চৌগাছার ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে তিন পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে এবার সংবাদ সম্মেলন করেছে তিনটি পরিবার। সোমবার (২৪ জুলাই)  দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা ও পুলিশ দিয়ে হয়রানিসহ নানা অভিযোগ আনা হয়। এরআগে গত সপ্তাহে চেয়ারম্যান আবুল কাশেম এলাকার একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে নানা অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চৌগাছা উপজেলার দিঘলসিংহা গ্রামের ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, আবুল কাশেম ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকায় ঘের, বাওড় বিল দখলসহ নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়ে আসছেন। চৌগাছার বেড়গোবিন্দপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ইজারা ছিল গোবিন্দপুর বাওড়টি। অথচ লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভুয়া মৎস্যজীবী সমিতি গঠন করে ওই বাওড় ইজারা নেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী লস্করপুর বিলের ইজারা নিতেও তিনি ভুয়া কমিটি গঠন করে টেন্ডার দাখিল করেন। এতেকরে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে তিনি দাবি করেন। এজন্যে তিনিসহ মৎস্যজীবীরা জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেন। এরপর থেকে তিনি মিথ্যে অভিযোগে মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছেন। এমনকি হত্যার জন্যে ষড়যন্ত্র করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে একের পর এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করছেন। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি পরিকল্পিতভাবে নিজ পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় এলাকার আমাকে ছাড়াও শামীম রেজা ও ভুট্টো মিয়াকে আসামি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত চারদিন ধরে শামীম রেজাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভুট্টোকে পুলিশের মাধ্যমে তুলে নিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এ অবস্থায় তিনটি পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়েছে বলে ইমরান হোসেন জানান। ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের অত্যাচার নির্যাতন থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে শামীম রেজার স্ত্রী হালিমা খাতুন, ভুট্ট মিয়া ও তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসব অভিযোগের বিষয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চৌগাছা উপজেলার দিঘলসিংহা গ্রামের আওরঙ্গজেব চুন্নুর ছেলে গালকাটা শামীম এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী। তার নিজের নামে এলাকায় একটি বাহিনী রয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত এলাকার মানুষের মাছের ঘের দখল ও চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী করে অতিষ্ট করে তুলেছে। এসব অন্যায়-অবিচারের বিষয়ে আমাকে এলাকার লোকজন জানালে আমি তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় তারা আমাকে নানাভাবে হয়রানি করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জুন সন্ত্রাসীরা উপজেলার নগরবর্ণি এলাকার আমার মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে কোটি টাকার মাছ মেরে ফেলে। এ বিষয়ে আমি থানায় মামলা করার পর তারা এখন উল্টো আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনছেন।