মোংলা প্রতিনিধি॥ মোংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে (বহির্নোঙর) এলাকায় সারবোঝাই একটি কার্গো (লাইটারেজ) জাহাজ ডুবে গেছে। শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) ভোরে এ দুর্ঘটনার পরপরই জাহাজের ১৪ নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। তাদের সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের দুবলা ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা সদর দফতর) অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ইমতিয়াজ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঘন কুয়াশায় দিক হারিয়ে জাহাজটি দুর্ঘটনার শিকার হয় বলে জানিয়েছেন বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার ফকর উদ্দিন। ইমতিয়াজ আলম কোস্টগার্ডে দুবলা ক্যাম্পের বরাত দিয়ে বলেন, “শুক্রবার ভোরে বন্দরের ফেয়ারওয়ে সংলগ্ন মেহের আলী এলাকায় ‘নিউ পারভিন-২’ নামে একটি কার্গো জাহাজ ডুবতে দেখে আমাদের টহলরত কোস্টগার্ড সদস্যরা সেখানে ছুটে যান। পরে ওই জাহাজের ১৪ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে আসেন তারা।”
উদ্ধারকৃত নাবিকরা হলেন- জামাল হোসেন, উজ্জল হোসেন, আরাফাত হোসেন, সালমান মোল্লা, শাহাদাৎ হোসেন, হারুন মোল্লা, জাহাঙ্গীর আলম, রবিন শেখ, মাকিবুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, আরিফ হোসেন, হাসান শেখ, মানিক শেখ ও ইমাম হোসেন। এদের বাড়ি নড়াইল, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, চট্টগ্রাম ও খুলনা জেলায় বলে জানান ইমতিয়াজ। এদিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার ফকর উদ্দিন জানান, “গত ১ জানুয়ারি রাতে বন্দরের ফেয়ারওয়েতে অবস্থানরত লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি এন্টিগোনি’ থেকে সার নিয়ে ‘নিউ পারভিন-২’ নামে একটি কার্গো জাহাজ মোংলা বন্দরের দিকে আসছিল। মাঝখানে ঘন কুয়াশায় দিক হারিয়ে বন্দর চ্যানেল ফেয়ারওয়ের বাইরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নিউ পারভিন-২। তবে বন্দর চ্যানেল নিরাপদ আছে।”
মোংলা বন্দরে জাহাজডুবি, ১৪ নাবিক উদ্ধার
সাতক্ষীরায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৩ মামলার আসামি নিহত
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ সাতক্ষীরায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার জাকির হোসেন নিহত হয়েছে। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ভোর রাতে সাতক্ষীরা সদরের মাটিয়াডাঙ্গা গণঘের এলাকায় রাস্তার ওপর এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাকির হোসেন সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের দামারপোতা গ্রামের কিরামত গাজীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় চারটি খুনের ও দুটি ডাকাতিসহ ১৩টি মামলা আছে।
সাতক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মির্জা সালাউদ্দিন বলেন, ‘গোপন সংবাদে জানতে পারি সদরের মাটিয়াডাঙ্গা এলাকায় ডাকাতি হবে। এসময় মাটিয়াডাঙ্গা এলাকার গণঘের রাস্তার ওপর অভিযান চালালে ডাকাত সর্দার জাকির ও তার বাহিনী আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়তে শুরু করে। এসময় আমাদের কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। আমরা পাল্টা গুলি ছুড়লে জাকির নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত জাকির হোসেন আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার ও প্রফেশনাল কিলার। সে সাতক্ষীরাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতিসহ সুন্দরবনে দস্যুতা করতো। তার নামে খুন-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩টি মামলা রয়েছে।’
পাটকল শ্রমিকরা শনিবার ফিরছেন কাজে
খুলনা প্রতিনিধি॥ দাবি দাওয়া মেনে নেওয়ার আশ্বাসে শনিবার (৪ জানুয়ারি) থেকে কাজে যোগ দিচ্ছেন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীরা। এরআগে, ১৬ জানুয়ারির মধ্যে মজুরি কমিশন স্লিপ হাতে পৌঁছানো ও অন্যান্য দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) অনশন কর্মসূচি স্থগিত করে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদ।
পাটকল শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক মো. মুরাদ হােসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৈঠকে ১১ দফার অন্যতম মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন আগে হবে। তারপর পর্যায়ক্রমে অন্য দাবিগুলো বাস্তবায়ন হবে- পাটমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর অনশন প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে মিলে উৎপাদন শুরু হবে।
বিজএমসির চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ জানান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মজুরি কমিশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গােলাম দস্তগীর গাজী, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ- নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকে দ্বিতীয় পর্যায়ে গত ২৯ ডিসেম্বর শুরু হয়ে অনশন ২ জানুয়ারি রাত অবধি চলে। খুলনার খালিশপুর, আটরা ও নওয়াপাড়ার রাজঘাট শিল্প এলাকার পাটকলে বিক্ষাভ ও অনশন কর্মসূচিত অংশ নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দােলন চালিয়ে যান। পাঁচ দিনের আন্দোলনে মােট ৫৫ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর ১১ দফা দাবিতে ৬ দিনের কর্মসূচির ডাক দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদ। গত ২৫ নভেম্বর থেকে কর্মসূচি শুরু হয়। আর ১০ ডিসেম্বর শুরু হয় আমরণ অনশন। অনশনের চতুর্থ দিন ১৩ ডিসেম্বর মিল এলাকায় ছিল উত্তাপ আর তীব্র উত্তজনা। অনশনে অসুস্থ হয়ে ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মৃত শ্রমিক আব্দুস সাত্তারের জানাজা ১৩ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় প্লটিনাম জুট মিল গেটে বিআইডিসি সড়কে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় তাকে দাফন করা হয়। আমরণ অনশনের চার দিনে দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৩ ডিসেম্বর রাতে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর নেতারা শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং গভীর রাতে অনশন তিন দিনের জন্য স্থগিত করেন। সর্বশেষ গত ২৬ ডিসেম্বর রাজধানীতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়। তৃতীয় দফার এই বৈঠক থেকে বের হয়ে শ্রমিক নেতারা জানান, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের বিষয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী আরও এক মাস সময় চেয়েছেন। তবে এক মাস পর আসলেই মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হবে কিনা তা অনিশ্চিত। শুধু শুধু সময়ক্ষেপণ করার জন্য এক মাসের কথা বলা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১২শ’ টাকার জন্য খুন!
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ কক্সবাজারের টেকনাফে এক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) রাত ৭টার দিকে টেকনাফের হোয়াই্যংয়ের উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম আবু তৈয়ুব (৩৫)। তিনি উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ব্লকের ১৩২১ নাম্বার ঘরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলমের ছেলে। তবে তিনি এর আগে বালুখালী ১২ নাম্বার ক্যাম্পের ডি-৪ এ বাস করতেন।
রোহিঙ্গারা জানায়, শুক্রবার রাতে উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রধান সড়কে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে সৈয়দুল আমিন ও আবু তৈয়ুবের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সৈয়দুল দা দিয়ে তৈয়ুবকে কুপিয়ে জখম করে। পরে ক্যাম্পের লোকজন এগিয়ে এসে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে এমএসএফ হাসপাতলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তৈয়ুবকে মৃত ঘোষণা করেন। টেকনাফের হোয়াই্যং উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘ক্যাম্পে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে একজন নিহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে লাশ নিয়ে গেছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’ হোয়াই্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোহাম্মদ নাজমুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকারীকে ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।’
