সংস্কার ও ভোটাধিকার রক্ষায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিকল্প নেই : কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা সচিব

0

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ২০২৪ সালের ‘আমি আর মামুর’ ইলেকশন, ২০১৮ সালের রাতের ভোট এবং ২০১৪ সালে ১৫৩ আসনে বিনা ভোটে এমপি নির্বাচিত হওয়ার মতো ঘটনাগুলো যদি এ দেশে না ঘটত, তবে আজ হয়তো রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজন হতো না।

শনিবার বিকেলে যশোর জেলা প্রশাসন আয়োজিত মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে গণভোটের সচেতনতা বৃদ্ধি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সচিব দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত না হলে আবার সেই পুরোনো পদ্ধতি ফিরে আসবে এবং দেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদ কায়েম হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে।

তিনি উপস্থিত আলেম ও শিক্ষক সমাজকে সতর্ক করে বলেন, ‘না’ ভোট জয়ী হলে ছাত্র-জনতার এত রক্ত ও জীবন দেওয়ার কোনো সার্থকতা থাকবে না। আমরা শহীদদের রক্তের কাছে ঋণী এবং সেই ঋণ শোধ করতে হলে প্রতিটি নাগরিককে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দিয়ে সংস্কার কার্যক্রমকে বৈধতা দিতে হবে।

সচিব আরও বলেন, বিগত ১৫ বছরে এ দেশের মানুষ ভোট দেওয়া প্রায় ভুলেই গেছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, সেই সময় সরকারি বিভিন্ন সংস্থা যেমন এনএসআই, ডিজিএফআই, পুলিশ ও বিজিবি-কে ব্যবহার করে কীভাবে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিগত সরকারকে ক্ষমতায় রাখার ছক কষা হয়েছিল এবং রাতের অন্ধকারে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট বাক্সে ভরা হয়েছিল, তা সবারই জানা।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনেক সাহসী প্রিজাইডিং অফিসার যারা কারচুপি রুখতে চেয়েছিলেন, তাদের মারধরের শিকার হতে হয়েছিল। কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেধাবীরা যাতে প্রশাসনে আসতে না পারে, সেজন্য ২০২৪ সালে আবারও কোটা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, যার প্রতিবাদে জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার চূড়ান্ত বিপ্লব ঘটে।

সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হত্যা মামলার বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের যে তিনটি অঙ্গীকার নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছে, তার মধ্যে সংস্কারকে চূড়ান্ত করতে জনগণের ‘হ্যাঁ’ ভোট বা জনসম্পৃক্ততা একান্ত প্রয়োজন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদি জনগণ চায় যে কোনো প্রধানমন্ত্রী ১০ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না, সংসদ যেন একক ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধন করতে না পারে, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করুক এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে রাষ্ট্রপতি যেন নিজের খেয়ালখুশি মতো ক্ষমা করতে না পারেন, তবে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে এসব সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন গঠনে সরকারি ও বিরোধী দলের যৌথ ভূমিকা নিশ্চিত করতেও এই ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিগত সরকার কুরআন-হাদীসের শিক্ষাকে উপেক্ষা করে মাদ্রাসা শিক্ষাকে কৌশলে সাধারণ শিক্ষার মধ্যে ঢুকিয়ে এর স্বকীয়তা নষ্টের চেষ্টা করেছিল। সভা শেষে তিনি মাদ্রাসা প্রধানদের নির্দেশ দেন যেন তারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে অভিভাবক, ছাত্র এবং স্থানীয়দের এই ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বুঝিয়ে বলেন।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয় যে, যশোরে ইতিমধ্যে ৩৬৭টি ক্যাম্পেইন সম্পন্ন হয়েছে এবং ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫০ জন মানুষকে সচেতন করা হয়েছে।

এছাড়া জেলার তালিকাভুক্ত ৬ হাজার মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে নিয়মিত মুসল্লিদের সচেতন করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খান মাসুম বিল্লাহ ও জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম রাকিবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষগণ বক্তব্য রাখেন এবং সংস্কার বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।