পরীক্ষা নয়, এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি

0
একাদশে ২৬ লাখের বেশি আসনের বিপরীতে পরীক্ষার্থী সাড়ে ১৮ লাখ, খালি থাকবে বিপুল আসন।। ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন শিক্ষাবর্ষেও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আগের নিয়ম বহাল রেখে কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে এই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পরীক্ষা না নিয়ে ফলের ভিত্তিতেই ভর্তি নিশ্চিত করার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

সম্প্রতি সরকার পরিবর্তনের পর একাদশ শ্রেণিতেও ভর্তি পরীক্ষা চালু হতে পারে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল। বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর একাদশের ভর্তিপদ্ধতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। তবে সব আলোচনা শেষে আগের নিয়মেই ভর্তি কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দু-এক দিন আগেই এ বছরের ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হবে।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে আগামী ১০ আগস্ট। প্রথমে ২০ জুলাই ফলাফল প্রকাশের কথা থাকলেও শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

প্রথমে ফল প্রকাশের ১০ দিন পর অর্থাৎ ৩০ জুলাই থেকে ভর্তির আবেদন শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও, মূল ফল পিছিয়ে যাওয়ায় এখন ছুটিসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে নতুন সময়সূচি ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি দিয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা অনলাইনে সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করতে পারবে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর ফলাফল, কোটা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও পছন্দক্রম বিবেচনায় একটি প্রতিষ্ঠানে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই পদ্ধতিতে ভর্তি চলে, যা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় পরিচালনা করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ভর্তি প্রক্রিয়া পৃথকভাবে সম্পন্ন হয়।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে, ভর্তি পরীক্ষা চালু করলে নানা জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে এবং অল্প সময়ে নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা কঠিন বলেই ফলের ভিত্তিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। তবে বিভিন্ন কোটা নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা রয়েছে। কোটা-সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ২৬ লাখের বেশি। এর বিপরীতে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।

পরীক্ষার প্রথম দিনই ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২৫ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও কিছু পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। পরীক্ষার্থীর তুলনায় আসন সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় এবারও একাদশ শ্রেণিতে বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকবে। তবে চূড়ান্ত খালি আসনের সংখ্যা নির্ভর করবে এসএসসির পাসের হারের ওপর।