সরস্বতী পূজা ৩০ জানুয়ারিতেই হচ্ছে
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ লোকনাথ ও নবযুগ ডাইরেক্টরী পঞ্জিকা মতে ৩০ জানুয়ারিতেই সরস্বতী পূজা উৎযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি। একইদিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পঞ্জিকার তিথি বদলানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন কমিটির নেতারা। সংগঠনটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদারের সভাপতিত্বে শুক্রবার বিকেলে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. কিশোর রঞ্জন ম-ল, মনীন্দ্র কুমার নাথ, অ্যাড. তাপস কুমার পাল, নির্মল কুমার চ্যাটার্জী। দেশের প্রায় প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই প্রতিবছর মহা সাড়ম্বরে উদযাপন করা হয় বিদ্যার দেবী সরস্বতীর পূজা। যা নির্দিষ্ট পঞ্জিকার তারিখ মতোই হয়ে থাকে। এর পরিবর্তন করা সম্ভব নয় জানিয়ে এসময় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল ভট্টাচার্য বলেন, লোকনাথ পঞ্জিকা অনুসারে চলতি বছর ২৯ এবং ৩০ জানুয়ারী দুই দিন ব্যাপী থাকবে শ্রীপঞ্চমী তিথি। তবে ঢাকেশ্বরী মন্দিরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের বেশিরভাগ মন্দিরগুলোতেই ৩০ তারিখের তিথিতে পূজা উদযাপন করা হবে। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের অনুরোধ সিটি নির্বাচনের তারিখটি যেনো পরিবর্তন করা হয়। একই দাবি জানায় ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, এদিন সনাতন সম্প্রদায়ের ভোটারদের পাশাপাশি তাদের অনেকেই ভোট কেন্দ্রে বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। তাই তারা পূজোর আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করা থেকে বঞ্চিত হবেন। এছাড়াও ঢাকা শহরের প্রায় প্রতিটি স্কুল ও কলেজে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে অনেক স্কুল ও কলেজেই নির্বাচনের কেন্দ্র হওয়ায় পূজা উদযাপন এবং নির্বাচন কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে দাবি করে তারা সার্বিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পূজার পরে নির্বাচনের দিন পুন:নির্ধারণ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে জোর দাবি জানান। সংগঠনটির নেতা তাপস কুন্ডু বলেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য নির্বাচন কমিশন ইতোপূর্বেও শারদীয় দুর্গোৎসবের সপ্তমী পূজার দিন (৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনের দিন ধার্য করেছিল। আমাদের জোর প্রতিবাদ সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে সপ্তমী পূজার দিনই নির্বাচন অনুষ্ঠিত করেছিল। এবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আসলে খুবই দু:খজনক।
অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সতর্ক করেছে দূতাবাস
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ‘বুশফায়ার’ আগুনের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) এক ফেসবুক বার্তায় বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকতে এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার করে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখানে কোনও বাংলাদেশি সাময়িক অসুস্থতায় আক্রান্ত হলে বা ধোঁয়া সংক্রান্ত চিকিৎসা সহযোগিতার প্রয়োজন হলে একদল চিকিৎসক ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে সেবা দিতে সম্মত হয়েছে বলেও ওই বার্তায় জানানো হয়। চিকিৎসকরা হচ্ছেন- ডা. হাসিবুল, ডা. সাথিলা, ডা. সৈয়দা তওসিফ, ডা. শেখ ওয়াহাব, ডা. মোশাররফ হোসেন, ডা. আবুল হোসেন সৈয়দ ও ডা. সাইদুল আনসারি। ওই বার্তায় বলা হয়, শনিবার দমকা বাতাসসহ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড অতিক্রম করতে পারে। এছাড়া ধোঁয়া ও ছাঁই গোটা ক্যানবেরাতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেখানকার বাতাসের অবস্থা স্বাভাবিক অবস্থার থেকে ৯ গুণ বেশি দূষিত বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় সবাইকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করার অনুরোধ করেছে দূতাবাস।
