মোংলায় অসহনীয় লোডশেডিংয়ে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে

0

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা ॥ তীব্র তাপদাহের মধ্যেই যখন-তখন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোংলাবাসী। তারাবি নামাজ ও ইফতারের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন ধর্মপ্রাণ রোজাদাররা। একদিকে অসহ্য গরমে হাঁসফাঁস জীবন, তার ওপর ঘন ঘন বিদ্যুৎ না থাকার পরিস্থিতি চরম আকারে ধারণ করেছে। দিনে চার থেকে পাঁচ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। রুটিন মেনে লোডশেডিংয়ের নিয়ম আর মানা হচ্ছে না।
রমজানের শুরু থেকেই সাধারণ মানুষকে বড় সমস্যায় ফেলে দিচ্ছে যখন তখন লোডশেডিং। ভুক্তভোগীরা জানাচ্ছেন, একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অন্যদিকে অত্যাধিক গরমের কারণে তাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ঘটছে ব্যাঘাত। নবজাতক ও অসুস্থ রোগীরা লোডশেডিংয়ের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন। এছাড়া বিদ্যুতের অভাবে মোংলায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। পৌর শহরের ছাড়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, গরমের মধ্যেও দিনে চার-পাঁচবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ইফতার কিংবা তারাবির নামাজের সময়ও বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের চরম উদাসীনতার ফলে রমজান মাসে শান্তিমত একটু ইবাদাত করতে পারছি না, কষ্ট হচ্ছে। কলেজ মোড়ের বাসিন্দা গৃহিনী লিপি আক্তার বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের ফলে অসহ্য অবস্থা পার করছি। একে তো অনেক গরম, তার ওপর এতবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, যেটা বলার মত না’। রাতে ১ টা দেড়াটাইও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচন্ড গরমে ঘুমাতে না পেরে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
ব্যবসায়ীরা রয়েছেন নাকাল পরিস্থিতিতে। বিদ্যুৎ না থাকায় ক্রেতা সংকটে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। ব্যবসায়ী চরুন চন্দ্র, দীনেশ হালদার ও ফরহাদ হোসেন বলেন, পিক আওয়ারে অতিরিক্ত লোডশেডিং আর বিভ্রাট হওয়ায় ক্রেতারাও আসছেন না। ফলে কমে গেছে বেচাকেনাও।
এ বিষয়ে মোংলা বিদ্যুৎ সরবরাহের আবাসিক প্রকৌশলী এইচ এম ফরহাদ হোসেন বলেন, মোংলায় তুলনামূলক লোডশেডিং অনেক কম। তবে রমজান মাসের শুরুতে একটু সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘মোংলা শহরের মেইন লাইনের তার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এ কারণে তারের ভেতরে তামা পুড়ে বিদ্যুৎ লোড নিতে পারত না। তাই এই তার পরিবর্তনের জন্য গত দুই বছর আগে হাতে নেওয়া প্রকল্পের কাজ চলছে। এলাকাভিত্তিক এই উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ করতে হচ্ছে।