লোহাগড়া কাশিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম

0

লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা ॥ নড়াইলের লোহাগড়ার শালনগর ইউনিয়নের কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলাসহ নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী অনিয়ম তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়ার কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা. রেহানা পারভীন ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দকৃত টাকা ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। খেলাধুলার কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলেন। শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। অভিভাবকদের পাত্তা দেন না বলেও অভিযোগ। ওই বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য নুরুল ইসলাম মোল¬া অভিযোগ করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে (১৭ মার্চ) স্কুলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হলেও ২১ মার্চ পর্যন্ত ওই পতাকা স্ট্যান্ডেই ঝুঁলছিল। অথচ সরকার স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে অনেক আগে। গেল ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্কুলে এসেছিলেন সকাল সাড়ে ৯ টায়। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আপনার কাছে আমি কৈফিয়ত দেব না’। পিটিআই কমিটির সভাপতি আলী আহম্মদ অভিযোগ করেন, গত একমাস আগে স্কুলের রুমে একটা কুকুর আটকিয়ে ফ্যান, লাইট জ্বালিয়ে চলে যান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। গ্রামের গফুর মোল¬া একই অভিযোগ করেন। অভিভাবক শাবানা আক্তার অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্কুলে এসে বসে থাকেন। পড়াশোনার প্রতি খেয়াল দেন না। রুপালী বেগম বলেন, আমার ছেলে স্কুলে পড়ে। ম্যাডাম স্কুলে এসে বসে থাকেন। ক্লাস হয় না। শিশুরা বাড়ি ফিরে আসে। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র নাজমুল মোল¬া বলে, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে (১৭ মার্চ) স্কুলের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলাম। স্কুল সরকারি বন্ধ ছিলো। কিন্তু ২১ মার্চেও ওই পতাকা নামানো হয়নি’। ম্যানেজিং কমিটির সদ্যবিদায়ী সভাপতি আবু সাইদ মোল¬া বলেন, আমরা ১৭ মার্চে স্কুলে কেক কেটেছি। ওই সময় পতাকা টানানো হয়। কিন্তু ২১ মার্চে দেখছি পতাকা ঝুঁলছে। এটা স্কুলের পতাকা কিনা জানি না। ম্যাডামকে ফোন করেছিলাম স্কুলে আসার জন্য, কিন্তু তিনি এলেন না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা. রেহানা পারভীন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই এলাকার কয়েকজন আমার কাছে স্লিপের টাকা চেয়েছিল। আমি দেইনি। তাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। মিথ্যা অভিযোগ এনেছে। তিনি আরো বলেন, যে পতাকা ২১ তারিখে টানানো ছিল সেটা স্কুলের নয়। স্কুলের পতাকা আমার বাড়িতে ছিলো। এ ব্যাপারে লোহাগড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুজ্জামান খান বলেন, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। জাতীয় পতাকা সরকারি ছুটিতে স্কুলে টানিয়ে রাখার নিয়ম নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তদন্ত কর্মকর্তা লোহাগড়া সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মণ বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আমি তদন্ত করছি। কিন্তু করোনাভাইরাস সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আপাতত কিছু করা যাচ্ছে না’।