জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনগণের সরকারের জন্য অপেক্ষমান রয়েছি : অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বিগত ১৭ বছর আমাদের যে সকল সহযোদ্ধা শেখ হাসিনার রক্তচক্ষু এবং পুলিশের তপ্ত বুলেটকে উপেক্ষা করে রাজপথ আঁকড়ে ধরেছিলেন, তারা কেউ ৫ আগস্টের পর জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদেরকে উপস্থাপন করেননি। দলের কেউ আওয়ামী লীগের গোন্ডা বাহিনীর মত চরিত্র ধারণ করলে তার গন্ডি হবে চার দেয়াল (কারাগার), কোনভাবে উন্মুক্ত যশোর নয়।
দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত দোয়া মাহফিলপূর্ব আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। রোববার বিকেলে দলীয় কার্র্যালয়ের সামনে দোয়া মাহফিলপূর্ব আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করবার লক্ষ্যে ১৭ বছর পূর্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, ৫ আগস্টের পর আমরা ভেবেছি সেই আন্দোলন চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছেছে। অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলতে চাই, ৫ আগস্টের আগেও বিএনপি বিরোধী দলে ছিল, এখনো বিরোধী দলে আছে। ৫ আগস্টের আগেও আমরা একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য লড়াই করেছি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনগণের সরকারের জন্য প্রতিনিয়ত অপেক্ষা করেছি। ৫ আগস্টের পরও একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং জনগণের কাঙ্খিত সরকারের জন্য লড়াই করছি, তার জন্য অপেক্ষমান রয়েছি। আমাদের অনেকের (দলীয় নেতাকর্মী) ৫ আগস্টের পর চাল চলন কথা বার্তায় পরিবর্তন এসেছে, যেটি আসবার কোনো সুযোগ নেই।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিএনপি অতীতেও জনগণের সমর্থনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে। আমি বিশ্বাস করি আবারও বাংলাদেশের সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ফিরে আসলে জনগণ ধানের শীষ প্রতীকে তাদের আস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। সেই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে বলতে চাই, বিগত বছরগুলোতে আওয়ামী লীগ যেভাবে সন্ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করেছে আমরা কাউকে আর সেই অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর সুযোগ দেব না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে গেছে, কিন্তু তাদের দলীয় সন্ত্রাসীরা আজও অবস্থান করছে। বিগত ১৭ বছর যশোরসহ সমগ্র বাংলাদেশে যারা জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে অবস্থান করেছে, তারেক রহমানের কর্মী হিসেবে তাদের ক্ষমা করলেও জনগণ যদি তাদের অপকর্মের প্রতিশোধ নেয়, তাহলে আমরা তাদের (আওয়ামী সন্ত্রাসীদের) রক্ষা করতে যাব না। কারণ আমাদের দায়বদ্ধতা জনগণের প্রতি, সন্ত্রাসীদের পক্ষে নয়। আমরা শান্তিকামী জনতার পক্ষে। সেই কারণে ৫ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে এই যশোরে আমাদের সহকর্মীরা পাড়া মহল্লায় সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নির্ঘুম রাত পার করছে।
তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক ধাপ অতিক্রমের মুহূর্তে দলের চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে মানুষের প্রতিটি সংকট, সম্ভাবনা, সংগ্রামে তাদের পাশে ছিল। একটি নতুন সূর্যোদয়, একটি নতুন বাংলাদেশের জন্য আমরা অপেক্ষমান। যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান দেখছেন যে স্বপ্নের বীজ তিনি ১৮ কোটি জনগণের মাঝে বপন করেছেন, সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন এবং সার্থক করতে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার বক্তব্যের শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্র্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. আফসার আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠা সভাপতি আজিজুর রব খান, চৌধুরী শহিদুল ইসলাম নয়ন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল হুদা, সহ-সভাপতি রফিকুর রহমান তোতন, ইকরামুল হক ইকু চৌধুরী, প্রফেসর গোলাম মোস্তফা, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, নূর-উন-নবী, আবু নঈম, নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রশিদ, মহিলা দল নেত্রী সালেহা বেগম কোকলা, চমন আরা বেগমসহ দলের প্রয়াত সকল নেতাকর্মীকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ ও তাদের বিদেহী আত্মা মাগফিরাত কামনা করেন।
পরে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। ্এছাড়া মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত ও গুরুতর অসুস্থ দলের চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ূ কামনা করা হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় ভয়াবহ বন্যাদুর্গত মানুষের জন্যও দোয়া করা হয়।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম-আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদস্য গোলাম রেজা দুলু, মিজানুর রহমান খান, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, আব্দুস সালাম আজাদ, মারুফুল ইসলাম, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল, সিরাজুল ইসলাম, দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাসুম, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, আশরাফুজ্জামান মিঠু প্রমুখ।