বাগেরহাটে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে

0

স্টাফ রিপোর্টার,কেশবপুর (যশোর)॥ বুধবার (২৪ মে) দুপুরে কেশবপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের মাদারডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হালিম গাজী জানান, তার একমাত্র ছেলে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী মনিরুজ্জামান মনিকে(১৫) বাগেরহাটে ফুসলিয়ে নিয়ে পরিকল্পিতভাপবে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছে ঘাতকরা। বাগেরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করতে চাইলে পুলিশ অপমৃত্যু মামলা নিয়েছে। শোকাহত পিতা অবিলম্বে ঘাতকদের আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, তার একমাত্র ছেলে মনিরুজ্জামান মনি পাবনা থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তার ফেসবুকে বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার বর্শিবাওয়া এলাকার মিশকাতুল মনির মহুয়ার পরিচয় হয়। তার ডাকে (২২ এপ্রিল) ষাটগম্বুজ মসজিদ এরাকায় দেখা হলে পরিকল্পতিভাবে মনিকে আটক করে ১০০ টাকা স্ট্যাম্পে সই নিয়ে নামমাত্র বিয়ের নাটক সাজানো হয়।  বাগেরহাটে ভাড়া বাসার ব্যবস্থা করা হয় । ছেলে মনিরুজ্জামান মনি পাবনা চলে এসে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৬টি বিষয়ে পরীক্ষা শেষ হলে তাকে ফের বাগেরহাটে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। গত ১৮ মে বাগেরহাট সদর থানার এসআই রবিউল ইসলাম মনির বোন মনিরা খাতুন শান্তার মোবাইল ফোনে জানান মনি আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে গিয়ে মনির নিথর দেহ সাদা কাপড়ে মোড়া দেখা যায়। তখন দেখা যায়, তার গলা জুড়ে কালো দাগ,দুকনুই জখম, মুখ দিয়ে রক্ত মিশ্রিত লালা বের হচ্ছে। নাকমুখ ফোলা। আমরা পুলিশকে বারংবার তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানালেও পুলিশ কর্ণপাত না করে লাশ বুঝিয়ে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে মদের বোতল ও ব্যবহার করা কনডম দেখ যায় বাসার ভেতর। এতে বোঝা যায় এটা নিশ্চিত হত্যাকাণ্ড। কিন্তু পুলিশ শুধুমাত্র সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে । আমাদের কোন কথা পর্যন্ত শোনেনি। থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে, ভিসেরা রিপোর্ট পেলে দেখা যাবে বলে আমাদের বিদায় দেয়।
শোকাহত পিতা আব্দুল হালিম গাজী জানান, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু নিহত মনির কথিত স্ত্রী মহুয়া,তার মা নিপা বেগম, পিতা মনিরুজ্জামান, খালা নার্গিস সবুলতানা সিমু ও নানি রুবিনা বেগম তাকে হত্যা করে অপমৃত্যু বলে চালিয়ে দিচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহত মনির বোন মনিরা খাতুন শান্তা, চাচা আব্দুল হামিদ গাজী প্রমুখ।