বর্ষা মওসুমে পাবলিক পরীক্ষা বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত

0
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির মুখে আগামী বছর থেকে বর্ষাকালে আর কোনো পাবলিক পরীক্ষা না নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।। ছবি: এআই/লোকসমাজ
টানা বৃষ্টি আর তীব্র জলাবদ্ধতার মধ্যে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সৃষ্ট ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার মুখে নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা প্রশাসন। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী বছর থেকে ভরা বর্ষা মওসুমে আর কোনো পাবলিক পরীক্ষা না নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ধাপে ধাপে পাবলিক পরীক্ষাগুলোকে স্বাভাবিক শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সময়ে ফিরিয়ে আনতে পরীক্ষার সামগ্রিক ক্যালেন্ডার পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানান, বর্ষা মওসুমে পরীক্ষা নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রশাসন—সব পক্ষই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে পরীক্ষার নতুন সময়সূচি প্রস্তুত করা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছর জানুয়ারি মাসে এসএসসি পরীক্ষা এবং এইচএসসি পরীক্ষা মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

গতকাল জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও এই পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাবর্ষ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় আগামী শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুনে আয়োজনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সময়ের অপচয় কমাবে।

করোনা মহামারির ধাক্কায় ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করে অটো পাস দেওয়ার পর থেকেই দেশের পাবলিক পরীক্ষার সূচি স্বাভাবিক ধারার বাইরে চলে যায়। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পরীক্ষা যথাক্রমে ডিসেম্বর, নভেম্বর ও আগস্টে অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নানা বাস্তবতায় জুনের শেষে পরীক্ষা নিতে হয়। চলতি বছর পরীক্ষা আরও এগিয়ে জুনের শুরুতে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবির মুখে তা পিছিয়ে ২ জুলাই শুরু করা হয়, যার ফলে ভরা বর্ষায় পরীক্ষা আয়োজনের এক অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা তৈরি হয়।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে পরীক্ষার সময় নির্ধারণে আবহাওয়া ও দুর্যোগের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, কোমরপানি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক জেসমিন তাসলিমা বানু জানান, সারাদেশে একই প্রশ্নপত্রে প্রায় ১৩ লাখ পরীক্ষার্থীর এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচি পরিবর্তন করা অত্যন্ত জটিল এবং যেকোনো প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।