স্বামী জীবিত, তারপরও বিধবাভাতা নিচ্ছেন স্ত্রী!

0

শিমুল হাসান, লোহাগড়া (নড়াইল) ॥ স্বামী জীবিত, তারপরও বিধবাভাতা উত্তোলন করছেন স্ত্রী। এভাবেই ২০১৭ সাল থেকে চলছে সরকারি টাকা আত্মসাতের ঘটনা। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। ওই ভাতাভোগী প্রতি মাসে পান পাঁচ’শ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযোগে জানা গেছে, কোটাকোল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহের শেখ (৬৫) এর স্ত্রী আমিরোন বিবি। লোহাগড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিস ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট আমিরোন বিবির নামে বিধবা ভাতার কার্ড ইস্যু করে। কার্ড নম্বর ২৭৯/১৭। ওই কার্ডের বিপরীতে সোনালী ব্যাংক মহাজন শাখার হিসাব নং-০১০১১৬৪৯। অভিযোগ রয়েছে, আমিরোন বিবি বিধবা ভাতার সরকারি টাকা তুললেও তার স্বামী এখনো জীবিত। গত ২৯ জানুয়ারি গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মোল্যার ছেলে মো. লিকু মোল্যাসহ কয়েকজন লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগে জানান, কোটাকোল ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মেম্বার শাহানারা বেগম স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় বড়দিয়া গ্রামের মো. জাহের শেখের স্ত্রীর নামে এবং আয়েব আলীর স্ত্রীর নামে বিধবা ভাতার কার্ড করে দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার গত ১১ জুন বিষয়টি তদন্তের জন্য লোহাগড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছেন। ভাতাভোগী আমিরোন বিবি এ বিষয়ে একেক সময় একেক কথা বলছেন। তিনি একসময় বলছেন, ‘৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. মুজিবর মোল্যা ১২ হাজার টাকা নিয়ে বিধবা ভাতার কার্ড করে দিয়েছেন। স্বামী বেঁচে থাকতেও কেন আমাকে (আমিরোন বিবি) বিধবা ভাতার কার্ড করে দিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে মেম্বার মুজিবর মোল্যা বলেন, তোমরা গরীব মানুষ, কার্ড করে দিয়ছি তাতে সমস্যা কি? তোমরা খাও।’ আমিরোন বিবি পরবর্তীতে বলছেন কার্ড করার সময় মহিলা ও পুরুষ দু’জন মেম্বারই ছিলেন। আবার কখনো বলছেন কার্ড করতে টাকা লাগেনি। কখনো বলছেন টাকা দিয়ে কার্ড করেছি। কখনোবা বলছেন বিধবা ভাতার কার্ড করে দিতেতো বলিনি। মেম্বার মুজিবর মোল্যা ভাতাভোগী আমিরোন বিবির স্বামী জাহের শেখ এখনো জীবিত স্বীকার করে বলেন, ‘আমি কার্ড করে দিতে কোন টাকা নিইনি। আমিরোনের ওই কার্ড আমি করিনি।’ সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মেম্বার শাহানারা বেগম বলেন, ‘১২ হাজার টাকা নিয়ে আমিরোন বিবির নামে বিধবা ভাতার কার্ড করে দিয়েছেন মেম্বার মো. মুজিবর মোল্যা। এ বিষয়টি নিয়ে ইউএনও স্যারের নিকট আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী মো. লিকু মোল্যা। লিকু মোল্যার স্ত্রী রিনা বেগম গত দু’বারের ইউপি নির্বাচনে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন। সামনে নির্বাচন তাই তারা আমাকে নানাভাবে হয়রানির চেষ্টা করছেন।’ এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, কোটাকোল ইউনিয়নে বিধবা বা বয়স্ক ভাতার অনেক ভুয়া কার্ড রয়েছে। চেয়ারম্যান এসব ভুয়া কার্ডের ব্যাপারে অবগত থাকলেও নিজে সুবিধা নিয়ে চুপ থাকেন।’ কোটকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মারিয়া হোসেন বলেন, ‘আমি আজ (২১ জুন) এ বিষয়টি শুনেছি। ভুয়া কার্ড আছে আমার জানা ছিল না। সাধারণত মেম্বাররাই এসব কার্ড করে দেন। আমি কারো কাছ থেকেই কোন সুবিধা নিই না। ভুয়া কার্ড আছে কিনা তদন্ত করে দেখবো।’ লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকুল কুমার মৈত্র বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য সমাজসেবা অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছি।’ লোহাগড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শামীম রেজা বলেন, ‘তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। ভাতা বই জব্দ করেছি। তদন্ত চলছে।’