ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে ভোগান্তি ছয় লেন প্রকল্প

0

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ॥ ঝিনাইদহ-যশোর ছয় লেন প্রকল্প এখন দক্ষিণবঙ্গের মানুষের গলার কাঁটা হিসেবে দেখা দিয়েছে। চার বছরেও জেলা প্রশাসন জমি অধিগ্রহণ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জমি বুঝে পায়নি। এতে ওই সড়কে চলাচল করতে ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্রিজ, ওভারব্রিজ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ধীর গতি থাকায় ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর অঞ্চলের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। ফলে ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেন উন্নীতকরণ কাজ যথা সময়ে শেষ হবে কি-না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার ছয়লেন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটির সর্বশেষ অবস্থা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ঝিনাইদহ বাইপাস সড়কের আলহেরা স্কুল মোড়ে ওভারব্রিজের কাজ চলছে ধীর গতিতে। কাজে কোন গতি নেই। পাইলিং, লোডটেস্ট ও কিছু কালভার্ট তৈরির পর তা পড়ে আছে। সব মিলিয়ে পূর্তকাজে অগ্রগতির হার মাত্র ৫% শতাংশ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর (উইকেয়ার) ফেজ-১ ঝিনাইদহ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর একনেক সভায় ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর (উইকেয়ার) ফেজ-১-এর আওতায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে সাড়ে ৪৭ কিলোমিটার ছয়লেন রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্পটি (এন-৭) অনুমোদন দেওয়া হয়। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। আগামী ২০২৬ সালের জুন মাসে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের যে হালহকিকত ততে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে কি- না তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিষয়খালী, চুটলিয়া ও ধোপাঘাটা ব্রিজ এলাকায় পাইলিংয়ের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। তৈরি করা হচ্ছে ওভারব্রিজের জন্যে গার্ডার। চুটলিয়া মোড়ে লোডটেস্ট শেষ করা হয়েছে। তবে সড়ক তৈরির জন্যে জমি এখন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ঝিনাইদহ ও যশোর জেলায় মোট ৩০৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের বাইপাস থেকে যশোরের চাঁচড়া চেকপোস্ট পর্যন্ত রাস্তার দৈর্ঘ্য সাড়ে ৪৭ কিলোমিটার। সড়কে থাকবে একটি ফ্লাইওভার, চারটি সেতু, ৫৫টি কালভার্ট, পাঁচটি ভেহিকুলার ওভারপাস, আটটি পেডিস্ট্রিয়ান ওভারপাস ও একটি রেলওয়ে ওভারপাস। এছাড়াও প্রকল্প করিডোরকে স্মার্ট হাইওয়েতে রূপান্তর করার জন্যে ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম ও অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল ডিজাইন করার কথা রয়েছে।

উইকেয়ার ফেজ-১’র ঝিনাইদহ অংশের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী মিলন আলী বলেন, জমি অধিগ্রহণ এখন সবচে বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই কাজটি করতে সরকারের ছয়টি বিভাগ কাজ করছে। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জমি অধিগ্রহণ এখন চূড়ান্ত ধাপে। দ্রুত টাকা পরিশোধের উদ্যোগ গ্রহণ করা হেেচ্ছ।

তিনি বলেন, প্রকল্প কর্মকর্তার অফিস থেকে ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে টাকা পরিশোধ করা হলেও বৈদ্যুতিক পোল এখনো সরাতে পারেনি। ফলে কাজের অগ্রগতি থেমে যাচ্ছে।

ঝিনাইদহ ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার (এলএও) প্রধান সহকারী আলাউদ্দীন জানান, সরকারের সব বিভাগ তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি করেছিল। গণপূর্ত বিভাগ সড়কের দুপাশের স্থাপনার মূল্য নির্ধারণের হিসেব জমা দিয়েছে। ফলে ভূমি অধিগ্রহণ কাজ প্রায় ৯০% ভাগ অগ্রগতি হয়েছে।

বিষয়খালী বাজারের চাল ব্যবসায়ী খোকন হোসেন জানান, ছয়লেন রাস্তার কারণে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়খালী, তেঁতুলতলা, চুটলিয়া, দোকানঘর ও খয়েরতলা নামক স্থান দিয়ে যশোরগামী যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, জমি অধিগ্রহণ শেষ পর্যায়ে। অনেক সরকারি সংস্থার সাথে জড়িত থাকার কারণে প্রতিবেদন পেতে দেরি হয়েছে। তিনি জানান, দ্রুতই ঝিনাইদহ ও কালীগঞ্জ উপজেলায় ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ প্রদান করা হবে।

তিনি আরো জানান, ছয়লেন প্রকল্প চালু হলে ঝিনাইদহসহ মোংলা বন্দরের সাথে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হবে।