যবিপ্রবিতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে চালু হচ্ছে কোডিং পদ্ধতি

0
যবিপ্রবিতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে চালু হচ্ছে কোডিং পদ্ধতি

লোকসমাজ ডেস্ক: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে চালু হতে যাচ্ছে ‘কোডিং পদ্ধতি’। এ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের নাম বা রোল নম্বরের পরিবর্তে বিশেষ কোড ব্যবহার করে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৭তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে এ পদ্ধতি অনুসরণের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর।

সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর ভাষ্য, পরীক্ষক ও শিক্ষার্থীর পূর্বপরিচয় বা ব্যক্তিগত ধারণার কারণে মূল্যায়নে প্রভাব পড়ার যে পরোক্ষ সম্ভাবনা থাকে, কোডিং পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে তা দূর করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত যোগ্যতার প্রতিফলন তার অর্জিত নম্বরে হওয়া উচিত। কোডিং ব্যবস্থায় পরীক্ষক শিক্ষার্থীর পরিচয় না জেনেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে পারবেন। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন পাবে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও বাড়বে।

উপাচার্য আরও জানান, আসন্ন সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাগুলো থেকে পর্যায়ক্রমে এ পদ্ধতি কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক ও বৈষম্যহীন শিক্ষাঙ্গন হিসেবে গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, খাতা মূল্যায়নের গুণগত মান উন্নয়ন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে যেকোনো ধরনের বিতর্ক বা সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখতে কোডিং পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে কোনো শিক্ষার্থী যাতে বৈষম্যের শিকার হয়েছে বলে মনে না করে, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীবান্ধব, আধুনিক ও জবাবদিহিতামূলক পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

নতুন এই পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে যবিপ্রবিতে পরীক্ষা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা করছে।