যশোরের কচুয়ায় আ.লীগের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে ছাত্রলীগ কর্মী খুন

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদরের কচুয়ায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বে হামলায় রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২০) নামে ছাত্রলীগের এক কর্মী খুন হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের অনুসারী। রোববার গভীর রাতে সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের নিমতলী টেকেরহাটে প্রতিপক্ষের হামলায় তিনি গুরুতর জখম হয়েছিলেন। ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার জন্যে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান ধাবককে দায়ী করেছেন।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শনিবার কচুয়ায় আওয়ামী লীগের একটি সমাবেশে অংশ নেন সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। এদিকে এ আয়োজন নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের অনুসারীরা। এর জের ধরে রোববার দুপুরে শাহীন চাকলাদারের অনুসারীরা প্রতিপক্ষ গ্রুপের এক যুবককে ধরে মারধর করে আটকে রাখেন। এ খবর পেয়ে ওইদিন রাতে কাজী নাবিল আহমেদের অনুসারী নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ দলবল নিয়ে নিমতলী টেকেরহাটে যান আটকে রাখা যুবককে উদ্ধার করতে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা ওই যুবককে উদ্ধার করে ফিরে আসার সময় প্রতিপক্ষ গ্রুপের হামলার শিকার হন। এ সময় হামলায় রাজু আহমেদের সঙ্গী চাউলিয়া গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে রাকিবসহ কয়েকজন জখম হন। এর মধ্যে গুরুতর রাকিবকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন চিকিৎসক। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে গেলে সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে মারা যান রাকিব।
নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ বলেন, যারা হামলা চালিয়েছিলেন তারা শাহীন চাকলাদারের অনুসারী। এ হামলার জন্যে তিনি কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান ধাবককে দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নিমতলী টেকেরহাট এলাকায় ইমরান নামে তাদের একজন কর্মী কাজী নাবিল আহমেদের অনুষ্ঠানে লোকজনকে ডেকে এনেছিলেন। এ কারণে ওই এলাকার তাদের প্রতিপক্ষ ইমরানের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। রোববার দুপুরে প্রতিপক্ষের লোকজন ইমরানকে পেয়ে মারধর করেন এবং একটি ঘরে আটকে রাখেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে ইমরানের কাছ থেকে এ খবর পেয়ে একটি প্রাইভেটকারে করে কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে তাকে উদ্ধার করতে যান। এ সময় তার সাথে ছিলেন নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই নাজমুল হাচান। নিমতলী টেকেরহাটে যাওয়ার পথে তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোবাইল ফোনে কয়েক দফা অনুরোধ জানান কচুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান ধাবককে। কিন্তু তিনি প্রতিবারই তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং কথা শেষ হওয়ার আগেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর তিনি (রাজু) ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখা ইমরানকে উদ্ধার করে ফিরে আসার সময় পেছন থেকে আচমকা তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। নিমতলী টেকেরহাট এলাকার মুস্তাক, টাক পলাশ ও মুরাদসহ বেশ কয়েকজন লাঠিসোটা ও ধারালো দা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ছাত্রলীগ কর্মী রাকিবসহ অপু ও শাহিনুর জখম হন। জখম গুরুতর হওয়ায় ওই রাতেই রাকিবকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার করেন। পরে তাকে ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে মারা যান রাকিব।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, হামলার সময় নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই নাজমুল হাচান কিছু দূরে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান ধাবকের মোবাইল ফোন নম্বরে কয়েক দফা কল দেয়া হয়। কিন্তু তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোমবার বিকেলে এ বিষয়ে কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। ওই হামলায় রাকিব নামে এক যুবক আহত হয়েছিলেন। তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে মারা গেছেন। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।