যশোরে পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ আ.লীগের এমপি গ্রুপের

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মদ্যপ অবস্থায় যশোর পৌরসভার কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক আলোচিত জাহিদ হোসেন মিলন পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক গ্রুপ পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করেছে। বৃহস্পতিবার তারা সদর উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সকল ইউনিয়ন পরিষদের ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করে। জেলা আওয়ামী লীগের এ গ্রুপটি এমপি গ্রুপ হিসেবে পরিচিত। তবে কী কারণে জাহিদ হোসেন মিলনকে পুলিশ আটক করেছে সে সম্পর্কে কিছুই বলেননি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজকরা।
গত মঙ্গলবার রাতে যশোর পৌরসভার কাউন্সিলর জাহিদ হোসেন মিলনকে মদ্যপ অবস্থায় যশোরের ডিবি পুলিশ আটক করে। এই ঘটনায়  বৃহস্পতিবার যশোর পৌরসভা,সদর উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রথমে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিলেও পুলিশের বাধায় সেখানে করতে না পেরে পৌরসভা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে করেন তারা। তবে সংবাদ সম্মেলনে যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গণি খান পলাশ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জোসনা আরা মিলি অনুপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোকসিমুল বারী অপু পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইনের অপসারণ দাবি করে বলেন, তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিবর্তে তারা যশোরে বিদ্যমান রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে পড়েছেন। একটি পক্ষে অবস্থান নিয়ে অন্যপক্ষের জনপ্রতিনিধিদের জনসম্মুখে সম্মানহানী করছেন। বেশ আগে থেকেই যশোরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছে। চুরি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি বেড়েছে। খুনের মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ। কিন্তু এ সকল ঘটনায় জড়িতদের আটক না করে অন্যদের হয়রানি করা হচ্ছে। গত ৬ নভেম্বর পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার নিয়মতান্ত্রিকভাবে পদোন্নতি পেয়েছেন। কিন্তু তিনি যশোর ছেড়ে যেতে চাননি। তিন মাস আগে তিনি পদোন্নতি পেলেও অন্যত্র যোগদান না করে যশোরে থাকার জন্যে তদবির করছেন। তিনি যশোরের বিশেষ কী পেয়েছেন যে, পদোন্নতি পাওয়ার পরও তিনি যশোর ছেড়ে যেতে চাননি? বর্তমান পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।
তিনি ( অপু) জনপ্রতিনিধিদের সম্মান রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জান ও মালের নিরাপত্তার জন্যে পুলিশ সুপার প্রলায় কুমার জোয়ারদার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইনের অপসারণের জন্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছেন। তাদের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেন। একই দাবিতে আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি মানববন্ধন, ১৭ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ মিছিল, ১৮ ফেব্রুয়ারি দড়াটনায় বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেন। এরপরও যদি তাদের অপসারণ না করা হয় তাহলে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচির দেয়ার ঘোষণা দেন প্যানেল মেয়র মোকসিমুল বারী অপু। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আফজাল হোসেন,সহসভাপতি মেহেদী হাসান মিন্টু, পৌরসভার কাউন্সিলর রাজিবুল আলম, অ্যাড. আসাদুজ্জামান বাবুল, উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু, রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান লাইফ প্রমুখ।