ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ’র প্রভাবে চৌগাছা বাজার জনশুন্য ব্যবসায়ীরা হতাশ

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু চৌগাছা (যশোর) ॥ ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ’র প্রভাবে বঙ্গপসাগরে সৃষ্ট নিন্মচাপে গত চার দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখতে পারেনি চৌগাছাবাসি। নিন্মচাপের কারনে উপজেলা জুড়ে হচ্ছে বৃষ্টিপাত, সেই সাথে হিমেল হাওয়া। অতি প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঘর থেকে বের হতে দেখা যায়নি। সোমবার সাপ্তাহিক হাটের দিনে উপজেলা সদর ছিল জনশুন্য। আফিস আদালতেও মানুষের উপস্থিতি ছিল কম। বৈরী আবহাওয়ার কারনে নিদারুন কষ্টে দিন পার করছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। গত শুক্রবার থেকে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ’র প্রভাব পড়তে শুরু করে ভারতের গা ঘেষে গড়ে উঠা যশোরের চৌগাছা উপজেলাতে। গত চারদিন ধরে চৌগাছার আকাশ মেঘে ঢাকা, সূর্যের আলো কোথাও পড়েনি। এই চার দিনে অবিরাম বৃষ্টিতে নাকাল সব শ্রেনী পেশার মানুষ। বিশেষ করে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ গুলো পরিবার পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন পার করছেন।


সোমবার ছিল চৌগাছার সাপ্তাহিক হাটের দিন। কাক ডাকা ভোর হতে গভীর রাত পর্যন্ত চৌগাছা বাজার থাকে মানুষে ভরা, কিন্তু ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে সোমবার। প্রধান কাঁচা বাজারে আড়ৎদার, ব্যাপারী, বিক্রেতা আর সাধারণ ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মত। মাছ, সবজি, কলা, মুরগী বাজারসহ প্রতিটি বাজারে মানুষে থাকে একাকার। চৌগাছার ৬টি রুটে যাত্রীবাহি বাস সহ ছোট খাটো যানবাহনে চাপে সাধারন মানুষের চলাচল করা হয়ে যায় কষ্টের, সেই সড়ক গুলোও ছিল শুন্য। বৃষ্টির প্রভাবে মানুষ অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হয়নি। জীবন জীবিকার সন্ধানে যারা ঘরের বাইরে এসেছেন তারা কোন কাজ না পেয়ে এক বুক হতাশা নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। বাজারের স্বর্ণপট্টির প্রসাধনী ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম, গামেন্টর্স ব্যবসায়ী হোসেন আলী জানান, বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে দোকান খুলে বসি, কিন্তু দুপুর পর্যন্ত কোন ক্রেতা না পাওয়ায় দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যেতে হয়েছে। মাছ ব্যবসায়ী সাধন কুমার বলেন, প্রতি দিন মাছ বিক্রি করে যা রোজগার হয় তাতে চলে সংসার। সোমবার কোন ক্রেতা ছিলনা বাজারে তাই বিক্রিও হয়নি। মাংস বিক্রেতা আলা উদ্দিন বলেন, একটি গরু জবাই করে ৪/৫ জন বিক্রেতা বিক্রি শুরু করি। কিন্তু সারা দিনে বিক্রি শেষ হওয়া নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছি। প্রধান কাঁচা বাজারের আড়ৎদার মজনুর রহমান, আবু সালাম, কবির উদ্দিন বলেন, খুব সকাল থেকেই সবজি বিক্রেতা ও ক্রেতার উপস্থিতিতে সরব থাকে গোটা এলাকা। অথচ বৃষ্টির কারনে কোন ক্রেতা বিক্রেতা নেই, অনেকে অলস বসে থেকে বাড়িতে ফিরেছে। চৌগাছার বিভিন্ন সড়কে ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারী ইসরাইল হোসেন বলেন, গত দুই দিনে কোন রোজগার নেই। তাই বৃষ্টি হলেও বাড়িতে বসে থাকতে পারেনি। সড়কে এসে বিভিন্ন জায়গায় ছুটে চলেছি কিন্তু যাত্রী না থাকায় হতাশা নিয়ে খালি হাতে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছি। এদিকে প্রচন্ড বৃষ্টির কারনে চৌগাছা-যশোর সড়কে ছাড়া অন্য সব সড়ক গুলোতে যাত্রীবাহি বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। বৈরী আবহাওয়াতে চরম অসহায় খেটে খাওয়া মানুষেরা। প্রধান কাঁচা বাজারে কুলির কাজ করে সংসার চালান রহমত আলী। সোমবার বাজারে কোন ক্রেতা বিক্রেতা না আসলেও রহমত আলী খুব সকালে বৃষ্টিতে ভিজে হাজির বাজারে। দিন শেষে কোন রোজগার হয়নি তাই কষ্টকে সাথে নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন তিনি। রাজমিস্ত্রির সহকারী আল আমিন, আনছার আলী বলেন, বৃষ্টির এই কয়দিনে কোন রোজগার হয়নি, তাই পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। সকালে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে বাজারে আসি কিন্তু কোন কাজ না পেয়ে বাড়িতে চলে যেতে হচ্ছে। পৌর এলাকার পাঁচনামনা গ্রামের বয়োবৃদ্ধ কলাচাঁদ বলেন, অসময়ে এমন বৃষ্টি কখনও দেখেনি। ছোট বেলায় দেখেছি আষাঢ়-শ্রবান মাসে বৃষ্টি হতে। এখন আষাঢ় মাসের পরিবর্তে শীতকালে হচ্ছে সেই পানি। চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এসএম শফিউদ্দিন বলেন, একটানা বৃষ্টির কারনে মানুষ অনেটাই ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হয়নি। যার কারনে বাজারে মানুষের উপস্থিতি নেই , এতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছে।