রাতে হত্যার পর নারীর মরদেহ নিয়ে ১০ ঘণ্টা এক ফ্লাটে পালিত ছেলে

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে পালিত ছেলের হাতে খুন হয়েছেন এক নারী। আগের দিন রাতে সুলতানা খালেদা সিদ্দিকা রুমি (৬৪) নামে ওই নারীকে হত্যার পর শনিবার দুপুর পর্যন্ত ঘরের দরজা বন্ধ করে মরদেহ নিয়ে অবস্থান করছিল অভিযুক্ত পালিত ছেলে শেখ শাসম (২২)। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও শামসকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

নিহত সুলতানা খালেদা সিদ্দিকা রুমি ছিলেন মণিহার এলাকার ফলপট্টির মৃত শেখ শাহাজানের স্ত্রী এবং শেখ শামস মার্কেটের মালিক।

মার্কেটের নিচতলার ভাড়াটিয়া ফল ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে পানির ট্যাঙ্কি খালি দেখে তিনি পানির জন্য মার্কেটের দোতলায় মালিকের ঘরের দরজায় ধাক্কা দেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি অবাক হন। এভাবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় তার সন্দেহ হয়। অবশেষে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।

প্রায় আধা ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজায় ধাক্কা দিলে ভেতর থেকে পালিত ছেলে শেখ শামস দরজা খুলে দেন। পুলিশ তার মায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে শামস জানান, তার মা খুলনায় আছেন। কিন্তু মায়ের শোবার ঘরের দরজা খুলতে না দেওয়ায় পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশ জোর করে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে এবং রক্তাক্ত মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে।

নিহত রুমির ভাগ্নে এস এম মাহমুদ জানান, তার খালার কোনো সন্তান না থাকায় তিনি এবং তার খালু শেখ শামসকে ছোটবেলা থেকেই নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। আট বছর আগে খালু শেখ শাহাজান মারা যান। এরপর থেকে রুমি মণিহার এলাকার ফলপট্টির শেখ শামস মার্কেটের দোতলায় নিজ বাড়িতে পালিত ছেলে শেখ শামসকে নিয়ে থাকতেন।

তবে শেখ শামস ছিলেন মাদকাসক্ত। পরিবারের সদস্যরা বারবার রুমিকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বললেও তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি।

গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় খবর পেয়ে এস এম মাহমুদসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য খালার বাড়িতে ছুটে আসেন। পুলিশের সঙ্গে তারাও ঘরের ভেতর ঢুকে খালার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।
এস এম মাহমুদ আরও জানান, ঠিক কখন তার খালাকে খুন করা হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে ধারণা করা হচ্ছে শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে। কারণ, রাত ২টার দিকে আশেপাশের লোকজন রুমির ঘর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছেন।

কোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. আবুল হাসনাত খান জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শেখ শামস তার মাকে খুন করার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি জানান, শামস বলেছে- টাকা চাওয়া নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তার মা মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পুলিশ রুমির ঘরের ভেতর থেকে বেশ কয়েকটি বাঁশের লাঠি জব্দ করেছে।