মহেশপুরে কাগজী লেবু চাষ করে স্বাবলম্বী কুতুব গাজী

0

জিয়াউর রহমান জিয়া ,মহেশপুর॥মহেশপুরে (বিজহীন) সিডলেস কাগজী লেবু চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন কুতুব গাজী। উপজেলার ফতেপুর গ্রামের নয়ম গাজীর ছেলে কুতুব গাজীর এ সফলতা দেখে আগ্রহী হয়ে উঠছেন অনেকেই। মহেশপুর থেকে এই লেবু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করা হচ্ছে। বেশি ফলন, রস বেশি আর চাহিদার কারণে এ লেবু চাষে লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই অন্য ফসলের আবাদ ছেড়ে এ লেবু চাষের দিকে ঝুঁকছেন। বীজহীন লেবু চাষ করে মাত্র ৩ বছরেই লাখপতি হয়েছেন ফতেপুরের কুতুব গাজী।
সফল লেবু চাষি কুতুব গাজী জানান, ২০১৯ সালের প্রথম দিকে দুই বিঘা জমি নিয়ে ওই জমিতে ২৫০টি বিজহীন লেবুর কলমকৃত চারা রোপণ করি। চারা কেনা, চারা রোপণ, জমি প্রস্তুত, জমি তৈরি, সেচ ও সারসহ বিবিধ খরচ মিলিয়ে প্রথম বছর তার প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয়। পরের বছরেই ওই সব লেবু গাছে লেবুর ফলন শুরু হয়। এর পরের বছর ওই জমি থেকে বিঘা প্রতি প্রায় এক লাখ টাকার লেবু বিক্রি হয়। কুতুব গাজী বলেন, এ বছর গত বছরের থেকে বিক্রি বেশি হবে। তিনি সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজার টাকার লেবু বিক্রি করেন। ফলে তার মাসিক আয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এ হিসাবমতে তার ৬৬ শতাংশ জমি থেকে বছরে আয় হয় আড়াই লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা। যা অন্য কোনো কৃষি আবাদে সহজলভ্য নয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুতুব গাজী করোনার মধ্যে বিদেশ থেকে দেশে ফেরত এসে এই লেবু চাষে ঝুঁকে পড়েন। সে জানায়, এই চাষ তিনি আরো বৃদ্ধি করবেন। তার দেখাদেখি অনেকেই এই চাষে নেমেছে। উপজেলার যাদবপুর গ্রামের সোহেল রানা ৩ বিঘা, অলিয়ার রহমান ২বিঘা বিজহীন এই লেবুর চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ হাসান আলী জানান,এ উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে লেবুর আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হেক্টর (বিজহীন)সিডলেস, ৫ হেক্টর চায়না ও ৫ হেক্টর অন্যান্য কাগজী লেবু রয়েছে। তিনি জানান, এ লেবু চাষ অত্যন্ত লাভজনক চাষীরা উৎপাদন অনুযায়ী আরো ব্যাপকভাবে লেবু দেশের বাইরে রপ্তানি করা যাবে বলেও তিনি জানান। এ চাষ করে অনায়াসেই বিঘা প্রতি এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। বর্তমানে মহেশপুর উপজেলা থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই লেবু রপ্তানি করা হচ্ছে।