সঙ্গে তার ২২২ রানের জুটি ভাঙে। তবে টেস্টে এই দুজন সর্বাধিক তিনটি করে ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন। মুমিনুল বাংলাদেশের পে সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ডে স্পর্শ করেছেন তামিম ইকবালকে। তার ২৩৪ বলের ইনিংসে ছিল ১৪টি চার। মুমিনুল ফেরার পর মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে মুশফিকের জুটিটা বেশি বড় হয়নি। ২৭ রান আসে এই জুটিতে। ১৭ রানে ফেরেন মিঠুন। তবে মুশফিক-লিটন মিলে ষষ্ঠ উইকেটে সেঞ্চুরি জুটি উপহার দেন। লিটন ৯৫ বলে ৫৩ রান করেন ৫ চারে। এরপর তাইজুল ইসলামের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ২৮ রানের জুটি। যে জুটির পথে মুশফিক তুলে নেন ডাবল সেঞ্চুরি। ৩১৫ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূরণ করেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তার ডাবল সেঞ্চুরির ওভারেই ইনিংস ঘোষণা করে দেয় টাইগাররা। মুশফিক শেষ পর্যন্ত ২০৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাইজুল অপরাজিত ছিলেন ১৪ রানে। মুশফিক তার ইনিংস খেলার পথে টেস্টে বাংলাদেশের পে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডে ছাড়িয়ে গেলেন তামিম ইকবালকে। এদিকে শেষ বিকেলে ৫ ওভার ব্যাট করেছে জিম্বাবুয়ে। ২৯৫ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে নাঈম হাসানের প্রথম ওভারেই জোড়া উইকেট হারায় অতিথিরা। ৫ ওভারে ২ উইকেটে ৯ রান তুলে দিন শেষ করেছে দলটি। ইনিংস হার এড়াতে এখনো ২৮৬ রান চাই জিম্বাবুয়ের। কেভিন কাসুজা ৮ ও ব্রেন্ডন টেইলর ১ রান নিয়ে মঙ্গলবার নতুন দিন শুরু করবেন।
ভারতকে ১০ উইকেটে হারাল নিউজিল্যান্ড
স্পোর্টস ডেস্ক॥ দুই ইনিংসের একটিতেও দুইশো রানের গণ্ডি স্পর্শ করতে পারল না ভারত। নিউজিল্যান্ডের পেস আক্রমণের সামনে খেই হারাল দলটির তারকা সমৃদ্ধ ব্যাটিং লাইন-আপ। অল্পের জন্য ইনিংস হার এড়িয়েছে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলটি। রোববার টেস্টের চতুর্থ দিনের লাঞ্চ বিরতির আগে নিউজিল্যান্ডের কাছে ১০ উইকেটে হার মানে টিম ইন্ডিয়া! টেস্টে নিজেদের শততম জয়টা এত স্মরণীয় হবে তা হয়তো কল্পনায়ও ছিল না কিউইদের। টেস্টে ভারতে সবশেষ হারটি ছিল ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপে পার্থ টেস্টে, ১৪৬ রানে। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এটা ভারতের প্রথম ১০ উইকেটের হার। তৃতীয় দিন শেষেই ওয়েলিংটন টেস্টের গতিপ্রকৃতি যে দিকে মোড় নিয়েছিল, তাতে ভারতের হার অনেকটা অনুমিতই ছিল। তবে এভাবে আত্মসমর্পণ করে মাঠ ছাড়বে কোহলি অ্যান্ড কোং তা অনেকেরই ধারণার বাইরে ছিল। প্রথম ইনিংসের নিরিখে ১৮৩ রানে পিছিয়ে পড়া ভারত তৃতীয় দিন শেষে তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান তুলেছিল। তখনো ইনিংস হার এড়াতে ভারতের দরকার ছিল ৩৯ রান। হাতে ছয় উইকেট থাকায় মনে করা হচ্ছিল ভারত কিছুটা হলেও পাল্টা লড়াই চালাবে। কিন্তু চতুর্থ দিনের সকালেই টিম ইন্ডিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় ১৯১ রানে। অর্থাৎ ভারতের বাকি ছয়জন ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন মাত্র ৪৭ রান যোগ করে। জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের সামনে মাত্র ৯ রানের ল্যমাত্রা দেয় ভারত। শেষ ইনিংসে ১০ বল ক্রিজে কাটিয়েই কিউইরা জয়ের ল্েয পৌঁছে যায়৷ প্রথম ইনিংসে ভারতের ১৬৫ রানের জবাবে ৩৪৮ রান করেছিল নিউজিল্যান্ড।
বাংলাদেশের মেয়েদের ১৪৩ রানের ল্য দিল ভারত