আজকের রাশিফল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করায় পাশ্চাত্য মতে আপনি মকর রাশির জাতব্যক্তি। আপনার ওপর আজ পরমযোগী গ্রহ শনি মহারাজ, দেবগুরু বৃহস্পতি ও প্রেমের দেবতা শুক্রাচার্যের প্রভাব বিদ্যমান। আপনার সঙ্গে মীন রাশির বন্ধুত্ব শুভফল প্রদান করবে। ভাইবোনদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কলহবিবাদের মীমাংসা হওয়ায় গোটা পরিবারে খুশির জোয়ার বইবে। দ্রুতগতির বাহন বর্জন করা শ্রেয় হবে।
মেষ [২১ মার্চ-২০ এপ্রিল] জীবনসাথী, শ্বশুরালয় ও বন্ধুবান্ধব থেকে ভরপুর সাহায্য-সহযোগিতা পাবেন। ভাড়াটিয়া হলে মালিকের প্রতি সদ্ভাব বজায় রাখুন নচেৎ বাসাবাড়ি পাল্টানোর ঝামেলায় পড়তে হবে। দ্রুতগতির বাহন বর্জনীয়। মনোবল জনবল অর্থবলের সঙ্গে সঙ্গে সুনাম যশ প্রতিষ্ঠার গ্রাফ চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
বৃষ [২১ এপ্রিল-২০ মে] আয় বুঝে ব্যয় করুন নচেৎ সঞ্চয়ে হাত পড়বে। পরিবারের কোনো বয়স্ক লোকের শরীর-স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে পড়ায় তাদের নিয়ে হাসপাতালে চক্কর কাটতে হবে। এতদসত্ত্বেও মন সুর সংগীত ধর্ম আধ্যাত্মিকতা ও পরোপকারের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকবে। শুভাশুভ মিশ্রফল প্রদান করবে।
মিথুন [২১ মে-২০ জুন] শত্রু ও বিরোধীপক্ষের সব পরিকল্পনা নস্যাৎ করে আপনি দুর্বারগতিতে এগিয়ে চলবেন। প্রেম রোমান্স বিনোদন ভ্রমণ বিবাহ বিনিয়োগ বন্ধুত্ব শুভ তথা সুদূরপ্রসারী হবে। মনোবল জনবল অর্থবলের সঙ্গে সঙ্গে সুনাম যশ প্রতিষ্ঠার গ্রাফ চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
কর্কট [২১ জুন-২০ জুলাই] ব্যবসা-বাণিজ্যে মজুদ মালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ঋণমুক্তি শুধু নয়, সঞ্চয় হবে প্রচুর। শিক্ষার্থীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ অপেক্ষা করবে। পিতামাতার কাছ থেকে ভরপুর সাহায্য-সহযোগিতা প্রাপ্ত হবেন। ধন উপার্জনের সব পথ খুলে যাবে।
সিংহ [২১ জুলাই-২০ আগস্ট] শত্রু ও বিরোধীপক্ষ আপনার উন্নয়ন ও প্রভাব-প্রতিপত্তির বাড়বাড়ন্ত দেখে পিছু হটতে বাধ্য হবে। দীর্ঘদিনের সম্পত্তি সংক্রান্ত ঝামেলার অবসান ঘটবে। লটারি ফাটকা জুয়া রেস শেয়ার হাউজিং এড়িয়ে চলার আবশ্যকতা রয়েছে। ডাকযোগে চেক মানিঅর্ডার বিকাশ ফ্লেক্সিলোড প্রভৃতি আসতে পারে।
কন্যা [২২ আগস্ট-২২ সেপ্টেম্বর] ব্যবসা-বাণিজ্যে মজুদ মালের দাম ফুলেফেঁপে উঠবে। জীবনসাথী, শ্বশুরালয় ও বন্ধুবান্ধব থেকে ভরপুর সহযোগিতা পাবেন। ভাড়াটিয়া হলে মালিকের প্রতি সদ্ভাব বজায় রাখুন নচেৎ বাসাবাড়ি পাল্টানোর ঝামেলায় পড়তে হবে। হাত বাড়ালেই সফলতাপ্রাপ্ত হবেন।
তুলা [২৩ সেপ্টেম্বর-২২ অক্টোবর] সংকটকালে বন্ধুবান্ধব আত্মীয়-পরিজন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ধরবে। লৌকিকতায় যেমন ব্যয় হবে তেমনি উপহারপ্রাপ্ত হবেন। ঘুষ উৎকোচ গ্রহণ নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন ক্রয়-বিক্রয় অস্ত্রশস্ত্র বহন ও অপপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা সমীচীন হবে।
বৃশ্চিক [২৩ অক্টোবর-২১ নভেম্বর] বিদেশগমন ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দুটোই সমানতালে শুভফল প্রদান করবে। বিবাহযোগ্যদের বিবাহকার্য সুসম্পন্ন হবে তথা ওই বিবাহে প্রচুর উপার-উপঢৌকনও প্রাপ্ত হবেন। কর্ম অর্থ মোক্ষ সুনাম যশ প্রতিষ্ঠার গ্রাফ চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
ধনু [২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর] গৃহবাড়িতে নতুন আসবাবপত্র, বস্ত্রালঙ্কার ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর পসরা সাজবে। সপরিবারে কোনো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে যোগদান করতে পারেন। বিবাহযোগ্যদের বিবাহ প্রেমিকযুগলের প্রেমের স্বীকৃতি এমনকি সম্ভাব্য ক্ষেত্রে পরিবারে ছোট্ট নতুন মুখের আগমন ঘটতে পারে।
মকর [২১ ডিসেম্বর-১৯ জানুয়ারি] ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা কর্মে হয়রানিমূলক দূরবদলি অপরদিকে দূর থেকে আসা কোনো অপ্রিয় সংবাদ মড়ার উপর খাঁড়ার ঘার সমান হবে। বাড়ির ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বৈদ্যুতিক মিটার জলের কল আসবাবপত্র ও যানবাহন মেরামতে শ্রম অর্থ দুটোই ব্যয় হবে।
কুম্ভ [২০ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি] সম্ভাব্য ক্ষেত্রে পরিবারে ছোট্ট নতুন মুখের আগমন ঘটতে পারে। গৃহবাড়ি অতিথি সমাগমে মুখর হয়ে থাকবে। যার ফলে আপনাকে সর্বদাই ব্যস্ত থাকতে হবে। ডাকযোগে চেক মানিঅর্ডার বিকাশ ফ্লেক্সিলোড প্রভৃতি আসতে পারে।
মীন [১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ] ভাগ্যলক্ষ্মী প্রসন্ন হওয়ায় সফলতা আপনার চরণ স্পর্শ করবে। নিত্যনতুন স্বপ্ন পূরণের জন্য দিনটি রেকর্ড হয়ে থাকবে। আজকের রোপণ করা বৃক্ষ ভবিষ্যতে ফুল ফল ও সংকটকালে ছায়া দিয়ে বাঁচাবে। প্রেমিকযুগলের প্রেম বিবাহের মাধ্যমে সমাজে স্বীকৃতি পাবে।
ইরাকে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইরাকে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাগদাদের বাংলাদেশ দূতাবাস। শুক্রবার দূতাবাস থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইরাকের চলমান নিরাপদহীন ও অস্থিতিশীল পরিবেশের কথা বিবেচনা করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরাকের সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশেষ প্রয়োজনে কর্মস্থল ও বাসস্থান ছাড়া সভা সমাবেশস্থল, গোলযোগপূর্ণ পরিবেশ এড়িয়ে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের সেবা দেওয়ার জন্য দূতাবাসের সেবা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। উল্লেখ্য, ইরাকের রাজধানী বাগদাদের বিমানবন্দরে মার্কিন হামলায় ইরান রেভ্যুলশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অভিজাত বাহিনী কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেমানি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ইরাকে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
যেকারণে যুদ্ধে সবার ক্ষতি হলেও ট্রাম্পের লাভ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইরানের সেনা প্রধান কাসিম সোলেইমানিকে হত্যা করে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ফুঁসছে। প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছেন খামেনি। তাহলে কি যুদ্ধ অনিবার্য? ডোনাল্ড ট্রাম্প কি তাই চান? নিজের দেশে তিনি ভালো নেই। এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সিনেটে তার ইমপিচমেন্টের বিষয়টি আলোচনায় ওঠার কথা। তার আগে ইরাকে বিমান হামলায় জেনারেল কাসিম সোলেইমানিকে হত্যা করে নিজের দেশের সবার নজর অন্য দিকে ভালোভাবেই সরাতে পেরেছেন ট্রাম্প।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা প্রত্যাশিতভাবেই অন্যায় হামলায় এলিট বাহিনীর প্রধানকে হত্যার বদলা নিতে চেয়েছেন। অন্যদিকে সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর টুইটার অ্যাকাউন্টে মার্কিন পতাকা শেয়ার করে একরকম আনন্দই প্রকাশ করেছেন ‘অ্যামেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগানের মাধ্যমে উগ্রতা, বিভেদ আর ঔদ্ধত্বের প্রবক্ত হয়ে ওঠা ট্রাম্প। ট্রাম্প যে ইচ্ছে করেই যুদ্ধপরিস্থিতি তৈরি করেছেন তা বুঝতে বেশিদূর যেতে হবে না। দু’দিন আগেই নিজের টুইট বার্তায় লিখেছিলেন বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে ‘‘কোনো প্রাণহানি বা আমাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তার জন্য ইরানই দায়ী থাকবে। সেজন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। এটা কোনো সতর্কবার্তা নয়, এটা হুমকি।” আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার কড়া জবাব দিলেও মার্কিন দূতাবাস থেকে বিক্ষোভকারীরা সরে গিয়েছিল। তারপর তো পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হওয়ার কথা। ট্রাম্প চাইলে তাই হতো। কিন্তু কংগ্রেসকে কিছু না জানিয়ে তিনি হামলার নির্দেশ দিয়ে দিলেন পেন্টাগনকে। হামলার নির্দেশ দিয়ে আর ইরানের এলিট বাহিনীর প্রধান নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের একটা পতাকা টুইট করে ট্রাম্প আপাতত চুপ।
