বেনাপোল স্থলবন্দরে পরিচালকসহ ৭৯টি পদ শূন্য : স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত

0
ছবি: সংগৃহীত।

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা ॥ বেনাপোল স্থলবন্দরে জনবল সংকটে প্রতিনিয়ত স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে ৭৯টি পদ শূন্য অবস্থায় রয়েছে। এসব পদে জনবল নিয়োগে কোনা কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট থেকে বেনাপোল বন্দরের পরিচালকের পদটি শূন্য । তবে তার স্থলে নতুন কোনো পরিচালক স্থলাভিষিক্ত হয়নি। ফলে বন্দরের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দরের শীর্ষ পদে দ্রুত নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ না হলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

জনবল সংকটের চিত্র সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে উপ-পরিচালক (ডিডি) পদে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল বন্দরে উপ-পরিচালকের (ডিডি) মোট চারটি পদ রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব পদের বিপরীতে মাত্র একজন উপ-পরিচালক দায়িত্ব পালন করছেন।

বন্দরের বিভিন্ন পদে জনবল ঘাটতির আরেকটি চিত্র পাওয়া যায় কর্মচারীদের হিসাবে। বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গুদাম বা ইয়ার্ড পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন কর্মচারীর জন্য মোট ২১৬টি পদ রয়েছে। কিন্তু এসব পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪১ জন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেনাপোল বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে একদিকে আমদানিকারকদের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ী হবে, অন্যদিকে বন্দরের সক্ষমতাও বাড়বে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই সেই কাক্সিক্ষত গতি পাওয়া যাচ্ছে না।

বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু নতুন জনবল নিয়োগ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তাদের সঠিক পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কারণ একটি স্থানে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কর্মকর্তা থাকলে এবং অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মকর্তা সংকট থাকলে সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি কাক্সিক্ষত সেবা দিতে পারে না।

বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, বন্দরে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় আমদানিকৃত পণ্য সময়মতো লোড ও আনলোড করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এক দিনের কাজ কখনো দুই দিন পর শেষ করতে হচ্ছে। বেনাপোল বন্দরের সঙ্গে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় একটি অংশ সরাসরি যুক্ত। তাই এই বন্দরের কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী ধীরগতি তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু বন্দর এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দেশের বিভিন্ন শিল্প ও বাজারে প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর (বিএলপিএ)-এর চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান (অতিরিক্ত সচিব) জানান, বর্তমান বেনাপোল স্থলবন্দরে জনবল সংকট রয়েছে। এই সংকট নিরসনে যাতে দ্রুত জনবল নিয়োগ করা হয়, সেই চেষ্টা অব্যাহত আছে।