স্পোর্টস ডেস্ক॥ ভারতীয় মেয়েদের শুরুর তাণ্ডবে আভাস আসছিল বিশাল সংগ্রহের। তবে মাঝে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রণে দেড়শ ছাড়ায়নি ভারতের ইনিংস। তবু এখন পর্যন্ত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলমান আসরের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ গড়েছে তারা। পার্থে সোমবার আগে ব্যাটিং করে ১৪২ রান তোলে ভারত। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ১৭ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৯ রান করেন শেফালি ভার্মা। ৩৭ বলে ৩৪ রান করেন জেমিমা রদ্রিগেস। বাংলাদেশের হয়ে দুই উইকেট করে উইকেট নেন সালমা খাতুন ও পান্না ঘোষ। টস জিতে প্রতিপকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট পায় বাংলাদেশ। ভারতের ওপেনার তানিয়া ভাটিয়াকে ফেরান অফ স্পিনার সালমা। কিন্তু প্রথম ওভার থেকে আক্রমণ শুরু করেন শেফালি। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই জাহানারা আলমকে ডিপ কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে রানের খাতা খোলেন এই ডানহাতি। পরের ওভারে অফ স্পিনার সালমাকে মিড উইকেটে ছয় হাঁকান তিনি। শুরুতে দল উইকেট হারালেও থামেনি তার তাণ্ডব। জাহানারার পরের ওভারে মারেন দুই চার ও এক ছক্কা। ১৭ রান আসে সেই ওভারে। ভয়ঙ্কর শেফালিকে থামান পান্না ঘোষ। ওভারের প্রথম বলে এই পেসারকে ছক্কা মারেন শেফালি। এক বল ডট দিয়ে পরের বলে মিড অফে ক্যাচ দেন তিনি। আকাশ ছোঁয়া বলটি তিনবারের চেষ্টায় হাতে জমান শামিমা সুলতানা। এরপর হারমানপ্রিত কাউরকে বেশিণ টিকতে দেননি পান্না। ৮ রানে ফেরান ভারতের অধিনায়ককে। এক প্রান্ত আগলে ধরে খেলতে থাকা জেমিমা ফিরেন রানআউটে। লং অনে রিচা ঘোষের ক্যাচ ধরেন নাহিদা আক্তার। রানআউট হয়ে ফেরেন দীপ্তি শর্মাও। শেষ দিকে ভেদা কৃষ্ণমূর্তির ১১ বলে ২০ রানের ইনিংসে দেড়শর কাছে যায় ভারতের ইনিংস।
পিএসজির রোমাঞ্চকর জয়ের ম্যাচে নেইমারের লাল কার্ড
স্পোর্টস ডেস্ক॥ ম্যাচ জুড়ে একের পর এক গোলের দেখা মিলল, তাতে লড়াইটা হলো বেশ জমজমাট। তবে এবার আর পা হড়কায়নি পিএসজির। বোর্দোকে হারিয়ে জয়ের দেখা পেয়েছে টমাস টুখেলের দল। ঘরের মাঠে লিগ ওয়ানে গোলবন্যার ম্যাচে ৪-৩ গোলে জিতেছে পিএসজি। দুই ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেল তারা। গত সপ্তাহে লিগে আমিয়াঁর মাঠে ৪-৪ গোলে ড্রয়ের তিন দিন পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মাঠে ২-১ গোলে হেরেছিল পিএসজি। জয়ে ফেরার ল্েয রোববার রাতে মাঠে নামা বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ম্যাচের অষ্টাদশ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে। হেডে গোলটি করেন দণি কোরিয়ার ফরোয়ার্ড উই-জো। সাত মিনিট পর আনহেল দি মারিয়ার ক্রসে হেডে সমতা টানেন কাভানি। ২৯তম মিনিটে এগিয়েও যেতে পারত দলটি; তবে উরুগুয়ের এই ফরোয়ার্ডের ফিক পোস্টে বাধা পায়। ম্যাচের অধিকাংশ সময় বল দখলে রাখা পিএসজি প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এগিয়ে যায়। দি মারিয়ার ক্রসে কাছ থেকে কাঁধ দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন মার্কিনিয়োস। তবে এগিয়ে যাওয়ার স্বস্তি বেশিণ স্থায়ী হয়নি তাদের। সাত মিনিট যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে সফরকারীদের সমতায় ফেরান পাবলো। ৬৩তম মিনিটে মার্কিনিয়োসের দ্বিতীয় গোলে আবারও এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। কাভানির হেড গোলরক ঠেকিয়ে দেওয়ার পর ফিরতি বল জালে জড়ান ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার। ছয় মিনিট পর কাভানির পাস পেয়ে ডান পায়ের শটে স্কোরলাইন ৪-২ করেন এমবাপে। ৮৩তম মিনিটে রুবেন পার্দো ব্যবধান কমালে আগের রাউন্ডের মত হোঁচট খাওয়ার শঙ্কা জাগে পিএসজির। খানিক পর মাউরো ইকার্দি জালে বল পাঠালে জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার হাসি ফোটে দলটির মুখে। তবে ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। যোগ করা সময়ে নেইমার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে উল্টো শঙ্কাটা আরও জোরালো হয় পিএসজির। শেষ পর্যন্ত অবশ্য বিপদে পড়তে হয়নি তাদের। ২৬ ম্যাচে ২১ জয় ও দুই ড্রয়ে ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে পিএসজি। দুইয়ে থাকা মার্সেইয়ের পয়েন্ট ৫২।