মধ্যপ্রাচ্যের একাংশে নেমেছে শোকের ছায়া, বাড়ছে ক্ষোভ আর আতঙ্ক। তার প্রভাব সারা বিশ্বেই পড়বে। তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। মার্কিন হামলায় সোলেইমানির সঙ্গে ইরাকি কমান্ডার আবু মাহদি আল মুহান্দিসসহ আরো চারজন নিহত হয়েছেন। তাই ইরাকও ক্ষুব্ধ। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদেল মাহদি ইতিমধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যুদ্ধ হলে সবচেয়ে বেশি লাভ হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। দেশে যে কিছুটা কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছিলেন সে অবস্থা হয়ত খানিকটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। আর লাভ অস্ত্রবিক্রেতাদের। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে ইরান আর ইরাকের। সেই দেশদুটোর সাধারণ মানুষের। আশির দশকে প্রায় আট বছর নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করেছে তারা। সেই যুদ্ধ শেষেও ইরাকের মানুষ বেশিদিন শান্তিতে থাকতে পারেনি। ১৯৯০ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত চলা উপসাগরীয় যুদ্ধের ক্ষত শুকানোর আগে ২০০৩ সালে আবার পড়ে যুদ্ধের খপ্পরে। আট বছরের সেই যুদ্ধে মেসোপটেমিয়া সভ্যতার দেশটি হয়ে যায় ধংসস্তূপ। যুদ্ধ হলে বাংলাদেশের জন্যও বিপদ। মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করছেন এমন বাংলাদেশীরা সংকটে পড়বেন। তার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তো পড়বেই। প্রাক মধ্যযুগ, মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ- যখন বিশ্বের যে প্রান্তে যত যুদ্ধ হয়েছে, তাতে আখেরে মানবতার ক্ষতিই হয়েছে। লক্ষ-কোটি মানুষ মরেছে। ধংস হয়েছে ভূখন্ড, ভেঙে পড়েছে অর্থনীতি। যুদ্ধের ধংসযজ্ঞ ট্রাম্প বা অন্য কোনো কোনো যুদ্ধবাজ চাইতে পারেন, আমরা চাই না। আমরা শান্তি চাই। ডয়চে ভেলে।
সোলেইমানি হত্যা : কেন এত বড় ঝুঁকি নিল ট্রাম্প? কী করতে পারে ইরান?
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পরিণতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ শুরু হয়েছে। তেহরান কঠোরতম প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামিনি বলেছেন, “অপরাধীদের জন্য ভয়াবহ প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে।” ইরানের সেনাবাহিনীর (ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ডস বা আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রমজান শরিফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ইরান এবং আমেরিকা তোমরা কড়া জবাবের জন্য অপেক্ষা করো।” দেশের বাইরে ইরান যে তার সামরিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে চলেছে তার পেছনে মূল ব্যক্তিটি ছিলেন কাসেম সোলেয়মানি। লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেনের মত দেশগুলোতে তেহরানপন্থী যে শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এখন পরাক্রমশালী হয়ে উঠেছে, তিনিই ছিলেন এর রূপকার। ফলে বহুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের এক নম্বর টার্গেট ছিলেন ইরানি এই জেনারেল।
সংবাদদাতারা বলছেন, ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ বুশ এবং তারপর বারাক ওবামা পর্যন্ত তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেও পরিণতির কথা ভেবে পরে পিছপা হয়েছিলেন। এ কারণে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আগামি নির্বাচনে ডেমোক্রাটদের সম্ভাব্য প্রার্থী জো. বাইডেন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘একটা বারুদের বাক্সে ডিনামাইট ছুঁড়ে দিয়েছেন।’ তিনি বলেছেন, “আমরা হয়তো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন বড় ধরনের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে চলে গেলাম।” এখন প্রশ্ন হচ্ছে কাসেম সোলেইমানি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সম্ভবত সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রু হওয়া স্বত্বেও তার পূর্বসূরিরা যে ঝুঁকি নিতে চাননি, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন কেন তা নিলেন? পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা হলো, কাসেম সোলেইমানি ইরাকে মার্কিন কূটনীতিক এবং সৈন্যদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল, সুতরাং আগে থেকেই তাকে হত্যা করে সেসব পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হলো। তবে এমন সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই হত্যাকাণ্ড ঘটালেন যখন কিছুদিন আগেই তার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট অনুমোদন করেছে মার্কিন কংগ্রেস, এবং এক বছরের কম সময়ের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ফলে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি দেখতে শুরু করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের সাংবাদিক জুলিয়ান বার্গার লিখেছেন, নভেম্বরে নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে সোলেইমানিকে হত্যার এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি মনে করছেন, ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার যে ঘটনা বারাক ওবামার দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রচারণায় প্রধান একটি বিষয় হয়ে উঠেছিল, ট্রাম্প হয়তো সেরকমই কিছু করতে চেয়েছেন। বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন বলছেন, অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করে আমেরিকানরা এখন কেন এই ‘ট্রিগার’ টিপলো, তার কারণ হয়তো প্রেডিসন্ট ট্রাম্প মনে করেছেন এই হত্যাকাণ্ডের যে ঝুঁকির মাত্রা তার চেয়ে সুবিধার পাল্লা ভারি। “তিনি (প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প) হয়তো মনে করেছেন অব্যাহত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় ইরান দুর্বল-একঘরে হয়ে পড়েছে। দেশের ভেতরে যে প্রচণ্ড অসন্তোষ শুরু হয়েছে তাতে ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া হলেও, ইরান বড় কোনো হুমকি তৈরি করতে পারবে না।”
কি করতে পারে ইরান : ‘দুর্বল ইরান’ তেমন কিছু করতে পারবে না বলে ট্রাম্প হয়তো যে ভরসা করছেন, বাস্তবে তা হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিবিসির জেরেমি বোয়েন। “কূটকৌশল বা পরিকল্পনাকারী হিসেবে সোলেইমানি ছিলেন খুবই ক্ষুরধার। সুতরাং তাকে কখনো হত্যা করা হলে, কি করতে হবে তেমন পরিকল্পনাও হয়তো তিনিই করে গেছেন। ইরান যে তার হত্যার একটা জবাব দেবে, তা নিশ্চিত। সোলেইমানি এতদিন ধরে দেশের বাইরে ইরানের যে প্রভাব প্রতিপত্তি তৈরি করেছেন, তা টিকিয়ে রাখার সর্বোত চেষ্টা ইরান করবে।” ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে একটা যুদ্ধ লেগে যেতে পারে, এই শঙ্কা সন্দেহ গত বছর খানেক ধরে চলছিল, কিন্তু সেই সাথে যুদ্ধ এড়ানোর একটা চেষ্টাও তলে তলে চলছিল। ফ্রান্স এই দুই শত্রুর মধ্যে একটা মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিস ডুসেট মনে করছেন, সোলেইমানি এবং ইরাকি একটি শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীর (পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স) প্রধান আবু মাহদি আল মোহানদিসকে হত্যার পর যুদ্ধ এড়ানোর সেই চেষ্টা ধসে পড়বে সন্দেহ নেই। কিন্তু কিভাবে ইরান প্রতিশোধ নেবে – পরিষ্কার করে অনুমান করা শক্ত। তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাউন্সিলের জরুরী বৈঠক হচ্ছে। সেখান থেকেই হয়তো একটা ছক তৈরি হবে। লিস ডুসেট মনে করেন, ‘বদলা নেওয়ার নানা রাস্তা এবং উপায় ইরানের রয়েছে।’
ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক একজন সদস্য কার্সটেন ফনটেনরোজকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান পত্রিকা লিখছে, ইরানের এই বদলা হয়তো দীর্ঘমেয়াদী এবং নানামুখী হবে। তিনি বলছেন ইরাকে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়ারা হয়ত তাৎক্ষণিকভাবে কিছু হামলা চালাবে, কিন্তু ইরান হয়তো “উপযুক্ত সময় এবং স্থানের জন্য অপেক্ষা করবে।” তিনি বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এমনকি পশ্চিম আফ্রিকা বা দক্ষিণ আমেরিকাতেও মার্কিন স্বার্থ এবং নাগরিকরা হামলার মুখে পড়তে পারে, এবং এই ঘটনা বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে। “ইরান এমন একটি বার্তা দিতে চাইবে যে আমেরিকানরা কোথাও নিরাপদ নয়।” বিবিসি।










